ছোটো নৌকায় বঙ্গোপসাগর পেরোতে গিয়ে গত বছরে অন্তত ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী জলে ডুবে মারা গিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন! রাষ্ট্রপুঞ্জের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ‘ইউনাইটেড নেশনস হাই কমিশনার ফর রিফিউজিস’ (ইউএনএইচসিআর) শুক্রবার এ কথা জানিয়েছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর মুখপাত্র বাবর বালোচ শুক্রবার জেনিভায় সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘‘গত এক দশকে পাঁচ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী এ ভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২৫ সাল সমুদ্রপথে রোহিঙ্গাদের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর ও প্রাণঘাতী বছর। গত বছর বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ৬ ৫০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা। তাঁদের মধ্যে প্রতি সাত জনে এক জন নিখোঁজ বা মারা গিয়েছেন।’’
আরও পড়ুন:
চলতি বছরেও মায়নমার থেকে বাংলাদেশে গিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অভিমুখে যাত্রা করা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত আছে বলেও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘গত ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে ২৮০০-এর বেশি রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করেছেন। কয়েক দিন আগে বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ২৮০ যাত্রী নিয়ে রওনা হওয়া ট্রলার ডুবে এখনও ২৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উত্তাল সমুদ্র ও অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই হওয়ার কারণে ট্রলারটি ডুবে গিয়েছিল।’’
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সাল থেকে বেশ কয়েক দফায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ানমার সেনার বিরুদ্ধে। সে সময় মায়ানমারের গণতন্ত্রকামী নেত্রী আউং সান সু চি-র দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি ক্ষমতায় ছিল। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের পর সু চি-সহ মায়ানমারের অধিকাংশ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি গৃহবন্দি হন। অনেকে দেশ ছেড়ে পালান। জুন্টা জমানাতেও রোহিঙ্গারা ধারাবাহিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ। কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলিতে রয়েছেন। চট্টগ্রাম ডিভিশনের বিভিন্ন সৈকত থেকে ছোট জলযানে তাঁরা নিয়মিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে যাওয়ার চেষ্টা চালান।’’