সমকামী হওয়াটাই তাঁদের কাছে ঈশ্বরের দেওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার। জন্মসূত্রে পাওয়া সেই উপহার নিয়ে কোনও লুকোছাপাও করতে নারাজ প্রবাদপ্রতিম দুই ব্যক্তি। ধর্ম ও সমাজের বেড়াজাল ডিঙিয়ে আজ সমানাধিকার আর গর্ববোধের কথা বলে বিশ্বের তামাম সমকামীর পাশে দাঁড়ালেন তাঁরা। এক জন ব্রিটিশ গায়ক এলটন জন। অন্য জন অ্যাপল সংস্থার সিইও টিম কুক।
আমেরিকার একটি ম্যাগাজিনের উত্তর-সম্পাদকীয়তে আজ টিম তাঁর সমকামী হওয়ার কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, “সমকামী বলে আমার গর্ববোধ হয়। এটাই ঈশ্বরের দেওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার।” এই প্রথম ছাপার অক্ষরে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কথা বললেন টিম। লিখলেন, “আমি সব সময়েই আমার সমকামী হওয়ার কথা স্বীকার করেছি। আমার অনেক সহকর্মীই জানেন সে কথা। তাতে আমার প্রতি ওঁদের ব্যবহার কোনও ভাবে পাল্টায়নি।” তবে সকলে যে কর্মক্ষেত্রে তাঁর মতো সৌভাগ্যবান হন না, সে কথাও উল্লেখ করেছেন কুক। জানিয়েছেন, আগে কখনও প্রকাশ্যে নিজের সমকামী হওয়ার কথা বলার প্রয়োজন অনুভব করেননি। তবে এ বার সকলের সামনে স্পষ্ট করে বলতে চান, সমকামী হয়ে তিনি গর্বিত!
আজই নিউ ইয়র্কের ম্যানহ্যাটনের একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে সমকামী মানুষদের গির্জায় প্রবেশাধিকার দেওয়ার জন্য পোপ ফ্রান্সিসকে ‘হিরো’ বলে সম্বোধন করেছেন ব্রিটিশ গায়ক এলটন জন। সমকামী মানুষদের ধর্মীয় ও সামাজিক সমানাধিকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিবাদন জানান পোপকে। এলটন জনের প্রতিষ্ঠা করা এইডস ফাউন্ডেশনের ১৩তম বার্ষিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে এই রকস্টারের বার্তা, “এত দিন সমকামীদের ক্যাথলিক গির্জায় প্রবেশাধিকার পর্যন্ত দেওয়া হতো না। তবে সম্প্রতি ধর্মস্থানেও সমানাধিকারের পক্ষ সমর্থন করেছেন পোপ। তিনি আমাদের হিরো।” এলটন অবশ্য বহু আগেই নিজের সমকামী হওয়ার কথা স্বীকার করে শিরোনামে উঠেছিলেন। ১৯৮৮ সালে বিবাহবিচ্ছেদের পর ‘রোলিং স্টোন’-এর একটি সাক্ষাৎকারে জন নিজেই বলেছিলেন, “সমকামী হিসেবেই আমি বেশি স্বচ্ছন্দ।” তাঁকে ঘিরে বিতর্কের শুরু সেই সময় থেকেই। কোনও রাখঢাক না রেখেই তিনি একাধিক সমকামী সম্পর্কে জড়িয়েছেন। সে কথা স্বীকারও করেছেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই এড্স-প্রচারে সংস্থাও তৈরি করেছেন। আজ ম্যানহাটনের মঞ্চে সমকামী মানুষদের সমানাধিকারের পাশাপাশি এড্স আক্রান্তদের অধিকারের প্রসঙ্গও তুলে এনেছেন। তাঁর কথায়, “যে সব বিষয় নিয়ে ধর্ম আমাদের কথা বলতে দিত না, সেই সমকাম বা এইচআইভি-র মতো বিষয়গুলি নিয়ে কথাবার্তা এবং আলোচনার চেষ্টা করছেন পোপ। ওঁকে সাধুবাদ জানাই।”
প্রসঙ্গত, সমকাম, গর্ভপাত, বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্কের মতো বিষয়গুলি নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করার ডাক দিয়ে সম্প্রতি ভ্যাটিকানে এক আলোচনাসভার আয়োজন করেন পোপ ফ্রান্সিস। ধর্ম যে কিছুতেই মানুষবিরোধী হতে পারে না, সে কথা জানিয়ে যাজকদের কাছে নতুন ভাবে চিন্তা করার আর্জি জানান পোপ। রুদ্ধদ্বার সেই আলোচনাসভা আশার আলোও দেখিয়েছে। ভ্যাটিকানের মাটিতেই যাজকেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সমকামীদের সমানাধিকার দেওয়ার। সম্প্রতি আর্জেন্টিনা সফরে গিয়ে জনসমক্ষ্যে এক সমকামী দম্পতির সন্তানকে দীক্ষিতও করেছিলেন পোপ ফ্রান্সিস। একটা কথা না বলেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, মানুষের ইচ্ছেতেই সম্মতি রয়েছে তাঁর।
আর আজ সেই ঈশ্বরের উপহারেই আস্থা রাখলেন তরুণ প্রজন্মের দুই ‘আইডল’।