Advertisement
E-Paper

‘ভুলে যাবেন না, আপনাদের বন্ধু বলতে শুধু আমরাই’! ইরানের সঙ্গে চুক্তির পর নেতানিয়াহুকে কেন নিশানা করলেন ভান্স

নেতানিয়াহুর সরকার আমেরিকা-ইরান শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করার ক্ষুদ্ধ ভান্স বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বে ডোনাল্ড ট্রাম্পই একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান যিনি ইজ়রায়েল রাষ্ট্রের প্রতি সহানুভূতিশীল।’’

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ১০:০০
(বাঁদিকে) বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং জেডি ভান্স (ডানদিকে)।

(বাঁদিকে) বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং জেডি ভান্স (ডানদিকে)। —ফাইল চিত্র।

আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতি সমঝোতাপত্র সইয়ের পরেই বৃহস্পতিবার বিরোধিতার সুর ভেসে এসেছিল তেল আভিভ থেকে। শুক্রবার তার জবাব দিল ওয়াশিংটন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স সরাসরি ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন, “ভুলে যাবেন না, বিশ্বে আপনাদের একমাত্র শক্তিশালী মিত্ররাষ্ট্র আমরাই। আমি যদি ইজ়রায়েল মন্ত্রিসভার সদস্য হতাম, তা হলে হয়ত আমি সেই একমাত্র শক্তিশালী মিত্রকে আক্রমণ করতাম না, যে পুরো পৃথিবীতে এখনও আমার পাশে রয়েছে।”

নেতানিয়াহুর সরকার আমেরিকা-ইরান শান্তিচুক্তির কিছু শর্ত সম্পর্কে বারবার ভুল উপস্থাপনা করে তার বিরোধিতা করছে বলে অভিযোগ তুলে ভান্স বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বে ডোনাল্ড ট্রাম্পই একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান যিনি ইজ়রায়েল রাষ্ট্রের প্রতি সহানুভূতিশীল।’’ আমেরিকার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়ে চর্চা চলছে। এই আবহে নেতানিয়াহু সরকারের তরফে শান্তিচুক্তির সমালোচনা এবং ভান্সের ‘প্রত্যাঘাতে’ তা নতুন মাত্রা পেল বলেই মনে করছেন কূটনীতিকদের একাংশ।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দীর্ঘ দিন ধরেই ‘আমেরিকার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সহযোগী’ হিসাবে পরিচিত ইজ়রায়েল। ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সমীকরণও অতীতে যথেষ্টই মসৃণ ছিল। কিন্তু মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একটি খবরে দাবি, তাঁদের সম্পর্ক আর আদৌ বন্ধুত্বপূর্ণ নয়। বিশেষত, দিন কয়েক আগে ট্রাম্প যে ভাবে প্রকাশ্যে লেবাননের মাটিতে ইজ়রায়েলি হামলা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং টেলিফোনে নেতানিয়াহুকে ভর্ৎসনা করার কথা জানিয়েছেন, তাতে দুই রাষ্ট্রনেতার মতবিরোধ কার্যত প্রকাশ্যে এসে গিয়েছে।

ওই ঘটনার পরে সাংবাদিকদের সামনে নেতানিয়াহুকে ‘ভীষণ জটিল প্রকৃতির মানুষ’ বলে চিহ্নিত করেছিলেন ট্রাম্প। সেই সঙ্গে বলেছিলেন, ‘‘সত্যি বলতে ওর আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ, ইরানের কাছে যদি পারমাণু অস্ত্র থাকে, তা হলে ইজ়রায়েল দু’ঘণ্টাও টিকতে পারবে না।” প্রকাশিত খবরে দাবি, গত সোমবার ওই টেলিফোন কথোপকথনে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘বিবি (নেতানিয়াহু এই নামেই পরিচিত আমেরিকায়) তোমরা ভবনগুলি উড়িয়ে দিচ্ছ কেন? এ সব বন্ধ করো।” পাশাপাশি ট্রাম্প সতর্কবার্তা দেন যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মন্দা এ বার ৩০-এর দশকের মহামন্দার রূপ নিতে পারে। কিন্তু ট্রাম্পের ওই সাবধানবাণীর পরেও শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লাকে দমনের নামে বুধবার লেবাননে ফেরা বিমান হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল। এই আবহে ভান্সের ওই মন্তব্যকে তেল আভিভের প্রতি প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি বলেই মনে করছেন অনেকে।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
সর্বশেষ
১ ঘণ্টা আগে
JD Vance Benjamin Netanyahu US-Israel vs Iran Israel Attack Lebanon US-Iran Conflict Israel-Iran Conflict
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy