আবার ক্যারিবিয়ান সাগরে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালাল মার্কিন সৈন্যবাহিনী। হামলায় মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। আমেরিকার দাবি, অভিযানের নিশানা ছিল মাদক পাচারকারী জাহাজ। গত কয়েক মাস ধরেই ক্যারিবিয়ান সাগর এবং পূর্ব প্রশান্ত মাহাসাগরে একের পর এক জাহাজে হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, মাদক পাচার রুখতে এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল। যদিও জাহাজে যে ‘মাদক পাচারকারীরাই’ ছিল, সেই নিয়ে উপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারেনি প্রশাসন। কারা ছিল, তা নিয়ে বিশদে কিছু জানানোও হয়নি মার্কিন সেনার তরফে।
আমেরিকার সাদার্ন কমান্ড সমাজমাধ্যমে দাবি করেছে, ‘ক্যারিবিয়ানে মাদক চোরাচালানের জন্য পরিচিত পথ ধরে চলছিল জাহাজটি। মাদক চোরাচালানের কাজ করছিল।’ মার্কিন সেনাবাহিনীর হামলায় তিন জন নিহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে তারা। সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়োও পোস্ট করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, সাগরে ভাসছিল একটি জাহাজ। আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে তাতে আগুন ধরে যায়।
পরিংসখ্যান বলছে, গত সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবিয়ান সাগর এবং পূর্ব প্রশান্ত সাগরে জাহাজ লক্ষ্য করে ৩৮টি হামলা চালিয়েছে আমেরিকার সেনাবাহিনী। তাতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৩৩ জন। আমেরিকা দাবি করেছে, সেই ভেসেল বা জাহাজগুলি মাদক পাচার করছিল।
আমেরিকার প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসিথ গত সপ্তাহে দাবি করেছেন, ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে সাম্প্রতিক হানার কারণে কিছু বড় মাদক পাচারকারী ওই অঞ্চলে অনির্দিষ্ট কালের জন্য চোরাচালান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সমাজমাধ্যমে এই দাবি করেছিলেন হেগসিথ। তবে দাবির সপক্ষে কোনও প্রমাণ দেননি তিনি।
আরও পড়ুন:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, লাতিন আমেরিকার মাদক পাচারকারীদের সঙ্গে ‘সশস্ত্র সংঘর্ষ’ হচ্ছে আমেরিকার। তাঁর দাবি, মাদক চোরাচালান রুখতে এই হামলা জরুরি ছিল। তবে ওই ভেসেলে যে মাদক পাচার হচ্ছিল, তার উপযুক্ত প্রমাণ এখনও দিতে পারেনি ট্রাম্পের প্রশাসন।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। ক্যারিবিয়ান সমুদ্রে ভেনেজ়ুয়েলার উপকণ্ঠে নৌসেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এমনকি, বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ জেনারেল ফোর্ডও ওই এলাকায় এনে রেখেছেন ট্রাম্প। ভেনেজ়ুয়েলার সরকারের বিরুদ্ধে আমেরিকায় মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়।