নৌসেনার শক্তি বৃদ্ধি করছে পাকিস্তান। পাক নৌসেনায় যুক্ত হল চিনের তৈরি ডুবোজাহাজ ‘হঙ্গর’। চিনের সান্য শহরে ‘হঙ্গর’ শ্রেণির প্রথম ডুবোজাহাজটি আনুষ্ঠানিক ভাবে যুক্ত করা হয় পাক নৌ বাহিনীতে। চিনের ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি এবং সে দেশের নৌসেনার প্রধান অ্যাডমিরাল নভীদ আশরাফ।
চিনের কাছ থেকে এই ডুবোজাহাজগুলি পাওয়ার জন্য ১১ বছর আগেই চুক্তি সেরেছিল পাকিস্তান। ২০১৫ সালের ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী চিনের কাছ থেকে আটটি ‘হঙ্গর’ ডুবোজাহাজ পাবে পাকিস্তান। এর মধ্যে প্রথম চারটি তৈরি হচ্ছে চিনে। বাকি চারটি তৈরি হবে পাকিস্তানে। চুক্তি অনুসারে, ২০২২ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে ওই আটটি ডুবোজাহাজ পাওয়ার কথা পাকিস্তানের। তার মধ্যে প্রথম ডুবোজাহাজটি এ বার হাতে পেয়ে যাচ্ছে পাক নৌসেনা। পাকিস্তানের বাহিনীতে যুক্ত হওয়া ডিজ়েল এবং বিদ্যুৎচালিত ‘পিএনএস হঙ্গর’ হল এক ধরনের ‘অ্যাটাক’ (জাহাজ বা অন্য ডুবোজাহাজে আক্রমণ করতে সক্ষম) ডুবোজাহাজ। আধুনিক প্রপালশন প্রযুক্তিযুক্ত এই ডুবোজাহাজ জলের উপরে ভেসে না উঠেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে পারে।
আরও পড়ুন:
সামরিক দিক থেকে পাকিস্তান অনেকাংশেই চিনের উপর নির্ভরশীল। সিঁদুর অভিযান এবং ভারত-পাক সংঘর্ষের সময়ে রাওয়ালপিণ্ডির এই বেজিং-নির্ভরতা আরও বেআব্রু হয়েছে। ওই সময়ে চিনা যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপরেই নির্ভর করতে হয়েছে পাক সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের বাহিনীকে। ওই সময় মার্কিন এফ-১৬ পাশাপাশি চিনা যুদ্ধবিমান ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ এবং ‘জে১০সি ভিগোরাস ড্রাগন’ ব্যবহার করে তারা।
চিনের চেংদু এয়ারক্র্যাফটস ইন্ডাস্ট্রিজ় গ্রুপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে নির্মিত চতুর্থ প্রজন্মের ‘মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্ট’ জেএফ-১৭-র আধুনিকতম সংস্করণ ‘ব্লক-৩’ ভারতে হামলা চালাতে পাক বায়ুসেনা ব্যবহার করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট। এর পাশাপাশি, আকাশের লড়াইয়ে ভারতের রাফালের মোকাবিলায় পাক বাহিনীর আধুনিকতম যুদ্ধবিমান জে-১০সি-ও শামিল হয়েছিল বলে কয়েকটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।