Advertisement
E-Paper

রাশিয়া, চিন-সহ চার দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রাখা চলবে না! ভেনেজ়ুয়েলাকে চাপ ট্রাম্পদের, লক্ষ্য কি একচেটিয়া আধিপত্য?

ভেনেজ়ুয়েলার মাটিতে কিউবা, রাশিয়া, চিন এবং ইরানের গুপ্তচরেরা রয়েছেন বলে সন্দেহ আমেরিকার। তাদের ভেনেজ়ুয়েলা থেকে তাড়াতে হবে। সূত্রের খবর, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কাছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৩৩
(বাঁ দিক থেকে) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

(বাঁ দিক থেকে) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। — ফাইল চিত্র।

চার দেশের সঙ্গে ভেনেজ়ুয়েলার ঘনিষ্ঠতা একে বারেই পছন্দ করছে না আমেরিকা। সূত্রের দাবি, ওই চার দেশের সঙ্গে ভেনেজ়ুয়েলার ঘনিষ্ঠতা বন্ধ করতে চায় তারা। তালিকায় রয়েছে চিন, রাশিয়া, কিউবা এবং ইরান। জানা যাচ্ছে, অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রোড্রিগেজ়কে ইতিমধ্যে তা স্পষ্ট করে দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

ভেনেজ়ুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রশাসনকে বকলমে আমেরিকা নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে, এমন আভাস আগেই মিলেছিল। এ বার তা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ট্রাম্প সরকারের কী কী দাবি, তা ইতিমধ্যে ভেনেজ়ুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রোড্রিগেজ়ের কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। পরে গত সোমবার এ বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করেন তিনি। রোড্রিগেজ়ের কাছে কী কী দাবি করা হয়েছে, তা-ও উঠে এসেছে ওই বৈঠকে।

‘নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স’ জানাচ্ছে, ভেনেজ়ুয়েলার মাটিতে কিউবা, রাশিয়া, চিন এবং ইরানের গুপ্তচরেরা রয়েছেন বলে সন্দেহ আমেরিকার। ওই চার দেশের সব গুপ্তচর এবং সামরিক আধিকারিকদের ভেনেজ়ুয়েলা থেকে তাড়াতে হবে— রোড্রিগেজ়ের কাছে তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই দেশগুলির শুধুমাত্র হাতে গোনা কিছু কূটনীতিককেই ভেনেজ়ুয়েলায় থাকতে দেওয়া যেতে পারে। ভেনেজ়ুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টকে এমনটাই জানিয়ে দিয়েছেন রুবিয়ো।

ভেনেজ়ুয়েলার তেলের বিষয়েও নিজেদের দাবি রোড্রিগেজ়ের কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছেন রুবিয়ো। ভেনেজ়ুয়েলা বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তৈলভান্ডার। এই দেশের সংরক্ষণে রয়েছে ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল তেল। সূত্রের দাবি, রোড্রিগেজ়ের সঙ্গে আলোচনার সময়ে রুবিয়ো স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে ফের বাণিজ্য শুরু করতে হবে ভেনেজ়ুয়েলাকে। এই দাবি অবশ্য ট্রাম্প নিজেই প্রকাশ্যে করেছেন। এ ক্ষেত্রে মার্কিন সংস্থাগুলিকে আবার ভেনেজ়ুয়েলায় ঢুকতে দিতে হবে। তার জন্য ভেনেজ়ুয়েলাকে জ্বালানি তেলের বিষয়ে নিজেদের জাতীয়করণ নীতি বদলাতে হতে পারে, বা ওই নীতি শিথিল করতে হবে পারে।

আধিকারিক সূত্রে একই দাবি করেছে ‘এবিসি নিউজ়’ও। সঙ্গে আরও দাবি করা হচ্ছে, শুধু ওই চার দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কও ছিন্ন করার জন্য ভেনেজ়ুয়েলার উপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আমেরিকার সঙ্গেই তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখতে হবে, এমন দাবিও করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। আমেরিকাকে তেল বিক্রি করার সময়ে মার্কিন সংস্থাগুলি যাতে সুবিধা পায়, সেই দাবিও রাখা হয়েছে।

ভেনেজ়ুয়েলা থেকে তেল কেনার বিষয়ে ইতিমধ্যে ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেছেন ট্রাম্প। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের দাবি, ভেনেজ়ুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রশাসন আমেরিকাকে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল ‘উচ্চমানের’ তেল দেবে, যা বিক্রি হবে বাজারমূল্যে! তিনি এ-ও ঘোষণা করেন, তেল বিক্রি করে যা টাকা আসবে, তার নিয়ন্ত্রণ থাকবে তাঁর হাতে।

ট্রাম্পের নয়া দাবির পর অনেকে মনে করছেন, ভেনেজ়ুয়েলার তৈলভান্ডারের ‘দখলই’ মার্কিন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। ট্রাম্পের নজর আসলে রয়েছে ভেনেজ়ুয়েলার বিপুল তৈলভান্ডারে। আর সেই কারণে ভেনেজ়ুয়েলায় সাম্প্রতিক অভিযান মার্কিন সেনার। ভেনেজ়ুয়েলার গদিতে নিকোলাস মাদুরো থাকলে তা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই তাঁকে তুলে এনে বন্দি করা হয়েছে। মাদুরোকে সরিয়ে আসলে তা অধিগ্রহণ করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভেনেজ়ুয়েলার কুর্সিতে আপাতত তিনি এমন একজনকে চাইছেন, যিনি আমেরিকার ‘হাতের পুতুল’ হবেন। সেই সুযোগেই দেশটির তৈলভান্ডারে অবাধে রাজত্ব করতে চায় ওয়াশিংটন। যদিও প্রথম থেকেই আমেরিকা সেই দাবি নস্যাৎ করছে।

গত শনিবার ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সামরিক অভিযান চালায় মার্কিন সেনা। নেতৃত্বে ছিল আমেরিকার ডেল্টা ফোর্সের কমান্ডো বাহিনী। ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তাঁরই প্রাসাদ থেকে সস্ত্রীক অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় আমেরিকায়। জানা যাচ্ছে, ওই ঘটনার পর পরই রোড্রিগেজ়কে ফোন করেন রুবিয়ো। তার পরেও বেশ কয়েক দফা কথা হয়েছে দু’জনের। তবে আমেরিকার দাবিগুলির বিষয়ে রুবিয়ো প্রথম ফোনালাপেই রোড্রিগেজ়কে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

venezuela Donald Trump USA
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy