Advertisement
E-Paper

দেশের কোথাও জঙ্গি ঘাঁটি নেই! ভারতের ডসিয়েরের জবাব দিল পাকিস্তান

সূত্রের খবর, ইসলামাবাদে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে পাক বিদেশমন্ত্রকের দফতরে ডেকে ওই নথিপত্র তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০১৯ ১৬:২৪
পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার পর ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে দেহাংশ, জামাকাপড়। —ফাইল চিত্র

পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার পর ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে দেহাংশ, জামাকাপড়। —ফাইল চিত্র

ফের সামনে চলে এল পাকিস্তানের দ্বিচারিতা। পুলওয়ামা হামলা নিয়ে ভারতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তি নেই— জানিয়ে দিল ইসলামাবাদ। পাক বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতের দেওয়া তথ্যপ্রমাণের উপর ভিত্তি করে তদন্তে উঠে আসা প্রাথমিক নথিপত্র ভারতকে দেওয়া হয়েছে। ইসলামাবাদের দাবি, ওই তদন্তেই স্পষ্ট, পুলওয়ামা হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের কোনও যোগ নেই। যে ২২টি জঙ্গি ঘাঁটির তথ্য ভারত দিয়েছিল, ওই সব জায়গায় এ রকম কোনও ঘাঁটির অস্তিত্ব নেই বলেও দাবি ইমরান খান সরকারের। তাই নয়াদিল্লির কাছে আরও তথ্যপ্রমাণ চেয়েছে পাকিস্তান।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মুর পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে আত্মঘাতী হামলা চালায় জঙ্গিরা। নিহত হন ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান। ওই ঘটনায় পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদের দিকে অভিযোগের আঙুল ওঠে এবং প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণও পাওয়া যায়। কিন্তু গোড়া থেকেই পাকিস্তান সেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল। তাই ওই সময় পাকিস্তানের হাতে পুলওয়ামা হামলার তথ্যপ্রমাণ তুলে দেয় ভারত।

বুধবার পাক বিদেশমন্ত্রক একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ‘‘পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার প্রেক্ষিতে ভারতের দেওয়া তথ্যপ্রমাণের সূত্রে তদন্ত করে প্রাথমিক রিপোর্ট নয়াদিল্লিকে দেওয়া হয়েছে। এই তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা ভারতের কাছে আরও তথ্যপ্রমাণ চেয়ে পাঠিয়েছি।’’ সূত্রের খবর, ইসলামাবাদে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে পাক বিদেশমন্ত্রকের দফতরে ডেকে ওই নথিপত্র তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: ‘সেট’ আর ‘স্যাট’-এর পার্থক্য বোঝার বুদ্ধিও নেই, রাহুলের থিয়েটার কটাক্ষের জবাব মোদীর

আরও পড়ুন: আর আবর্জনা নয়, আর্জি আমেরিকার, ভয়ঙ্কর ট্র্যাফিক জ্যাম মহাকাশে!

তদন্তে কী উঠে এসেছে? কীভাবেই বা তদন্ত করেছে পাকিস্তান? পুলওয়ামায় জঙ্গি হানা, তার পর বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার অভিযান, ডগফাইট, পাক সেনার হাতে অভিনন্দন বর্তমানের আটক হওয়া এবং দেশে ফেরা— গোটা এই পর্ব যখন থিতিয়ে গিয়েছে, তখনই পাক সংবাদ মাধ্যম এবং সরকারি সূত্রে বলা হয়, জঙ্গি সন্দেহে ৫৪ জনকে আটক করেছে পাক সরকার। এ দিনের বিবৃতিতে পাক বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, ‘‘ওই ৫৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু তাঁদের কারও সঙ্গেই পুলওয়ামা হামলার যোগসূত্র মেলেনি।’’

ভারতের দেওয়া নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল, পাক অধিকৃত কাশ্মীর, বালাকোট-সহ পাকিস্তানের অভ্যন্তরে অন্তত ২২টি জঙ্গি ঘাঁটি রয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, ওই ২২টি জায়গাতেই পরিদর্শন করা হয়েছে এবং খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনও জঙ্গি ঘাঁটির অস্তিত্ব মেলেনি। এমনকি, ওই জায়গাগুলিতে (অনুরোধ সাপেক্ষে) পরিদর্শন করতে দিতেও রাজি পাকিস্তান।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

পুলওয়ামা হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ছিল আদিল দার। তদন্তে উঠে এসেছে এই আদিল দারই গাড়ি নিয়ে সিআরপিএফ কনভয়ে ঢুকে আত্মঘাতী হামলা চালায়। ওই ঘটনার পর আদিল দারের একটি ভিডিয়ো সংবাদ মাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। তদন্তে আরও উঠে আসে, ওই সময় হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামের মতো ইন্টারনেট বেসড মেসেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছিল জঙ্গিরা। পাক বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, আদিল দার যে জিএসএম সিমটি ব্যবহার করছিল, সেটি ভারতের। আদিল দারের ওই নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপের কল রেকর্ডস, মেসেজ সহ যাবতীয় তথ্য পেতে মার্কিন সরকারের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইমরান খানের সরকার।

ভারতের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ভারত বিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপের আঁতুড়ঘর পাকিস্তান। এই জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির প্রতি পাকিস্তান সরকার এবং সেনার প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানও সে অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে। ২৬/১১-র মুম্বই হামলা, পাঠানকোট সেনা ছাউনিতে জঙ্গি হানার পরও পাকিস্তানকে তথ্যপ্রমাণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একই ভাবে ইসলামাবাদ অস্বীকার করে এসেছে। মুম্বই হামলায় ধরা পড়া জঙ্গি আজমল কাসভ যে পাকিস্তানের নাগরিক, সেটাও স্বীকার করা হয়নি। ফলে কূটনৈতিক শিবিরের ব্যাখ্যা, পুলওয়ামার দায় পাকিস্তানের অস্বীকার করার মধ্যে নতুনত্ব কিছু নেই। বরং প্রত্যাশিতই ছিল।

Pulwama Terror Attack Pakistan Jaish-e-Mohammed Imran Khan
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy