বাড়ির সামনে থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এক দিন পরে জলাশয়ের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ১০ বছরের ওই নাবালিকার ক্ষতবিক্ষত দেহ। তামিলনাড়ুর কোয়েম্বত্তূর সুলুরের ওই ঘটনা জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা রাজ্যে। অভিযোগ, তাকে খুন করা হয়েছে। তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় এই হত্যাকাণ্ডকে ‘অমানবিক এবং ক্ষমার অযোগ্য’ বলে বর্ণনা করেছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপেরও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করেছে জাতীয় মহিলা কমিশনও। তামিলনাড়ুর পুলিশপ্রধানকে সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মহিলা কমিশন।
পিটিআই জানাচ্ছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুলুরে বাড়ির কাছেই খেলছিল ওই নাবালিকা। পুলিশ সূত্রে এনডিটিভি জানাচ্ছে, ওই সময় কাছেই একটি মুদির দোকানের দিকে যাচ্ছিল সে। অভিযোগ, সেই সময়েই তাকে অপহরণ করা হয়। পরের দিন, শুক্রবার সুলুরের কান্নামপালায়াম হ্রদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় নাবালিকার ক্ষতবিক্ষত দেহ। ওই ঘটনায় ইতিমধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম কার্তিক এবং মোহনরাজ। নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে সুলুর থানার সামনে বিক্ষোভও দেখান তার বাবা-মা এবং আত্মীয়েরা। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত মেয়ের দেহ মর্গ থেকে নিয়ে যাবে না, এমন মন্তব্যও করে পরিবার।
মৃতের পরিবারের এক সদস্য এএনআই-কে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে কোনও বিবৃতি না পাওয়া পর্যন্ত আমরা দেহ নিয়ে যাব না। আমরা পরিবর্তনের জন্য ভোট দিয়েছিলাম। এখন তিনি কোনও বিবৃতি বা আশ্বাস পর্যন্ত দিচ্ছেন না। এতেই বোঝা যায় যে নতুন সরকার আসার পরেও কোনও পরিবর্তন হবে না।” এই বিক্ষোভ এবং উত্তেজনার মাঝেই শনিবার দুপুরে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘‘কোয়েম্বত্তূরে ১০ বছরের শিশুর সঙ্গে যে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন অমানবিক এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধের কোনও ভাবেই সহ্য করা হবে না।’’
আরও পড়ুন:
বিজয় আরও লেখেন, ‘‘ঘটনায় জড়িত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি এই ঘটনার দ্রুত বিশদ তদন্ত করতে হবে। চার্জশিট পেশ করার জন্য অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে। মহিলা ও শিশুদের বিরুদ্ধে যারা এমন জঘন্য অপরাধমূলক কাজ করে, তাদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করবে তামিলনাড়ু সরকার।’’ তামিলনাড়ুর এই হত্যাকাণ্ডে ইতিমধ্যে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন। নাবালিকাকে খুনের ঘটনায় পুলিশ কী পদক্ষেপ করছে, তা নিয়ে সাত দিনের মধ্যে একটি ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ জমা দিতে বলা হয়েছে তামিলনাড়ু পুলিশের ডিজি-কে।