দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইকে হত্যার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি। আগাম জানিয়ে রাখলেন, মূল্য চোকাতে হবে ট্রাম্পকে। অন্য দিকে, তেহরানের তেলক্ষেত্রে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। তার জেরে বিষ-বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
শনিবার রাতে (ইরানের সময়) তেহরানের বেশ কয়েকটি তৈলক্ষেত্রে হামলা চালায় ইজ়রায়েল। তার পরেই আকাশে আগুনের গোলা, ধোঁয়া দেখা গিয়েছে। বিস্ফোরণের শব্দে শুধু তেহরান নয়, পাশের শহর করাজও কেঁপে উঠেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা চালাচ্ছে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা। শনিবারই প্রথম সেখানকার বিদ্যুৎ পরিকাঠামোয় হামলায় চালানো হয়েছে। তার আগে মূলত ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব, নিরাপত্তা বাহিনী, থানা, নৌঘাঁটি লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছিল দুই দেশ। সেই সঙ্গে ইরান যাতে আর পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেই চেষ্টারও কসুর করেনি ইজ়রায়েল, আমেরিকা। সে দেশের পরমাণু কেন্দ্র লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র হানা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
তেহরানের জ্বালানি ক্ষেত্রে শনিবার রাতে হামলায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফারস নিউজ এজেন্সি। তাঁরা চার জনই ছিলেন ট্যাঙ্কারের চালক। ওই সংবাদমাধ্যমের দাবি, তেহরান এবং আরবোরজ় প্রদেশের মোট চারটি তেল ভান্ডার এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য কেন্দ্রে ইজ়রায়েল হামলা চালিয়েছে। তবে ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, এর ফলে জ্বালানির ঘাটতি হয়নি দেশে। যদিও তেহরানের গভর্নর নাগরিকদের জ্বালানি দেওয়ার কোটা কমিয়ে দিয়েছেন। আগে সরকারের দেওয়া কার্ড থাকলে প্রত্যেক নাগরিক দিনে ৩০ লিটার তেল পেতেন। এখন তা কমিয়ে ২০ লিটার করা হয়েছে।
এর মধ্যেই ইরানের মানবাধিকার সংগঠন রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, তেল ভান্ডারে বিস্ফোরণের কারণে বিষ-বৃষ্টি হতে পারে। নাগরিকদের সাবধান করেছে তারা। এই বৃষ্টি গায়ে লাগলে ত্বকে রাসায়নিক দহন হতে পারে। ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে। বিস্ফোরণের পরে বৃষ্টি হলে নাগরিকদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে ওই সংগঠন। বাইরে থাকলে বৃষ্টি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ছাদের নীচে আশ্রয় নিতে হবে। গায়ে বৃষ্টির জল লাগলে ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
এ দিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান যখন সুর নরম করেছিলেন, তখনই সে দেশের নিরাপত্তা প্রধান, খামেনেই-ঘনিষ্ঠ লারিজানি এক্স অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘আমাদের নেতা এবং আমাদের মানুষের রক্তের প্রতিশোধ আমরা নেব। ট্রাম্পকে মূল্য চোকাতেই হবে, তিনি চোকাবেন।’ ট্রাম্প যদিও সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুঁশিয়ারি উড়িয়ে জানান, তিনি লারিজানিকে চেনেন না। তিনি কী নিয়ে কথা বলছেন, তা-ও জানেন না। তার পরেই বলেন, ‘‘ইরানে হামলা চলবে, যত ক্ষণ না তারা নিঃশর্তে আত্মসমর্পণ করছে।’’