E-Paper

শিশুরা ইজ়রায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্তু: রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্ট

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের ইচ্ছাকৃত ভাবে লক্ষ্যবস্তু করা ইজ়রায়েলি কর্তৃপক্ষের গণহত্যামূলক উদ্দেশ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। কমিশনের মতে, গাজ়ায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ০৬:১৩
ইজরায়েলি হামলায় নিহত পাঁচ বছরের প্যালেস্টাইনি শিশুকন্যার দেহ আঁকড়ে তার পিসি। গাজার খান ইউনিসে।

ইজরায়েলি হামলায় নিহত পাঁচ বছরের প্যালেস্টাইনি শিশুকন্যার দেহ আঁকড়ে তার পিসি। গাজার খান ইউনিসে। — রয়টার্সের ফাইল চিত্র।

ইজ়রায়েলি বাহিনী ইচ্ছাকৃত ভাবে গাজ়া ভূখণ্ডে শিশুদের ‘লক্ষ্যবস্তু’ করছে বলে রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন মন্তব্য করেছে। ইজ়রায়েলের পাল্টা দাবি, ‘তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট পক্ষপাতদুষ্ট।’

গত সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষ কমিশনের এই প্রতিবেদন। সেখানে বলা হয়েছে, ‘ইজ়রায়েল যে গাজ়ায় গণহত্যা চালিয়েছে, সে বিষয়ে গত বছরেই নিশ্চিত ছিল তদন্ত কমিটি। কিন্তু ইজ়রায়েলি নৃশংসতা সেখানেই শেষ হয়নি। তারা প্যালেস্টাইনি শিশুদের লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে অভূতপূর্ব মৃত্যু, জখম হওয়া এবং মানসিক আঘাতের ঘটনা ঘটেই চলেছে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের ইচ্ছাকৃত ভাবে লক্ষ্যবস্তু করা ইজ়রায়েলি কর্তৃপক্ষের গণহত্যামূলক উদ্দেশ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। কমিশনের মতে, গাজ়ায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরলীধরের কথায়, “২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও ইজ়রায়েলি হানায় শিশুরা নিহত ও গুরুতর আহত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী প্যালেস্টাইনি শিশুদের যে সুরক্ষা দেওয়ার কথা, এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত— দু’টিকেই ইজ়রায়েল ধারাবাহিক ভাবে উপেক্ষা করছে।” ইজ়রায়েল বারবার গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের এই প্রতিবেদনেরও তীব্র সমালোচনা করেছে তারা। ইজ়রায়েলের বিদেশ মন্ত্রক একে ‘আগের প্রতিবেদনগুলির মতোই চরম পক্ষপাতদুষ্ট একটি প্রচারপত্র’ বলে অভিহিত করেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জে ইজ়রায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেন, এটি “রাষ্ট্রপুঞ্জের নথির ছদ্মবেশে রাজনৈতিক অপবাদ। হামাসের অপরাধ, ৭ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ড, পণবন্দি রাখা এবং শিশু ও সাধারণ মানুষকে হামাসের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলার বদলে কমিশন শুধু ইজ়রায়েলকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরেও গাজ়ায় ইজ়রায়েল যে পরিস্থিতি তৈরি করেছে—ব্যাপক হামলা চালানো এবং মানবিক ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত সাহায্য প্রবেশে বাধা দেওয়া— তা প্যালেস্টাইনি শিশুদের বেঁচে থাকা, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক বিকাশের উপরে ‘বহুমাত্রিক ক্ষতিকর প্রভাব’ ফেলেছে। মিশনের দাবি, ইজ়রায়েল পরিকল্পিত ভাবে হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং প্রজননস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি— দু’ধরনেরই ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে।

আমেরিকার মধ্যস্থতায় ২০২৫-এর অক্টোবরে ইজ়রায়েল ও হামাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়। কিন্তু তার আট মাস পরেও ইজ়রায়েল প্রায় প্রতিদিনই বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। প্যালেস্টাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পরে এক হাজারেরও বেশি প্যালেস্টাইনি নিহত হয়েছেন, তার মধ্যে ২৫০ জনেরও বেশি শিশু।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

gaza UNESCO

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy