ইরানের নুতন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই কোথায়? পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাতের এক মাস পেরিয়ে গেলেও এই বিষয়টি নিয়ে নানা তত্ত্ব এবং দাবি ঘুরে বেড়াতে শুরু করেছে, তার মধ্যেই আরও একটি তথ্য প্রকাশ্যে এল মোজ়তবার অবস্থান এবং শারীরিক অবস্থা নিয়ে। এক গোয়েন্দা সূত্রকে উদ্ধৃত করে দ্য টাইমস-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোজতবা ইরানেই আছেন। কুম শহরে তাঁর চিকিৎসা চলছে। শারীরিক ভাবে তিনি ‘অক্ষম’ হয়ে পড়েছেন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থা নেই তাঁর। আর এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই ইরানের নেতৃত্বের কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মার্কিন এবং ইজ়রায়েলি গোয়েন্দাদের ওই সূত্রকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘‘মোজতবা খামেনেইয়ের চিকিৎসা চলছে তেহরান থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে কুম শহরে। তিনি শয্যাশায়ী।’’ ইরানের ধর্মীয়প্রধান শহর কুম। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৫৬ বছর বয়সি মোজ়তবা প্রায় অচৈতন্য অবস্থায় রয়েছেন। ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করে হয়েছে, ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের কাজ এই কুমেই করা হবে। তাঁর স্মৃতিসৌধ তৈরির কাজও জোরকদমে চলছে বলে ওই সূত্রের দাবি। সেখানেই খামেনেই পরিবারের নিহত বাকি সদস্যদের সমাধিস্থ করা হতে পারে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন এবং ইজ়রায়েলি গোয়েন্দারা অনেক দিন আগেই মোজতবার অবস্থা সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন। কিন্তু বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যে হামলা চালায় আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল, সেই হামলায় আয়াতোল্লা আলি খামেনেই, তাঁর স্ত্রী এবং এক পুত্রের মৃত্যু হয়েছিল। ইরানের তরফে পরে দাবি করা হয়, ওই হামলায় গুরুতর জখম হন আয়াতোল্লার আর এক পুত্র মোজতবাও। আয়োতোল্লার মৃত্যুর পরে মোজতবাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে ঘোষণা করেছিল ইরান। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার পর থেকে কখনও প্রকাশ্যে আসেননি মোজতবা। তার পর থেকেই জল্পনা শুরু হয় মোজতবার অবস্থান এবং শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তো ঘোষণাই করে দিয়েছিলেন যে, মোজতবা আর বেঁচে নেই। যদিও বেঁচে থাকেন, তা হলে চলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। মোজতবা কোথায়, তা নিয়ে নানা জল্পনার মধ্যে হঠাৎ বিভিন্ন সূত্রে খবর প্রকাশ্যে আসে, মোজতবাকে রাশিয়ায় উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্য। যদিও মস্কো সেই দাবি নস্যাৎ করে। তবে মোজতবার শারীরিক অবস্থা এবং তাঁর গতিবিধি রহস্যের ঘেরাটোপে ছিল। তার মধ্যেই আবার প্রকাশ্যে এল, মোজতবা ইরানেই আছেন। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থা ভাল নয়। যদিও এ বিষয়ে ইরানের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
১৪:৪৭
সুইৎজ়ারল্যান্ডে পিছিয়ে গেল আমেরিকা-ইরানের বৈঠক! সফর হঠাৎ বাতিল করে দিলেন ভান্স, শান্তির পথে ফের বাধা? -
দ্বন্দ্ব থামিয়ে সমঝোতার পথে আমেরিকা-ইরান! মধ্যস্থতাকারী হিসাবে রইল পাকিস্তানের নাম, কোন কোন শর্তে সন্ধি হল?
-
‘চুক্তি পছন্দ না হলে ইরানে ফের বোমা ফেলব’, যুদ্ধবিরতি চুক্তি সইয়ের দু’দিন আগে জি৭ শীর্ষবৈঠকে নয়া সুর ট্রাম্পের
-
আলো নিবিয়ে, ট্র্যাকার বন্ধ করে হরমুজ় অতিক্রম! ইরানি কায়দাতেই তেহরানের কোটি কোটি ব্যারেল তেল লুট করেছে আমেরিকা?
-
লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজ়রায়েল, মৃত অন্তত চার! ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিই কি সার? শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন