টানা চার দিনের হামলা-পাল্টা হামলার পর অবশেষে সংঘর্ষ থামাতে রাজি হয়েছে ইরান এবং আমেরিকার বাহিনী। মার্কিন আধিকারিককে উদ্ধৃত করে এমনটাই জানিয়েছে সে দেশের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিয়স। মঙ্গলবার কাতারে দুই দেশের প্রতিনিধিরা ফের আলোচনায় বসতে চলেছেন। স্বাক্ষরিত মউ-এর শর্ত অনুযায়ী হরমুজ় প্রণালী দিয়ে আপাতত বাধাহীন ভাবেই জাহাজ চলাচল করতে পারবে, জানিয়েছেন ওই মার্কিন আধিকারিক।
গত বৃহস্পতিবার হরমুজ়ের কাছে ওমান উপকূলে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি জাহাজ আক্রান্ত হয়। আমেরিকার দাবি, ইরান ওই জাহাজে হামলা চালিয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে ইরান এই হামলার দায় পাল্টা চাপায় মার্কিন বাহিনীর উপর। আমেরিকা তার জবাবে ইরানের বেশ কিছু ঘাঁটি লক্ষ্য করে বোমা ফেলেছিল। পাল্টা পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিকে নিশানা করেছিল তেহরানও। কুয়েত এবং বাহরিনে তারা বোমাবর্ষণ করেছিল। এই সংঘর্ষ চলেছে শনিবার পর্যন্ত। হরমুজ়ে পানামার পতাকাবাহী একটি তেলের ট্যাঙ্কারেও হামলা হয় এই সময়।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, এ ভাবে চলতে থাকলে সামরিক শক্তি ফের প্রয়োগ করতে বাধ্য হবে ওয়াশিংটন। সে ক্ষেত্রে ইরানের আর কোনও অস্তিত্বই থাকবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের সমালোচনা করে পাল্টা হুঁশিয়ারি দেয় তেহরানও। এই পরিস্থিতিতে কিছু দিন আগে স্বাক্ষরিত সংঘর্ষবিরতির চুক্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। যে কোনও দিন ফের পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তার মধ্যেই দু’পক্ষ সংঘর্ষ থামাতে রাজি হয়েছে বলে দাবি করল ওয়াশিংটন। মার্কিন আধিকারিকের কথায়, ‘‘মউ অনুযায়ী প্রযুক্তিগত আলোচনা চলছে। আপাতত দু’পক্ষই সংঘর্ষ থেকে সরে আসবে এবং জাহাজগুলি বিনা বাধায় যাতায়াত করতে পারবে।’’
আমেরিকা-ইরানের মধ্যে শান্তি স্থাপনে পাকিস্তানের সঙ্গে অন্যতম মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে কাতার। মঙ্গলবার সেখানেই দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসবেন। কারিগরি স্তরে সংঘর্ষবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আলোচনা হবে।
সংঘর্ষবিরতির অন্যতম শর্ত হিসাবে লেবাননে ইজ়রায়েলের আগ্রাসন বন্ধের দাবি জানিয়েছিল ইরান। গত শুক্রবার আমেরিকার মধ্যস্থতায় সংঘর্ষবিরতির একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর করে ইজ়রায়েল এবং লেবানন। তাতে বলা হয়েছিল, লেবানন থেকে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লাকে সরানো হবে এবং দেশের ভূখণ্ডে লেবাননের সেনার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। এই চুক্তির পরপরই শনিবার এবং রবিবার দক্ষিণ লেবাননে হিজ়বুল্লার ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠেছে ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে। এই সংঘর্ষ পশ্চিম এশিয়ার শান্তির পথে অন্যতম ‘কাঁটা’। মঙ্গলবার কাতারের বৈঠকে তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
‘আমাদের হাতে ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরানের অবস্থাও হত গাজ়ার মতো’! দাবি পেজ়শকিয়ানের, নিশানায় আমেরিকা
-
‘ভুল, খুব ভুল করছে’! ইরানকে ফের কী নিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প? শান্তিবৈঠক বন্ধ করার হুমকিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের
-
হিজ়বুল্লা-নিধনে ইজ়রায়েল হামলা চালিয়ে গেলেও ‘স্পিকটিনট’! ৩০০০০ কোটি ডলারে ইরানের মুখ বন্ধ করল আমেরিকা?
-
‘পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই’! যুদ্ধবিরতির শর্ত প্রকাশে দেরি নিয়ে প্রশ্নে মজাচ্ছলেই খোঁচা ভান্সের
-
হিজ়বুল্লার সঙ্গে ‘যুদ্ধবিরতি’ জানিয়েও ফের ইজ়রায়েলি হানা লেবাননে! শান্তিচুক্তিতে নারাজ নেতানিয়াহুর কৌশল কী?