E-Paper

যুদ্ধবন্দি তিনি, চাল মাদুরোর

আমেরিকার আদালতে দাঁড়িয়ে বন্দি মাদুরোর দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে চাপে ফেলতে পারে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। কারণ কোনও দেশের নাগরিক আদালতে যুদ্ধবন্দির বিচার হয় না।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:১১
নিকোলাস মাদুরো।

নিকোলাস মাদুরো। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ম্যানহাটনের আদালতে দাঁড়িয়ে গত কালই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ট্রাম্প প্রশাসনের আনা মাদক পাচারের যাবতীয় অভিযোগ খারিজ করেছিলেন তিনি। ভেনেজ়ুয়েলার অপহৃত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এ বার আদালতে নিজেকে যুদ্ধবন্দি হিসেবে দাবি করলেন। জানালেন, গত শনিবার রাতের অন্ধকারে তাঁর দেশের উপরে হামলা চালিয়ে তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে শয়নকক্ষ থেকে যে ভাবে অপহরণ করা হয়েছিল, তাতে এটা স্পষ্ট তাঁর দেশের বিরুদ্ধে সে দিন যুদ্ধ ঘোষণাই করতে চেয়েছিল আমেরিকা।

আমেরিকার আদালতে দাঁড়িয়ে বন্দি মাদুরোর এই দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে চাপে ফেলতে পারে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। কারণ কোনও দেশের নাগরিক আদালতে যুদ্ধবন্দির বিচার হয় না। বরং যুদ্ধের ফলে বন্দি কোনও ব্যক্তি বা রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ‘জেনিভা কনভেনশন’-এ উল্লিখিত নীতি মেনে মেনে যাবতীয় আচরণ করতে হয়। মাদুরো এই অভিযোগ এনে আদতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি আরও পোক্ত করলেন বলেই মত আইনি বিশেষজ্ঞদের একাংশের। মাদুরোকে বন্দি করার পরের দিনই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো দাবি করেছিলেন, ভেনেজ়ুয়েলার বিরুদ্ধে তাঁরা কোনও যুদ্ধ ঘোষণা করেননি। বরং কোকেন-সহ বিভিন্ন মাদক পাচারের মতো অপরাধমূলক অভিযোগ আনা হয়েছে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে। সেই মতো আমেরিকার পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। ম্যানহাটনের আদালতের বিচারক অ্যালভিন কে হেলারস্টেন-ও অবশ্য জানিয়েছেন, আমেরিকার ফেডেরাল আদালতেই আপাতত বিচার চলবে মাদুরোর। গত কাল আদালতে মাদুরোর পক্ষে সওয়াল করতে হাজির হয়েছিলেন আমেরিকার কৌঁসুলি ব্যারি পোলক। উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের মামলা লড়েছিলেন এই পোলক। গত কাল তাঁকে আদালতে দেখে দেশ-বিদেশের সাংবাদিকদের মধ্যে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। ব্যারিকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ করাও মাদুরোর অন্যতম বুদ্ধিমান একটি পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

গত কাল আদালতে হাজির করানোর সময়ে ভেনেজ়ুয়েলার ফার্স্ট লেডি সিলিয়াকে কার্যত চুলের মুঠি ধরে নিয়ে গিয়েছেন আমেরিকার নিরাপত্তা বাহিনীর অফিসারেরা। পশ্চিমি সংবাদমাধ্যমগুলি এ বিষয়ে নীরব থাকলেও সিলিয়ার আইনজীবীদের একাংশ সমাজমাধ্যম এক্স-এ সিলিয়ার ছবি পোস্ট করে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁদের আরও দাবি, বন্দি করার আগে প্রচণ্ড মারধরও করা হয়েছিল সিলিয়াকে তিনি তাই প্রায় সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে হেঁটেছেন গত কাল। সিলিয়ার পাঁজরে মারাত্মক চোট লেগেছে বলেও দাবি তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রে। মাদুরোর উপরেও শারীরিক নির্যাতন চলছে বলে দাবি ভেনেজ়ুয়েলা সরকারের একটি সূত্রের। গত কাল আদালত কক্ষে তাঁকে উঠে দাঁড়ানো বা বসার সময়ে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছিল বলেও জানাচ্ছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে এই সব অভিযোগ নিয়ে নীরবই থেকেছে হোয়াইট হাউস।

রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে গত কালই জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা। রাশিয়া, চিন, কিউবা, পানামার মতো ভেনেজ়ুুয়েলার বন্ধু দেশগুলি তো বটেই, ফ্রান্স-ডেনমার্কের মতো ইউরোপের দেশের দূতেরাও আমেরিকার এই হামলা এবং মাদুরোকে বন্দির বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র নিন্দা করেছে।

মাদুরো আমেরিকার হাতে অপহৃত হওয়ার পরেই দেশে ফেরার বার্তা দিয়েছেন ভেনেজ়ুয়েলার বিরোধী নেত্রী তথা নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মানবাধিকার কর্মী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিজের নোবেল পুরস্কার উৎসর্গ করেছিলেন তিনি। তবে ট্রাম্প আগেই জানিয়েছিলেন, ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্টের গদিতে বসার ক্ষমতা বা জনসমর্থন কোনওটাই নেই মাচাদোর। ২০২৪-এর ভোটে হেরে ছদ্মবেশে দেশ ছেড়েছিলেন মাচাদো। তিনি এ বার বার্তা দিয়েছেন, দেশে খুব শীঘ্রই ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছাও লুকোননি। ট্রাম্প অবশ্য সদ্য জানিয়েছেন, ভেনেজ়ুয়েলায় এখন নির্বাচনের পরিস্থিতি নেই। আগে সব কিছু ঠিক হোক, তার পর নির্বাচনের কথা ভাবা যাবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Nicolas Maduro venezuela america

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy