Advertisement
E-Paper

ইরানের ‘চাপে’ ট্রাম্পকে খুন করার ছক কষেন পাকিস্তানের ব্যবসায়ী! দোষ কবুল করলেন কোর্টে, কী ভাবে ধরা পড়েছিলেন

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন ফেডেরাল কোর্টে ওই পাক নাগরিকের বিচারপর্ব চলছে। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ০৯:২৩
ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

ইরানের কথায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুন করার ছক কষেছিলেন পাকিস্তানের ব্যবসায়ী! আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মধ্যেই এই খবর প্রকাশ্যে এসেছে। বুধবার আমেরিকার একটি আদালতে নিজেই সব কথা স্বীকার করে নিয়েছেন ওই পাক নাগরিক আসিফ মার্চেন্ট।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন ফেডেরাল কোর্টে ওই পাক নাগরিকের বিচারপর্ব চলছে। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার আদালতের বিচারকদের সামনে ওই পাক নাগরিক দাবি করেন, ট্রাম্পকে খুনের বরাত দিয়েছিলেন ইরানের নাগরিক মেহরদাদ ইউসুফ, যিনি আবার সে দেশের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোরের সদস্য। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে তেহরান প্রশাসনের নাম।

৪৭ বছর বয়সি মার্চেন্ট আদালতে দাবি করেন, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তাঁকে খুনের বরাত দিয়ে আমেরিকায় পাঠানো হয়েছিল। তবে কাকে বা কাদের হত্যা করতে হবে, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। পরে নাকি বলা হয়, ট্রাম্প, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং সাউথ ক্যারোলাইনা প্রদেশের প্রাক্তন গভর্নর নিকি হ্যালেকে খুন করতে হবে।

ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুসারে, তিন জনকে খুন করার জন্য দুই ঘাতককে খুঁজে বার করেছিলেন মার্চেন্ট। আগাম দিয়ে রেখেছিলেন ৫০০০ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৪ লক্ষ ৫৮ হাজার ৬২ টাকা)। কিন্তু ওই পাক ব্যবসায়ী জানতেন না, যাঁদের তিনি খুনের সুপারি দিচ্ছেন, তাঁরা আসলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর এজেন্ট। ২০২৪ সালের জুন মাসে ধরা পড়s যান মার্চেন্ট। তাঁর ছকও বানচাল হয়ে যায়।

যদিও মার্চেন্ট দাবি করেছেন, চাপের মুখে এই কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। না হলে নাকি ইরানে থাকা তাঁর আত্মীয়স্বজনদের প্রাণসংশয় হতে পারত। আদালতে তিনি বলেন, “আমার কাছে অন্য কোনও উপায় ছিল না। আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।”

প্রতিবেদন অনুসারে, মার্চেন্ট আগে পাকিস্তানের একটি ব্যাঙ্কের উচ্চপদে কাজ করতেন। পরে তিনি কলার ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু সাফল্যের মুখ দেখেননি। কী ভাবে তিনি ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের এক সদস্যের সংস্পর্শে এলেন, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়।

ঘটনাচক্রে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প দাবি করেছেন, ২০২৪ সালে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই তাঁকে দু’বার হত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, “উনি (খামেনেই) আমাকে পাওয়ার আগে আমিই ওঁকে পেয়ে গিয়েছি। ওঁরা দু’বার চেষ্টা করেছিলেন। আমি প্রথম বারেই পেয়ে গেলাম।” তবে ট্রাম্প এই বিষয়ে সবিস্তার কিছু বলেননি। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পেনসিলভেনিয়ার সভায় তাঁর কান ঘেঁষে বেরিয়ে গিয়েছিল গুলি। ওই বছরই সেপ্টেম্বরে ওয়েস্ট পাম বিচে গল্‌ফ খেলার সময় ট্রাম্পের দিকে বন্দুক তাক করার অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কয়েক মাস পরে আফগানিস্তানের বাসিন্দা ফারহাদ শাকেরির বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে খুনের ছক কষার অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়েছিল। ২০০৮ সালে তাঁকে আমেরিকা থেকে বার করে দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, ট্রাম্পকে খুনের ছক কষেছিল ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরান সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। এ ক্ষেত্রেও তেহরান একই পথে হাঁটবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Donald Trump US Iran Pakistan Assasination
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy