Advertisement
E-Paper

বাংলাদেশে সুপ্রিম কোর্টের তলব ২ মন্ত্রীকে, অবমাননার রুল জারি

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে তির্যক মন্তব্য করা ও বিচারাধীন বিষয় নিয়ে মুখ খোলায় দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করল বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০১৬ ০৪:১৫

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে তির্যক মন্তব্য করা ও বিচারাধীন বিষয় নিয়ে মুখ খোলায় দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করল বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট।

এ দিন সর্বোচ্চ আদালতের কাজ শুরু হওয়া মাত্র আপিল বিভাগের ন’জন বিচারপতির ফুল বেঞ্চ বসে এই সিদ্ধান্ত নেয়। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে সমনও জারি করা হয়েছে। ১৫ মার্চ দুই মন্ত্রীকে আদালতে হাজির হয়ে তাদের আচরণের ব্যাখ্যা দিয়ে বলতে হবে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে মামলা
শুরু হবে না।

আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতের প্রাণদণ্ডের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিলেন জামাত নেতা মীর কাসেম আলি। এই মামলায় শুনানির সময়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্রকুমার সিন্হা সরকারি আইনজীবীদের বলেন, তাঁরা যাথাযথ যুক্তি উপস্থাপনের পরিবর্তে রাজনীতি করছেন। তাঁর এই মন্তব্যের পরে শনিবার ঢাকার একটি আলোচনা সভায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল বলেন, প্রধান বিচারপতি জামাত-বিএনপির সুরে কথা বলছেন। প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে নতুন বেঞ্চ গড়ে মামলার পুনর্বিচারের দাবিও জানান খাদ্যমন্ত্রী।

কারণ তাঁর অভিযোগ— প্রধান বিচারপতির মন্তব্যে এটা স্পষ্ট হয়েছে, মীর কাসেমের প্রাণদণ্ড হয়তো বহাল থাকছে না। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীও বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার থেকে প্রধান বিচারপতির সরে আসা উচিত।

সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাফ বলে দেন, মন্ত্রীদের ‘যা খুশি’ বলার দায় সরকার নেবে না। প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুই মন্ত্রীর মন্তব্যে সরকার বিব্রত হয়েছে, সরকারের প্রধান হিসেবে তিনিও বিরক্ত। ক্রুদ্ধ হাসিনা বলেন, ‘‘কেউ যদি যা খুশি বলবেন ভাবেন, আগে মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিন। তার পরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যা মন চায় বলুন।’’

এ দিন আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চে আলোচনার পরে প্রধান বিচারপতি সিন্হা বলেছেন, ‘‘সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত কিছু খবর আমাদের নজরে এসেছে, যা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি অশোভনীয় ও অবমাননাকর।
এ’টি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে মনে করে আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে এ’টি সুপ্রিম কোর্ট ও প্রধান বিচারপতির কর্তৃত্বকে ক্ষুণ্ণ করার প্রচেষ্টা।’’

যে মামলাটি নিয়ে দুই মন্ত্রীর সন্দেহ প্রকাশ, এ দিনই তার রায় বেরিয়েছে। তাতে জামাত নেতা মীর কাসেমের প্রাণদণ্ড বহালই রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে জানিয়েছেন, আদালতে হাজিরার জন্য তিনি সময় চাইবেন। কারণ সরকারি কাজে তিনি মালয়েশিয়া যাচ্ছেন।

শাসক দল আওয়ামি লিগের মুখপাত্র মাহবুবুল আলম হানিফ এ দিন বিবৃতিতে বলেছেন, প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুই মন্ত্রীর অবিবেচক মন্তব্যে দেশের সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে। দল তাঁদের মন্তব্যের দায় নিচ্ছে না। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও বলেছেন, বিচারাধীন বিষয়ে আলটপকা মন্তব্য করে দুই মন্ত্রী ভুল কাজ করেছেন। এর ফলে বিচার বিভাগেরও মর্যাদাহানি হয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy