Advertisement
E-Paper

এ কেমন পোশাক! আমেরিকায় স্কুলে হেনস্থা করা হল ছাত্রীকে  

সোমবার সকালে স্কুলে যাওয়ার সময়ে ১৭ বছরের লিজ়ি মার্টিনেজ় খেয়াল করে, অন্তর্বাস পরতে গেলে পিঠের ফোস্কায় খুব লাগছে। শালীনতা বজায় রেখে কী পোশাক পরা যায় ভাবতে ভাবতে লিজি বেছে নিয়েছিল গাঢ় ছাই রঙা, গোল গলা, পুরো হাতা, ঢোলাঢালা একটা টি-শার্ট।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০১৮ ০২:৪১
লিজ়ি মার্টিনেজ়

লিজ়ি মার্টিনেজ়

পরপর কয়েক দিন সাঁতার কেটে আর রোদ পুইয়ে পিঠে ফোস্কা পড়ে গিয়েছিল। সোমবার সকালে স্কুলে যাওয়ার সময়ে ১৭ বছরের লিজ়ি মার্টিনেজ় খেয়াল করে, অন্তর্বাস পরতে গেলে পিঠের ফোস্কায় খুব লাগছে। শালীনতা বজায় রেখে কী পোশাক পরা যায় ভাবতে ভাবতে লিজি বেছে নিয়েছিল গাঢ় ছাই রঙা, গোল গলা, পুরো হাতা, ঢোলাঢালা একটা টি-শার্ট।

মার্কিন মুলুকে ফ্লরিডার এক শহর অরল্যান্ডো। সেখানকার ব্রেডেন রিভার হাইস্কুলের ছাত্রী লিজ়ি। সে দিন প্রথম পিরিয়ডের সবে মিনিট পনেরো হয়েছে। ক্লাসের মধ্যেই লিজ়িকে ডেকে পাঠান প্রধানশিক্ষিকা শ্যারন স্কারব্রো। তাঁর ঘরে গিয়ে লিজ়ি দেখে, বসে রয়েছেন আরও এক জন— স্কুলের ডিন ভায়োলেটা ভেলাজ়কুয়েজ়। তাঁরা লিজ়িকে সটান জিজ্ঞাসা করেন, ‘‘অন্তর্বাস পরে স্কুলে আসোনি কেন?’’ লিজ়ি তাঁদের রোদ-ফোস্কার কথা বলে। কিন্তু শিক্ষিকারা দাবি করেন, স্কুলের পোশাক বিধি মান্য করছে না লিজ়ি। ‘‘এখনই টি শার্টের তলায় একটা ভেস্ট পরে ফেলো,’’ কড়া হুকুম জারি করেন তাঁরা। আরও বলেন, ‘‘দেখছ না, ছেলেরা তোমার দিকে কেমন তাকিয়ে হাসছে!’’

‘‘আমার তখন চোখ ফেটে জল আসছে,’’ বলছিল লিজ়ি। ‘‘কোনও ছেলে আমার দিকে তাকিয়ে দেখছে, এক বারও মনে হয়নি। শিক্ষিকাদের কথা তাই বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছিল না।’’ কিন্তু স্কুলের নিয়মকানুন খুব কড়া। তাই শিক্ষিকাদের সঙ্গে তর্ক করতে চায়নি মেয়েটি। স্কুলের লকারে একটি ভেস্ট রাখা ছিল। সেটাই পরে নেয় সে।

কিন্তু গল্পের তখনও অনেকটা বাকি ছিল। লিজ়িকে বলা হয়েছিল, টি-শার্টের নীচে ভেস্ট পরে সে যেন প্রধানশিক্ষিকাকে এসে দেখিয়ে যায়। ‘‘গিয়ে দেখি, শ্যারন চলে গিয়েছেন। ঘরে রয়েছেন শুধু ভায়োলেটা। তিনি আমায় বলেন, হেঁটে দেখাও।’’

লিজ়ির কথায়, ‘‘হেঁটে দেখাও? হেঁটে কী দেখাব? আমি তো শুনে তাজ্জব বনে গেলাম।’’ যে-ই সে একটু হেঁটেছে, ডিন লিজ়িকে বলেন— ‘‘দেখেছ, এখনও কী বাজে লাগছে! দাঁড়াও, আমার হাতে একটা উপায় রয়েছে।’’ এই বলে তিনিই স্কুলের ক্লিনিকে নিয়ে যান লিজ়িকে। তারপর জামা খুলে তার স্তনবৃন্তের উপর আঠাওয়ালা ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দেন। লিজ়ি বলে, ‘‘মিনিট পঁয়তাল্লিশ এ ভাবেই ক্লাস করি। কিন্তু ভীষণ অস্বস্তি হচ্ছিল।’’ এক বন্ধুকে নিয়ে বাথরুমে যায় লিজ়ি। অনেক কষ্টে বড় বড় ব্যান্ডেজ খোলে। তারপর সব কিছু জানিয়ে মেসেজ করে মাকে।

লিজ়ির মা ক্যারি পেশায় সেবিকা। সে সময়ে হাসপাতালে ছিলেন তিনি। মেসেজ পেয়ে তিনিও হতভম্ব হয়ে যান। তাঁর কথায়, ‘‘লিজ়ি যদি অন্তর্বাস ছাড়া কোনও সি-থ্রু বা খুব আঁটোসাঁটো পোশাক পরত, আমি-ই ওকে ওই পোশাকে স্কুলে যেতে দিতাম না। কিন্তু ওর পোশাক তো যথেষ্ট শালীন ছিল।’’

কয়েক দিন পরে কিঞ্চিৎ ধাতস্থ হয়ে লিজ়ি সব কিছু জানায় বন্ধুদের। স্কুলের নিয়মকানুনের পুস্তিকাও খুঁটিয়ে পড়ে। দেখে, ‘শালীন পোশাক’-এর অনুচ্ছেদে কোথাও লেখা নেই যে মেয়েদের অন্তর্বাস পরেই স্কুলে আসতে হবে। সে দিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে টুইটও করেছিল লিজ়ি। ভাইরাল হয় লিজির সেই টুইট। চাপের মুখে স্কুল কর্তৃপক্ষ একটি বিবৃতি জারি করে শুধু বলেন, ‘‘অন্য ভাবে হয়তো বিষয়টির সমাধান করা যেত।’’ প্রতিবাদে এক দিন স্কুলে অন্তর্বাস না-পরে গিয়েছিলেন লিজ়ির জনা ত্রিশেক সহপাঠিনী। তাঁদের হাতে পোস্টার— ‘‘আমার শরীর কি আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলছে?’’

School Dress Code Bra Student Harassed Braden River High School
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy