Advertisement
E-Paper

মঙ্গলবার দোহায় আমেরিকা-ইরান বৈঠক, ঘোষণা ট্রাম্পের! মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, তেহরানের অনুরোধেই আলোচনার সিদ্ধান্ত

সোমবার বিকেলে (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। যদিও দিনের শুরুতে ইরান জানায়, চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার কোনও সম্ভাবনা নেই।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ১৮:০৪
US President Donald Trump says peace talk with Iran to be held Tuesday in Doha

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।

প্রথম দফার শান্তি আলোচনা বসেছিল সুইৎজ়ারল্যান্ডের বারগেনস্টকে। মাঝে কয়েক দিন কাটার পর দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার শান্তিবৈঠক হবে কাতারের দোহায়। মঙ্গলবার সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তবে ওই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি হিসাবে কারা থাকবেন, তা খোলসা করেননি ট্রাম্প। যদিও বৈঠকের সম্ভাবনা আগে উড়িয়ে দিয়েছিল ইরান।

সোমবার বিকেলে (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘‘একটা বৈঠকের জন্য অনুরোধ করেছিল ইরান। সেই বৈঠক মঙ্গলবার (৩০ জুন) দোহায় অনুষ্ঠিত হবে।’’ তবে আদৌ সেই বৈঠক হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণার আগে ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছিলেন, এই সপ্তাহে কাতারে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কোনও পরিকল্পনা নেই।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছিল পেন্টাগন। পরে সেই যুদ্ধে যোগ দেয় ইজ়রায়েলও। পাল্টা হামলার পথে হাঁটে ইরান। পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরানের সেনাবাহিনী। অশান্ত হয়ে ওঠে পশ্চিম এশিয়া। একই সঙ্গে হরমুজ় প্রণালীও অবরুব্ধ হয়ে যায়। মাসখানেকের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলার পর আমেরিকা এবং ইরান, দু’পক্ষই সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়। কাতার এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে আলোচনায় বসে দুই দেশ।

গত ১৭ জুন যুদ্ধবিরতি সমঝোতা সংক্রান্ত ‘মউ’ সই হওয়ার পরে উত্তেজনার কিছুটা প্রশমন হয়। তবে গত চার দিনে বার বার অশান্ত হয়ে ওঠে পশ্চিম এশিয়া। গত বৃহস্পতিবার হরমুজ়ের কাছে ওমান উপকূলে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি জাহাজ আক্রান্ত হয়। আমেরিকার দাবি, ইরান ওই জাহাজে হামলা চালিয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে ইরান পাল্টা এই হামলার দায় চাপায় মার্কিন বাহিনীর উপর। আমেরিকা তার জবাবে ইরানের বেশ কিছু ঘাঁটি লক্ষ্য করে বোমা ফেলেছিল। পাল্টা পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিকে নিশানা করেছিল তেহরানও। কুয়েত এবং বাহরিনে তারা বোমাবর্ষণ করেছিল। শনিবার পর্যন্ত গোলাগুলি চলে। দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপের ‘খেলায়’ নেমেছে। চলছে বাগ্‌যুদ্ধও। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশই পরখ করে নিতে চাইছে বিপক্ষের ‘ক্ষমতা’। ছোটখাটো হামলার ঘটনা ঘটলে আমেরিকা বা ইরান, কেউই অদূর ভবিষ্যতে পুরোদমে যুদ্ধে নামতে চাইবে না। তবে নরমে-গরমে উত্তেজনা রেখে যেতে চাইছে দুই দেশই। অনেকের মতে, একে অপরের বিরুদ্ধে চাপ কৌশলের চেষ্টার অংশ। আপাতত দুই দেশ আবার সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে বলে দাবি করা হয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।

প্রশ্ন ছিল, নতুন করে দুই দেশের মধ্যে যে উত্তেজনা শুরু হয়, তার ফলে দ্বিতীয় দফার শান্তিবৈঠক আদৌ হবে কি? সেই জল্পনার মধ্যে প্রকাশ্যে আসে দ্বিতীয় দফার বৈঠক নিয়ে ট্রাম্পের দাবি। দুই দেশই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের পথে হাঁটতে না-চাওয়ার অর্থ কি সদার্থক আলোচনার ইঙ্গিত? বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা বা ইরান— দু’দেশই এই যুদ্ধে নিজেদের ‘জয়ী’ বলে দাবি করে আসছে। ভবিষ্যতেও একই দাবিতে অনড় থাকবে তারা। তবে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই দুই দেশ। এখন দেখার ট্রাম্পের দাবি মতো আদৌ মঙ্গলবার কোনও বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে কি না দোহায়।

US-Iran Conflict Peace Talks Donald Trump

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy