আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলি হামলায় কি ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পরমাণুকেন্দ্র? ছবিটা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজ়া নাজাফির দাবি, রবিবার ইজ়রায়েল-আমেরিকার যৌথ হামলায় ক্ষতি হয়েছে তাঁদের এক পরমাণুকেন্দ্রের। যদিও রাষ্ট্রপুঞ্জ নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) অন্য কথা বলেছে। আইএইএ-র প্রধান রাফায়েল গ্রোসি সংস্থার বোর্ড অফ গভর্নরকে জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ইরানের কোনও পরমাণুকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিহ্ন মেলেনি। তবে এ-ও স্পষ্ট করেছেন, বিষয়টি তাঁরা হালকা ভাবে নিচ্ছেন না। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
শনিবার থেকে ইরানে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা। সেই হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই। পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরানও। হামলা, পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। সেই পরিস্থিতিতে ইরানের পরমাণুকেন্দ্রগুলি অক্ষত রয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে অনেকের মনেই।
গ্রোসি জানিয়েছেন, আমেরিকা বা ইজ়রায়েল কেউই এখনও পর্যন্ত পরমাণুকেন্দ্রে হামলার বিষয় নিশ্চিত করেনি। তিনি এ-ও জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। তাঁরা ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর, রেজ়া আইএইএ-কে জানিয়েছেন ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইরানের পরমাণুকেন্দ্র। কোন পরমাণুকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা জানতে চাওয়া হলে ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘‘নাতান্জ়’’!
তেহরান থেকে ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ইরানের কেন্দ্রীয় মালভূমিতে রয়েছে নাতান্জ় পরমাণুকেন্দ্র। এই ঘাঁটির একটি বড় অংশ মাটির নীচে রয়েছে। বাকি অংশ রয়েছে মাটির উপরে। নাতান্জ় পরমাণুকেন্দ্রকে ইরানের ‘ইউরেনিয়াম বিশুদ্ধকরণের মুকুট’ বলা হয়। এই কেন্দ্রেও ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পরিশুদ্ধ করা যায়। এতে সামান্য তেজষ্ক্রিয় স্তরে পৌঁছোয় ইউরেনিয়াম, কিন্তু পরমাণু বোমা তৈরির জন্য তা যথেষ্ট নয়।
আরও পড়ুন:
গত বছর জুনে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল নাতান্জ়। শুধু ওই পরমাণুকেন্দ্রটি নয়, একই সঙ্গে ফোরডো এবং ইশফাহান পরমাণুকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছিল সে সময়। সেই হামলার বিষয় নিশ্চিত করেছিল আইএইএ। তবে সে সময় হামলার বিষয় প্রথমে অস্বীকার করেছিল ইরান। যদিও বিভিন্ন উপগ্রহচিত্র থেকে স্পষ্ট হয়েছিল হামলার বিষয়টি। ওই পরমাণুকেন্দ্রগুলিতে আঘাত হানা হলেও ততটা ক্ষতি হয়নি। প্রশ্ন উঠছে, এ বারও কি সেই নাতান্জ় পরমাণুকেন্দ্রকে নিশানা করল ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা?