শান্তি স্থাপনের আলোচনার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কিকে মস্কোয় আমন্ত্রণ জানালেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে এ কথা জানানো হয়েছে। এখনও ইউক্রেনের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। আদৌ জ়েলেনস্কি এই আমন্ত্রণ রক্ষা করবেন কি না, স্পষ্ট নয়। তবে অনেকেই মনে করছেন, বরফ গলছে এবং আমেরিকার মধ্যস্থতাতেই তা সম্ভব হচ্ছে।
রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ দীর্ঘ দিনের। মাঝে সাময়িক বিরতির পর ২০২২ সাল থেকে ফের এই দুই দেশ যুদ্ধে রত। উভয়পক্ষের বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এই যুদ্ধে। অনেকের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই ইউরোপের সবচেয়ে বড় এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ। আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই ঘোষণা করেছিলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ তিনি থামিয়ে দেবেন। একাধিক বার জ়েলেনস্কি এবং পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কিন্তু সাফল্য মেলেনি। তার জন্য হতাশাও চেপে রাখেননি ট্রাম্প। তবে অবশেষে তিনি সফল হতে চলেছেন বলে মত পর্যবেক্ষকদের।
আরও পড়ুন:
গত সপ্তাহেই আমেরিকার মধ্যস্থতায় আবু ধাবিতে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসেছিলেন। রবিবার আবার দ্বিতীয় দফার আলোচনা হওয়ার কথা। যুদ্ধ না-করে কী ভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়, উভয়পক্ষের দাবি কতটা মেনে নেওয়া যায়, বৈঠকে সেই আলোচনা হয়েছে। প্রথম বৈঠকের পরেই কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল, রাশিয়া এবং ইউক্রেন সুর নরম করেছে। পরস্পরের বিরুদ্ধে কোনও জ্বালানিকেন্দ্রে আর হামলা না-করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকারি ভাবে এই গুজবের সত্যতা কোনও পক্ষ স্বীকার করেনি। মঙ্গলবার ট্রাম্প কেবল বলেছিলেন, ‘‘সমঝোতার প্রক্রিয়ায় খুব ভাল কিছু জিনিস হচ্ছে।’’ কী জিনিসি, তা তিনি খোলসা করেননি। ফলে জল্পনা আরও বাড়ে। তার মধ্যেই ক্রেমলিন জানিয়ে দিল, শান্তি সংক্রান্ত আলোচনার জন্য মস্কোয় জ়েলেনস্কিকে আহ্বান জানিয়েছেন পুতিন।