পরনে কালো জ্যাকেট। মাথায় টুপি। আর হাতে হাতকড়া। ধীর গতিতে দুই অফিসারের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছেন ভেনেজ়ুয়েলার অপহৃতপ্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো! নিউ ইয়র্কে পৌঁছোনোর পর রবিবার বন্দি মাদুরোর কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। আটক হওয়ার পর এই প্রথম তাঁকে ওই ভিডিয়োয় কিছু বলতে শোনা গেল। তবে বেশি কথা নয়। পাঁচটি শব্দ উচ্চারণ করেছেন মাদুরো।
শনিবার নিজের প্রাসাদের শোয়ার ঘর থেকে মাদুরোকে তুলে আনা হয়। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। দু’জনকে আটক করে ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে সোজা আমেরিকায় উড়িয়ে আনা হয়। আমেরিকার দীর্ঘ দিনের অভিযোগ, মাদক পাচার এবং অন্যান্য অপরাধের জন্য তেল ব্যবহার করে ভেনেজ়ুয়েলা। ওই তেল আদতে চুরি করা হয় ভেনেজ়ুয়েলার বিভিন্ন খনি থেকে। তার পর তা বিক্রি করে জঙ্গি কার্যকলাপে ব্যবহার করা হয়। আর সব কিছুই হচ্ছে মাদুরোর নির্দেশে! তাই তাঁকে গ্রেফতার করে মার্কিন বিচারব্যবস্থার সামনে ফেলতে চেয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ভেনেজ়ুয়েলায় মার্কিন অভিযানের ছক এক দিনের নয়। অনেক দিন ধরে পরিকল্পনা চলছিল। গত চার দিন ধরে বার বার এই অভিযান বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় মার্কিন প্রশাসন। ট্রাম্প নিজেই সে কথা জানিয়েছেন। কারণ, খারাপ আবহাওয়া। তবে শনিবার তিনি ‘সাফল্য’ পেয়ে উচ্ছ্বসিত। নিজের উচ্ছ্বাস লুকোননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, তাঁর কাছে পুরো অভিযানটাই একটা ‘টিভি-শো’!
ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছিলেন মাদুরোকে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেই বিচারব্যবস্থার সম্মুখীন হবেন তিনি। নিউ ইয়র্কে পৌঁছোনোর পরই মাদুরোকে নিয়ে যাওয়া হয় ম্যানহাটনের আমেরিকার মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ডিইএ) সদর দফতরে। তবে পুরো যাত্রাতেই তাঁর হাতে হাতকড়া পরানো ছিল বন্দিদের মতোই।
মাদুরোকে ডিইএ দফতরে নিয়ে যাওয়ার সময়ের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে (যদিও এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। ওই ভিডিয়োয় মাদুরোকে অত্যন্ত শান্ত দেখাচ্ছে। ধীর পায়ে তিনি হেঁটে চলেছেন ডিইএ-র দুই কর্তার সঙ্গে। সে সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কর্তাদের মাদুরোকে বলতে শোনা যায়, ‘গুড নাইট’, ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’!
আরও পড়ুন:
মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে প্রথমে নিউ ইয়র্কের স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বেসে নিয়ে যাওয়া হয়। তার পরে সেখান থেকে তাঁদের হেলিকপ্টারে চাপিয়ে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ম্যানহাটনের ডিইএ-র সদর দফতরে। সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে। সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, মাদুরোকে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে পাঠানো হতে পারে।
শনিবার আমেরিকার অ্যাটর্নি জেনারেল পামেলা বন্ডি সরাসরি ভেনেজ়ুয়েলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন। জানিয়েছেন, শীঘ্রই তাঁদের আমেরিকার বিচারব্যবস্থার সম্মুখীন করা হবে। মাদক, সন্ত্রাস, কোকেন পাচারের মতো অভিযোগ তো রয়েইছে, এ ছাড়াও মাদুরোর বিরুদ্ধে অস্ত্র অপরাধের অভিযোগও আনা হবে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছিল, মাদুরোর বিরুদ্ধে দুর্নীতিগ্রস্ত, অবৈধ সরকার পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে!