শরীরের নিম্নাঙ্গে জমছে মেদ। পা, ঊরু, তলপেট, কোমর, নিতম্বে পরতে পরতে চর্বির স্তর জমা হচ্ছে। এবং তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এমন সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে ভারতীয় মহিলাদেরই। ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন’-এর তথ্য বলছে, ভারতীয় মহিলাদের শরীরের নিম্নাংশে মেদ জমার প্রবণতা বেশি। ওবেসিটি বা স্থূলতা একে ঠিক বলা যাবে না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় ‘লিপেডেমা’। কারও নিতম্ব ও ঊরুতে যতটা বেশি চর্বির স্তর জমে ততটা পেট বা দুই বাহুতে জমে না। পুরোটাই সামঞ্জস্যহীন ভাবে হয়। আর এই মেদ কমানোও খুব কষ্টকর। শরীরের গঠনই নষ্ট হয়ে যায়।
এমন মেদ কমাতে জিমে গিয়ে কার্ডিয়ো বা স্ট্রেংথ ট্রেনিং করার প্রয়োজন নেই। বরং সহজ যোগাসনেই সমস্যার সমাধান হবে। পঞ্চাশ পেরিয়ে যাঁরা লিপেডেমায় আক্রান্ত, তাঁদের জন্যও যোগাসনই সবচেয়ে সহজ উপায়। মেদ কমানোর নানা আসন আছে। তবে খুব তাড়াতাড়ি পেট, ঊরু ও নিতম্বের মেদ কমাতে চক্রপদাসন অভ্যাসে সুফল পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন:
কী ভাবে করবেন?
১) ম্যাটের উপর পা সোজা করে টানটান হয়ে শুয়ে পড়ুন। দুই হাত রাখুন পাশে।
২) এ বার বাঁ পা মাটিতে সোজা রেখে ডান পা মাটি থেকে ৩–৫ ইঞ্চি আন্দাজে উপরে তুলুন। হাঁটু মুড়লে হবে না। পা সোজা ও টানটান থাকবে।
৩) এর পর ঘড়ির কাঁটার দিক অনুযায়ী ডান পা ঘোরাতে হবে। চেষ্টা করুন ৫-৭ বার বড় বড় বৃত্তে পা ঘোরানোর। গোল গোল করে পা ঘোড়াতে হবে, গোড়ালি যেন মাটিতে না ঠেকে।
৪) পা নামিয়ে কয়েক সেকেন্ড বিশ্রাম নিন। আবারও একই উচ্চতায় ডান পা তুলে ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে একই ভাবে বৃত্তাকারে পা ঘোরাতে হবে। সেটিও ৫-৭ বার করুন।
৫) একই ভাবে ডান পা মাটিতে রেখে বাঁ পা তুলে একবার ঘড়ির কাঁটার দিকে ও পরে ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে বৃত্তাকারে পা ঘোরাতে হবে।
৬) আসনটি করার সময়ে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। প্রথমে ৫-৭ বার করে পা ঘোড়ানোর অভ্যাস করুন, তার পর দুই পায়েই ১০ বার করে আসনটি করতে হবে।
উপকারিতা:
পেটের মেদ কমবে, পেটের পেশি টানটান হবে।
ঊরু ও নিতম্বের চর্বি গলবে, সেখানকার পেশির জোর বাড়বে।