ভেনেজ়ুয়েলার ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি। প্রকারান্তরে ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে একনায়ক বললেন। একই সঙ্গে ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিলেন আমেরিকার পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন তিনি। জ়েলেনস্কি বলেন, “এর পর (ভেনেজ়ুয়েলার ঘটনার পর) কী করতে হবে, আমেরিকা তা জানে।” এই কথা বলে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শনিবার ইউরোপের দেশগুলির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন জ়েলেনস্কি। বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যম তাঁকে ভেনেজ়ুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করে। মৃদু হেসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি এই বিষয়ে কী বলব? আমি কি বলতে পারি?” তার পরেই অবশ্য আড়ষ্টতা কাটিয়ে জ়েলেনস্কি বলেন, “যদি এ ভাবে (ভেনেজ়ুয়েলার মতো) একনায়কদের মোকাবিলা করা যায়, তা হলে আমেরিকাও জানে যে, এর পরে কী করতে হবে।”
ভেনেজ়ুয়েলায় ঢুকে সে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করেছে আমেরিকান বাহিনী। শনিবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজ়ুয়েলায় সামরিক অভিযান এবং সস্ত্রীক মাদুরোকে অপহরণের কথা ঘোষণা করেন। শোয়ার ঘর থেকে ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। হেলিকপ্টারে চাপিয়ে প্রথমে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় মার্কিন জাহাজে। তার পর সেখান থেকে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় নিউ ইয়র্কে। রবিবার সকালে (ভারতীয় সময়) ব্রুকলিনের ডিটেনশন ক্যাম্পে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করেছে আমেরিকা। হোয়াইট হাউস থেকে সেই ফুটেজও প্রকাশ করা হয়েছে। বন্দি হওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় মাদুরো বলেছেন পাঁচটি শব্দ— ‘‘গুড নাইট। হ্যাপি নিউ ইয়ার।’’ ইতিমধ্যেই মার্কিন পদক্ষেপের নিন্দায় সরব হয়েছে চিন, রাশিয়া, ইরান, কিউবার মতো দেশগুলি।