স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পওডেলের জারি করা একটি বিশেষ অধ্যাদেশের ফলে ১৫৯৪ জন ‘রাজনৈতিক ভাবে নিযুক্ত পদাধিকারী’ অপসারিত হয়েছেন। শনিবার ‘অর্ডিন্যান্স অন স্পেশাল প্রভিশনস ফর দ্য রিমুভাল অব পাবলিক অফিস বেয়ারার্স, ২০৮৩’ জারি করে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। নেপালে সরকার পরিবর্তনের পরে পূর্বতন সরকারের নিয়োগ পর্যালোচনা অপ্রচলিত নয়। তবে এ বারের পদক্ষেপের পরিসর অন্যান্য বারের চেয়ে অনেক বেশি ব্যাপক বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ‘জেন জ়ি’ বিক্ষোভের পরে সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল। নির্বাচনের পরে ২৬ মার্চ নেপালে বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ ক্ষমতায় আসে। নতুন এই অধ্যাদেশের ফলে ওই ২৬ মার্চের আগে করা সমস্ত রাজনৈতিক নিয়োগ তাদের মেয়াদ, সুযোগ-সুবিধা বা শর্ত নির্বিশেষে বাতিল গণ্য হবে।
এই অপসারণের ফলে নেপালের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ, ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়, বি পি কৈরালা ইনস্টিটিউট অব হেলথ সায়েন্সেস, নেপাল এয়ারলাইন্স কর্পোরেশন এবং গোর্খাপত্র সংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদগুলি এখন খালি। অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীদের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজকর্ম ও পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। তবে খালি পদগুলিতে নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া বা সময়সীমা সম্পর্কে সরকার এখনও নির্দিষ্ট কিছু জানায়নি। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ‘অ্যামেন্ডমেন্টস টু সাম নেপাল অ্যাক্টস’ শিরোনামে একটি পৃথক অধ্যাদেশ রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হলেও তাতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ সমাধান নেই।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)