Advertisement
E-Paper

দমদম স্টেশনের বেঞ্চে পড়ে ‘নিস্পন্দ’ প্রৌঢ়! রেলপুলিশ, কর্মীরা পৌঁছোলেও কেউই নিয়ে গেলেন না হাসপাতালে

জিআরপির এক কনস্টেবল জানান, রেলের আধিকারিকেরাও প্ল্যাটফর্মে এসেছিলেন। কিন্তু কিছু ক্ষণ আগে মেন লাইনের একটা ট্রেনে ঝুলে ঝুলে যেতে গিয়ে স্টেশনের সামনের দিকে একজন পড়ে গিয়ে জখম হন। ফলে আধিকারিকেরা সে দিকে ছুটেছেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৩৩
দমদম স্টেশনে পড়ে সেই ব্যক্তি।

দমদম স্টেশনে পড়ে সেই ব্যক্তি। —নিজস্ব চিত্র ।

দমদম স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের বেঞ্চে পড়ে রয়েছেন এক ব্যক্তি। যাত্রীদের একাংশের দাবি, ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরে প্রাণের স্পন্দন নেই। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় রেলপুলিশ এবং কর্মীরা। তবে কোনও চিকিৎসক সেখানে গিয়ে তাঁকে পরীক্ষা করেননি। ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে কেউ উদ্যোগী হননি বলে অভিযোগ। সোমবার রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত দমদম স্টেশনেই নিস্পন্দ ভাবে পড়েছিলেন ওই ব্যক্তি। জিআরপি দাবি করেছে, ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানোর কাজ আরপিএফের। রেলের এক কর্মী জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি মৃত বলেই মনে হচ্ছে। জীবিত হলে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হত। এই টানাপড়েনেই দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে প্ল্যাটফর্মেই পড়ে রইলেন ওই ব্যক্তি। যাত্রীদের একাংশের প্রশ্ন, জিআরপি বা আরপিএফ এগিয়ে এলে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা যখন নেই, তখন তারা নিষ্ক্রিয় রইল কেন?

সূত্রের খবর, সোমবার রাত ১০টা নাগাদ দমদম স্টেশনে ২ এবং ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের মাঝের বেঞ্চে এক ব‍্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর গায়ে রয়েছে জ্যাকেট ও টিশার্ট। কোমর থেকে জড়ানো রয়েছে গামছা। উপস্থিত যাত্রীদের দাবি, অনেক ডাকাডাকির পরেও ওই ব্যক্তির সাড়া মেলেনি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় রেলপুলিশ এবং কর্মীরা। ওই ব্যক্তিকে সরকারি ভাবে রেলের তরফে মৃত ঘোষণা করা হয়নি রাত পর্যন্ত। অথচ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় কেউ উদ্যোগী হননি বলে অভিযোগ। রেলপুলিশ, কর্মীরা খবর পেয়ে এসেছেন, কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার কোনও ব্যবস্থা করেননি বলে অভিযোগ।

জিআরপির এক কনস্টেবল জানান, রেলের আধিকারিকেরাও প্ল্যাটফর্মে এসেছিলেন। কিন্তু কিছু ক্ষণ আগে মেন লাইনের একটা ট্রেনে ঝুলে ঝুলে যেতে গিয়ে স্টেশনের সামনের দিকে একজন পড়ে গিয়ে জখম হন। ফলে আধিকারিকেরা সে দিকে ছুটেছেন। চিকিৎসককে খবর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এত রাতে চিকিৎসক পাওয়া কঠিন হচ্ছে। যত ক্ষণ না চিকিৎসক এসে পরীক্ষা করে মতামত দিচ্ছেন, তত ক্ষণ কিছু করার নেই। এক রেলকর্মীকে প্রশ্ন করা হয়, ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না কেন, যখন তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়নি? তিনি জানান, স্টেশনে পড়ে থাকা ব্যক্তিকে মৃত বলেই মনে করা হচ্ছে। যদি অসুস্থ হতেন তা হলে অবশ্যই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হত। জিআরপির এক কনস্টেবল জানিয়েছেন, স্টেশনে অসুস্থ হলে বা কারও মৃত্যু হলে সেই নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব আরপিএফের। এ ভাবেই রেল পুলিশ-আরপিএফ এবং রেলকর্মীদের টানাপড়েনে সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত স্টেশনেই পড়ে রইলেন ওই ব্যক্তি। প্রশ্ন উঠল মানবিকতা নিয়ে।

dumdum
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy