ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।
ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার বিরুদ্ধে হামলায় ‘ক্লাস্টার বোমা’-র ব্যবহার করা হচ্ছে— ইরানের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ তুলল ইজ়রায়েলি বাহিনী। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, পশ্চিম এশিয়ার এই সামরিক সংঘাতে এই প্রথম ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করা হল। যদিও ইরান সেই দাবিকে খারিজ করেছে। ক্লাস্টার বোমা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। এই বোমা যাতে ব্যবহার না হয়, তা নিয়ে সরবও হয়েছিল আন্তর্জাতিক মহল। কিন্তু এ বার ইরানের বিরুদ্ধে সেই বোমা ব্যবহারের অভিযোগ তুলল ইজ়রায়েল। ইজ়রায়েলের দাবি, ইরানকে এই অস্ত্র দিয়ে মদত জোগাচ্ছে চিন এবং রাশিয়া। যদিও চিন বা রাশিয়ার তরফে এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাতের আবহে মিনিটম্যান ৩ (এলএমজি ৩০ মিনিটম্যান) ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল আমেরিকা। যাকে অনেক সময় ‘ডুমসডে’ ক্ষেপণাস্ত্রও বলা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্র এমন পরমাণু বোমা (ওয়ারহেড) বহন করতে পারে, যার শক্তি হিরোশিমায় ফেলা পরমাণু বোমার চেয়েও প্রায় ২০ গুণ বেশি। ইরানের সঙ্গে যখন আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের এই সামরিক সংঘাত তুঙ্গে, সেই আবহে পরমাণু বহনক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করে কি ইরান-সহ বিশ্বকে কোনও বার্তা দিতে চাইলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প? তা নিয়েই আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
উত্তর উপসাগরীয় এলাকায় একটি মার্কিন পণ্যবাহী জাহাজ (ট্যাঙ্কার)-এ হামলা চালিয়েছে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড। রয়টার্স সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। ইরানের দাবি, হামলার পরে আগুন ধরে গিয়েছে মার্কিন পণ্যবাহী জাহাজটিতে। বুধবারই ভারত মহাসাগরের বুকে ইরানের এক রণতরীতে হামলা চালায় আমেরিকার ডুবোজাহাজ। টর্পেডো ছুড়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয় ইরানের ওই যুদ্ধজাহাজকে। ওই হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রত্যাঘাত করল ইরান।
ইউক্রেন এবং পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মধ্যেই শান্তির বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজ়ান্ডার স্টাবকে পাশে নিয়ে মোদী বলেন, “আমরা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি যে, কেবল সামরিক সংঘাতের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয় না।” এই সূত্রেই ইউক্রেন এবং পশ্চিম এশিয়ার প্রসঙ্গ টানেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে মোদী বলেন, “ইউক্রেন হোক বা পশ্চিম এশিয়া, আমরা সর্বদা চাইব যে, সংঘাতের অবসান হোক। এ ক্ষেত্রে যে কোনও শান্তিকামী পদক্ষেপে আমাদের সমর্থন থাকবে।” দ্রুত যুদ্ধের অবসান হবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার দিকে এগোচ্ছে ইরানের আরও এক যুদ্ধজাহাজ। ফের মার্কিন হামলার আশঙ্কায় শ্রীলঙ্কার সাহায্যও চেয়েছে ওই জাহাজটি। দ্রুত শ্রীলঙ্কার বন্দরে ঢুকতে দেওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানায়নি শ্রীলঙ্কার সরকার।
ইরানের যুদ্ধজাহাজে মার্কিন হামলা নিয়ে মুখ খুলল তেহরান। তাঁদের অভিযোগ, সতর্ক না-করেই রণতরীতে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। এই ঘটনার জন্য আমেরিকাকে ভয়ঙ্কর ভাবে আফসোস করতে হবে বলেও দাবি করেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি।
প্রসঙ্গত, বুধবার ভোরে ভারত মহাসাগরের বুকে শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে ইরানের যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেয় আমেরিকা। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানায়, সম্প্রতি ভারতের আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক নৌমহড়ায় অংশগ্রহণ করেছিল ইরানি যুদ্ধজাহাজটি। সম্প্রতি ভারতের আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক নৌমহড়ায় অংশগ্রহণ করেছিল ইরানি যুদ্ধজাহাজটি। শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ দিকের বন্দর শহর গল থেকে মাত্র ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ইরানি রণতরীটিকে ডুবিয়েছে আমেরিকা। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৮৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ৩২ জনকে।
পরে পেন্টাগন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ জানান, আমেরিকার ডুবোজাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজকে ডুবিয়ে দিয়েছে। তাঁর দাবি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এই প্রথম বার টর্পেডো দিয়ে হামলা করে শত্রুপক্ষের কোনও জাহাজে ডুবিয়েছে আমেরিকা।
ইরানের রাজধানী তেহরানে রাতভর হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। ‘আল জাজ়িরা’-র প্রতিবেদন অনুসারে, রাত থেকে ঘন ঘন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে তেহরানে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্ত কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আকাশপথে হামলা চালানো হয়েছে সাক্কেজ, বুকান, সাননদাজের মতো ইরানের কুর্দ প্রভাবিত শহরগুলিতেও। শনিবার থেকে এখনও পর্যন্ত ইরানের ১৫০ শহরে হামলা চালানো হয়েছে।
ইজ়রায়েলের জেরুসালেমে রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান। ইজ়রায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘টাইম্স অফ ইজ়রায়েল’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ঘন ঘন সাইরেনের শব্দ শোনা যাচ্ছে জেরুসালেমে। বিস্ফোরণের শব্দও পাওয়া গিয়েছে। ইজ়রায়েলি সেনা জানিয়েছে, তারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম)-এর মাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে প্রতিহত করছে।
সেনেটের ফলে স্বস্তিতে ট্রাম্প। তার পরেই ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকা এখন পশ্চিম এশিয়ায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। দেশের সেনাবাহিনীর প্রশংসা করে ট্রাম্প তাদের ১০-এ ১৫ দিয়েছেন। বুধবার হোয়াইট হাউসে তিনি বলেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে আমরা ভাল কাজ করছি। কেউ কেউ বলছেন ১০-এ আপনি কত দেবেন? আমি বলছি ওই ১৫-র মতো।”
মার্কিন আইনসভার উচ্চকক্ষ সেনেট ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ‘ছাড়পত্র’ দিল ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। মার্কিন কংগ্রেসকে এড়িয়ে একক সিদ্ধান্তে ট্রাম্প সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কি না, এই প্রশ্ন তুলেছিলেন বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির অনেকেই। ইরানে ট্রাম্পের সামরিক নীতির বিরুদ্ধে প্রস্তাব পেশ করা হয়েছিল। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, ভোরে প্রস্তাবটি নিয়ে সেনেটে ভোটাভুটি হয়। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ৪৭টি। বিপক্ষে ৫৩টি। অর্থাৎ, ট্রাম্পের সামরিক নীতি বহাল রাখার পক্ষেই রায় দেয় মার্কিন সেনেট। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, কংগ্রেসকে এড়িয়ে প্রতি দিন ভিন্ন ভিন্ন যুক্তি দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। সেনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রায় সকলেই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির সদস্যেরা বিপক্ষে ভোট দেন। তবে বেশ কয়েক জন রিপাবলিকান সদস্য জানিয়েছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তাঁরা বিকল্প কিছু ভাববেন।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy