সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান ইরান। তেহরানের তরফে খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবরে সিলমোহর দেওয়ার পরেই ইরানের বিভিন্ন শহরে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন স্থানীয় মানুষজন। কোম, ইয়াসুজের মতো শহরে ইরানের পতাকা হাতে নিয়ে রাস্তায় বেরোন বহু মানুষ। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, মাথা এবং বুক চাপড়ে কেঁদে শোকপ্রকাশ করছেন তাঁরা। (যদিও এই ভিডিয়োগুলির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)
যদিও আমেরিকায় বসবাসকারী ইরানের নাগরিকেরা খামেনেইয়ের মৃত্যুতে উচ্ছ্বাসপ্রকাশ করেছেন। আমেরিকায় লস অ্যাঞ্জেলস শহরে সবচেয়ে বেশি ইরানির বাস। সেখানে আমেরিকা এবং ইরানের পতাকা হাতে নিয়ে উৎসবে মাতেন অনেকে। তাঁদের মুখে ছিল ‘মেক ইরান, গ্রেট এগেন’ স্লোগান। অন্য দিকে, হোয়াইট হাউসের বাইরে এবং নিউ ইয়র্কের টাইম্স স্কোয়্যারের বাইরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান বেশ কয়েক জন।
আরও পড়ুন:
‘আল জাজ়িরা’-র একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, খামেনেইয়ের মৃত্যুতে সামগ্রিক ভাবে ইরানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। শোকের আবহেই বাসিন্দাদের একাংশ সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার মৃত্যুতে স্বস্তিপ্রকাশ করেছেন। গত ডিসেম্বরে খামেনেই প্রশাসনের কঠোর অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে পথে নেমেছিলেন ইরানের বহু মানুষ। পরে সেই বিক্ষোভ পুরোপুরি প্রশাসন-বিরোধী হয়ে ওঠে। খামেনেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে দমনপীড়নের মাধ্যমে বিক্ষোভ থামানোর চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে।
শনিবার সকাল থেকে ইরানে হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। পরে জানা যায়, তাদের সহায়তা করছে আমেরিকাও। যৌথ বাহিনীর প্রথম হামলাতেই খামেনেইয়ের মৃত্যু হয় বলে মনে করা হচ্ছে। তেহরান রবিবার সকালে জানিয়েছে, খামেনেই শনিবার ভোরে নিজের দফতরে ছিলেন। সেখানে যৌথ বাহিনীর হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর কন্যা, নাতনি, জামাইও মারা গিয়েছেন এই হামলায়। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড কঠোর প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।