Advertisement
E-Paper

গ্রিন কার্ড পেতে চাইলে আগে আমেরিকা ছাড়ুন! অভিবাসীদের স্থায়ী ভাবে থাকার নিয়ম আরও ‘কঠিন’ করল ট্রাম্প প্রশাসন

গত ১০ বছরে যাঁরা গ্রিন কার্ড পেয়েছেন, তাঁদের বেশির ভাগই আগে থেকে আমেরিকায় বাস করছিলেন। ২০২৪ সালে প্রায় ১৪ লক্ষ বিদেশিকে গ্রিন কার্ড দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৮ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি গ্রিন কার্ড প্রাপক আগে থেকেই আমেরিকায় ছিলেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ ১৬:২৭
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

বিদেশিদের আমেরিকায় স্থায়ী ভাবে বসবাসের পথ আরও জটিল হয়ে উঠল। এ বার থেকে আমেরিকায় বসে আর ‘গ্রিন কার্ড’-এর জন্য আবেদন করা যাবে না। গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে হলে আগে তাঁদের আমেরিকা ছাড়তে হবে। ফিরে যেতে হবে নিজ নিজ দেশে। তার পর সেখান থেকে কনসুলার পরিষেবার মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে হবে। সম্প্রতি এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করেছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দফতরের অধীনস্থ নাগরিকত্ব এবং অভিবাসন পরিষেবা বিভাগ। তাতে বলা হয়েছে, ব্যতিক্রমী কিছু ক্ষেত্র ছাড়া সকল বিদেশি নাগরিকের জন্যই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

গ্রিন কার্ড হল কোনও বিদেশি নাগরিকের আমেরিকায় স্থায়ী ভাবে বসবাসের সরকারি পরিচয়পত্র। এর মাধ্যমে কোনও বিদেশি নাগরিক আমেরিকার নাগরিকত্ব পান না ঠিকই, তবে তাঁকে স্থায়ী ভাবে আমেরিকায় থাকতে এবং কাজ করতে দেওয়া হয়। অনেকে এই গ্রিন কার্ডকে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার আগের পর্যায় হিসাবেও ব্যাখ্যা করেন। মার্কিন নাগরিকত্ব এবং অভিবাসন পরিষেবা বিভাগের মুখপাত্র জ়াচ কাহলারের বক্তব্য, নতুন এই নীতি আইনের ফাঁকফোকর বন্ধ করতে সাহায্য করবে। তাঁর মতে, আমেরিকায় বসে গ্রিন কার্ড আবেদনের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রেই কোনও বিদেশির গ্রিন কার্ডের আবেদন বাতিল হয়ে যাওয়ার পরে তিনি গা ঢাকা দিয়ে দেন। লুকিয়ে অবৈধ ভাবে আমেরিকায় থেকে যান। তার পরে তাঁদের আবার খুঁজে খুঁজে বের করতে হয় প্রশাসনকে। নতুন নিয়মে বিদেশিদের নিজেদের দেশে ফিরে গিয়ে সেখান থেকেই গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে হবে। ফলে অবৈধবাসীদের খুঁজে বের করার ঝক্কি কমবে।

‘নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স’ জানাচ্ছে, গত ১০ বছরে যাঁরা গ্রিন কার্ড পেয়েছেন, তাঁদের বেশির ভাগই আগে থেকে আমেরিকায় বাস করছিলেন। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রায় ১৪ লক্ষ বিদেশিকে গ্রিন কার্ড দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৮ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি গ্রিন কার্ড প্রাপক আগে থেকেই আমেরিকায় ছিলেন। আমেরিকায় বৈধ অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অফ স্টেটাস’ নামে একটি বিশেষ প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ওই ৮ লক্ষ ২০ হাজার বিদেশিকে গ্রিন কার্ড দেওয়া হয়। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সাল (কোভিড অতিমারির সময়) বাদে গত দু’দশকে প্রতি বছরই পাঁচ লক্ষেরও বেশি বিদেশি ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অফ স্টেটাস’-এর মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পেয়েছেন।

তবে মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন নিয়মের ফলে বৈধ ভাবে সে দেশে যাওয়া অনেক বিদেশির জীবন ওলটপালট হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁরা অস্থায়ী ভিসায় আমেরিকায় গিয়ে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন বা আবেদনের পরিকল্পনা করেছেন। এই তালিকায় রয়েছেন বহু বিদেশি পড়ুয়া, মার্কিন নাগরিকদের স্বামী বা স্ত্রী এবং অন্য বিদেশি কর্মীরা। গ্রিন কার্ডের আবেদন করার পরে গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে বেশ কয়েক মাস সময় লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোনও ক্ষেত্রে তা আরও বেশি। ফলে যাঁরা মার্কিন নাগরিকদের বিয়ে করে সে দেশে গিয়েছেন, তাঁরা পরিবারের থেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য আলাদা হয়ে যেতে পারেন।

গ্রিন কার্ড সংক্রান্ত নতুন নিয়মের পরে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে সে দেশে থাকা অভিবাসীদের মধ্যে। বিশেষ করে কোন কোন ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে, তা নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে উল্লেখ নেই। কাহলার শুধু জানিয়েছেন, যাঁরা আমেরিকাকে আর্থিক ভাবে সুবিধা দেন বা অন্য কোনও ভাবে আমেরিকার স্বার্থে কাজ করেন, তাঁরা আগের নিয়মেই চলতে পারবেন।

Donald Trump Green Card
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy