E-Paper

এপস্টিন-কাণ্ড বেদনার, মুখ খুললেন মেলিন্ডা

মেলিন্ডাকে সাক্ষাৎকারে বলতে শোনা গিয়েছে, নতুন করে এপস্টিন ফাইল প্রকাশ্যে আসার পরে তাঁর জীবনের পুরনো বেদনাময় নানা স্মৃতি ফিরে এসেছে।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:২৭
মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস।

মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস। — ফাইল চিত্র।

আমেরিকার বিচার বিভাগ নতুন করে এপস্টিন ফাইল প্রকাশ করার পর থেকেই বিশ্ব জুড়ে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে। প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের লেখা ইমেলে মাইক্রোসফ‌্ট কর্ণধার তথা ধনকুবের বিল গেটসের সম্পর্কে বিস্ফোরক নানা তথ্য সামনে এসেছে। শিশু এবং নাবালিকাদের জোর করে যৌন পেশায় নামানো, ধর্ষণ, নারী পাচারের মতো অজস্র অপরাধে নাম জড়িয়েছিল এপস্টিনের। গোটা ঘটনা নিয়ে এ বার মুখ খুলেছেন বিলের প্রাক্তন স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস। একটি পডকাস্টে মেলিন্ডার সাক্ষাৎকার সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে বিলের প্রাক্তন পত্নী কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন যে, এপস্টিন-কাণ্ডে নাম জড়ানোর পরেই বিলের সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়েছিল। তবে গোটা ঘটনায় এপস্টিনের সঙ্গে কয়েক বার দেখা করা ছাড়া তাঁর কোনও ভূমিকা নেই বলে আরও এক বার দাবি করেছেন বিল।

মেলিন্ডাকে ওই সাক্ষাৎকারে বলতে শোনা গিয়েছে, নতুন করে এপস্টিন ফাইল প্রকাশ্যে আসার পরে তাঁর জীবনের পুরনো বেদনাময় নানা স্মৃতি ফিরে এসেছে। ৩০ লক্ষ পাতার সেই ফাইলে বিল-সহ বাকি বিশ্বের তাবড় নামী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যা যা বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে, তা নিয়ে অভিযুক্তদেরই জবাব দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মেলিন্ডা। নিজেকে পাঠানো ইমেলে এপস্টিন দাবি করেছিল, রুশ শয্যাসঙ্গিনীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের পরে বিরল যৌন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বিল। যার জন্য মেলিন্ডাকে সেই সময়ে কিছু অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধও খেতে বাধ্য করেন তিনি। সেই সব প্রসঙ্গ সাক্ষাৎকারে ওঠায় মেলিন্ডা বলেছেন, ‘‘খুশির কথা একটাই যে, এই ধরনের কদর্য বিষয় থেকে আমি এখন অনেক দূরে।’’ যে সব শিশু বা নাবালিকা নির্যাতিতাদের কথা ফাইলে প্রকাশ পেয়েছে, তাদের জন্য দুঃখপ্রকাশ করতেও দেখা গিয়েছে মেলিন্ডাকে। গত শুক্রবার এপস্টিন ফাইল প্রকাশ্যে আসার পরেই বিলের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, মাইক্রোসফ‌্ট প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে আনা যাবতীয় অভিযোগ মিথ্যে এবং বানানো। একটি অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন বিল-ও। তিনি জানিয়েছেন, এপস্টিনের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি নিয়ে তিনিও অনুশোচনায় ভোগেন। তবে বিলের দাবি, কয়েক বার এপস্টিনের সঙ্গে দেখা করা বা তাঁর সঙ্গে নৈশভোজে যোগ দেওয়া ছাড়া কোনও যৌন অপরাধমূলক কাজকর্মে তিনি জড়িত ছিলেন না।

এপস্টিন বিতর্ক নিয়ে ফের মুখ খুলেছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত কয়েক দিন ধরেই আমেরিকায় তোলপাড় চলছে গোটা বিষয়টি নিয়ে। দেশের মানুষকে এর থেকে বেরিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন ট্রাম্প। আমেরিকান প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, ‘‘এখন স্বাস্থ্য পরিষেবা বা অন্য অনেক বিষয়ে নজর দেওয়ার সময় এসেছে।’’ এপস্টিন বিতর্কে ট্রাম্পের নাম জড়ালেও কোনও অপরাধমূলক ঘটনায় তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়নি এখনও পর্যন্ত। সে দিকে ইঙ্গিত দিয়েই ট্রাম্প এ বার ডেমোক্র্যাটদের দিকে আঙুল তুলেছেন। গত কালই জানা গিয়েছে, প্রাক্তন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন এবং তাঁর স্ত্রী তথা দেশের প্রাক্তন বিদেশসচিব হিলারি ক্লিন্টন এই মামলায় সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন। ট্রাম্প সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করেই বলেছেন, ‘‘এটা এখন ডেমোক্র্যাটদের সমস্যা। লজ্জার বিষয়।’’

এপস্টিন বিতর্কে নাম জড়িয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ থেকে পদত্যাগ করেছেন এমপি পিটার ম্যান্ডেলসন। এক সময়ে আমেরিকায় ব্রিটেনের দূত ছিলেন পিটার। এপস্টিনকে সংবেদনশীল নথি পাচারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আশার পর পরই আমেরিকা থেকে দেশে ফেরানো হয়েছিল পিটারকে। এ বার পদত্যাগও করলেন তিনি। ট্রাম্প অবশ্য জানাচ্ছেন, এ বিষয়ে তিনি বিশেষ কিছু জানেন না। তবে তাঁর কথায়, ‘‘আমি জানি উনি কে। খুবই খারাপ ব্যাপার।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

USA america

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy