পাকিস্তানে কারাবন্দি তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা, সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে গত তিন মাস ধরে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। সোমবার এমনই অভিযোগ তুললেন তাঁর দলীয় কর্মীরা।
পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, গত তিন মাস ধরে ইমরানকে কারও সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁকে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। সোমবার দলের কর্মীরা বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, দীর্ঘ দিন ধরে কাউকে নির্জন কারাবাসে রাখা ক্ষতিকারক এবং অমানবিক আচরণের পরিচয় দেয়। কোনও কারণ বা সুরক্ষা ছাড়াই কাউকে দিনের পর দিন কারাবাসে রাখা অত্যন্ত নিষ্ঠুরতার লক্ষণ।” তাঁরা জানান, ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে না-দেওয়ায়, তাঁর সমর্থক এবং নেতৃত্বের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারাবাসে ন্যূনতম নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলিও ইমরানকে দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি দলের।
আরও পড়ুন:
পিটিআই আরও জানিয়েছে, ইমরানের সঙ্গে তাঁর আইনজীবীদেরও দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এই অধিকার থেকেও তাঁকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে এবং দেখা করতে না-দেওয়ার কারণ এখন পর্যন্ত পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা করতে পারেনি সরকার। ইমরানের আইনজীবী এবং পরিবারের সদস্যেরা যেন তাঁর সঙ্গে জেলে দেখা করতে পারেন, এই দাবি জানিয়েছেন তাঁর দলের কর্মীরা। এর আগে একাধিক বার ইমরানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখায় তাঁর দল। গত বছর ডিসেম্বর মাসে ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে না-দেওয়ার অভিযোগ তোলেন দুই বোন আলিমা খান ও নৌরিন নিয়াজ়ি।
২০২৩ সালের ৯ মে ইসলামাবাদ হাই কোর্টের সামনে থেকে ইমরানকে গ্রেফতার করেছিল পাক আধাসেনা রেঞ্জার্স বাহিনী। হাই কোর্টের বাইরে নিয়ে গিয়ে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে খবর। ইমরানকে গ্রেফতারের সময় তাঁর দল পিটিআই-এর কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে রেঞ্জার্স বাহিনীর। রেঞ্জার্স বাহিনী ইমরানকে মারধর করেছে বলে দাবি করেছে তাঁর দল। এর পরেই পাকিস্তান জুড়ে হিংসাত্মক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। চলতি বছরের ২০ ডিসেম্বর তোষাখানা দুর্নীতি-২ মামলায় ইমরান এবং তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। বর্তমানে দু’জনেই রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি।