বাংলাদেশের কুমিল্লায় রেললাইনের ক্রসিংয়ে উঠে পড়া বাসে ধাক্কা মারল দ্রুতগতির ট্রেন। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেল ট্রেন ধাক্কা মারে বাসটিতে। দুর্ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন ১২ জন। আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ১০ জন। প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে, রেলগেটটি সম্ভবত খোলা ছিল। সেই কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। মোট তিনটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। এর মধ্যে দু’টি তদন্ত কমিটি গড়েছেন বাংলাদেশ রেল কর্তৃপক্ষ। কুমিল্লা জেলা প্রশাসনও ইতিমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ইতিমধ্যে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। তিনি বলেন, “সম্ভবত গেটটা খোলা ছিল। ফলে বাসচালক বাস নিয়ে ট্রেনলাইনে উঠে পড়েছিলেন। সেই কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।”
প্রাথমিক অনুসন্ধানে ওই রেল ক্রসিংয়ের কর্তব্যরত গেটম্যানদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে দুই গেটম্যান হেলাল উদ্দিন এবং মেহেদী হাসানকে বরখাস্ত করেছেন রেল কর্তৃপক্ষ। সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’ জানাচ্ছে, তাঁদের কর্তব্যে অবহেলা ছিল বলে প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছেন কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদও রবিবার দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। নিহতদের পরিবারকে রেলের তরফে ১ লক্ষ টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রায়) ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি কুমিল্লা জেলা প্রশাসনও নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।
শনিবার রাতের এই দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যে কড়া পদক্ষেপের কথা ভাবছে বাংলাদেশের প্রশাসন। রেল প্রতিমন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনার নেপথ্যে যাঁদের গাফিলতি ধরা পড়বে, প্রত্যেকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে। যে রেলগেটগুলি এখনও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে, সেগুলিতেও ওভারপাস বা আন্ডারপাস বসানোর পরিকল্পনা করছে রেল।