টানা দু’দিন ধরে আগুন জ্বলছিল পাকিস্তানে করাচির শপিং মলে। শেষমেশ সোমবার সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গিয়েছে। পুড়ে যাওয়া শপিং মল থেকে এখনও পর্যন্ত ৭০ জনের ঝলসানো দেহ কিংবা দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছে। এখনও অনেকে নিখোঁজ। তাঁদের খোঁজে ধ্বংসাবশেষ হাতড়ে চলেছেন উদ্ধারকারীরা।
আগুন পুরোপুরি নেবার পর মৃত ও নিখোঁজদের খোঁজে পুড়ে যাওয়া গুল প্লাজ়া শপিং মলে তল্লাশি শুরু করেছেন দমকলকর্মীরা। মঙ্গলবারও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে। পুলিশ সূত্রে খবর, নিখোঁজদের বেশির ভাগই মারা গিয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ হাতড়ে ঝলসানো দেহগুলি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। রেসকিউ ১১২২ দলের তরফে রিজওয়ান আহমেদ জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর তিন দিন পেরিয়ে গিয়েছে। প্রথমে ২১ জনের দেহ পাওয়া যায়। পরে আরও দেহাবশেষ সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এখনও পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৭০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
আরও পড়ুন:
সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন সূত্রে খবর, গত এক দশকে করাচিতে এত বড় অগ্নিকাণ্ড আর কখনও ঘটেনি। শনিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ করাচির এমএ জিন্না রোডের ওই শপিং মলে প্রথম আগুন লাগে। আগুন দ্রুত গোটা বহুতলে ছড়িয়ে পড়ে। গুল প্লাজ়ায় মোট ১,২০০টি দোকান ছিল। ভিতরে ছিলেন বহু মানুষ। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় দমকল। কিন্তু তত ক্ষণে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। ২৪ ঘণ্টার চেষ্টাতেও আগুন নেবাতে পারেননি দমকলকর্মীরা। রবিবার গভীর রাতে কোনও মতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে তার পরেও শপিং মলের বিভিন্ন অংশে বিক্ষিপ্ত ভাবে আগুন জ্বলছিল।
কোসর বানো নামে এক মহিলা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারের ছ’জন সদস্য বিয়ের কেনাকাটা করতে শপিং মলে গিয়েছিলেন। শেষবার যখন ফোনে কথা হয়, তাঁরা বলেছিলেন আর মাত্র ১৫ মিনিটেই বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু ফেরেননি কেউই। বহুতল শপিং মল এখন পোড়া ভগ্নস্তূপ। দীর্ঘশ্বাস ফেলে কোসর বলেন, ‘‘এখন আমাদের একমাত্র আশা পোড়া হাত কিংবা আঙুল খুঁজে পাওয়া!’’