Advertisement
E-Paper

ফার্স্ট লেডি থেকে ‘ড্রাগ লেডি’! ভেনেজ়ুয়েলার বন্দি প্রেসিডেন্ট মাদুরোর স্ত্রীর বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ আনল আমেরিকা

দীর্ঘ দিন ধরেই আমেরিকা অভিযোগ করে আসছে, মাদুরো সরকার মাদক পাচার-সহ নানা সংগঠিত অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত। সেই আলোচনায় সিলিয়া ও তাঁর পরিবারের নামও একাধিক বার উঠে এসেছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫৯
স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের সঙ্গে ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।

স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের সঙ্গে ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। — ফাইল চিত্র।

ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পাশাপাশি বন্দি হয়েছেন তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও। ‘ফার্স্ট লেডি’র বিরুদ্ধে সরকারি কর্তাদের প্রভাবিত করা, কোটি কোটি টাকা ঘুষ নেওয়া থেকে শুরু করে মাদক পাচারে মদত দেওয়ার মতো নানা গুরুতর অভিযোগ তুলেছে আমেরিকা। নিউ ইয়র্কে বিচারের আওতায় আনা হবে সিলিয়াকে। ঠিক কী কী অভিযোগ রয়েছে সিলিয়ার বিরুদ্ধে?

দীর্ঘ দিন ধরেই আমেরিকা অভিযোগ করে আসছে, মাদুরো সরকার মাদক পাচার-সহ নানা সংগঠিত অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত। সেই আলোচনায় সিলিয়া ও তাঁর পরিবারের নামও একাধিক বার উঠে এসেছে। ২০১৫ সালে সিলিয়ার দুই ভাগ্নের একটি রেকর্ডিং প্রকাশ্যে আসে। সেখানে মাদুরোর হ্যাঙ্গার থেকে ‘কয়েকশো কেজি কোকেন পাচার’-এর বিষয়ে কথা বলতে শোনা গিয়েছিল সিলিয়ার দুই ভাগ্নেকে। ওই বছরই আমেরিকার ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন হাইতি থেকে তাঁদের গ্রেফতার করে। পরে নিউ ইয়র্কে তাঁদের বিচার হয়। আমেরিকায় টন টন কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত করে ২০১৭ সালে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় দু’জনকে। যদিও পরে ২০২২ সালে বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে তাঁরা মুক্তি পান।

শুধু তা-ই নয়, সিলিয়ার বিরুদ্ধে মাদক পাচারে মদত দেওয়া এবং দেশের মাদকবিরোধী দফতরের কর্তাদের প্রভাবিত করতে কোটি কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ারও অভিযোগ এনেছে ট্রাম্প সরকার। অভিযোগ, মাদক পাচারের পথ সুগম করতে প্রায়ই নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করতেন সিলিয়া। ২০০৭ সালে দেশের অন্যতম কুখ্যাত মাদক পাচারকারী এবং ভেনেজ়ুয়েলার জাতীয় মাদকবিরোধী অফিসের ডিরেক্টর নেস্টর রেভেরল টরেসের মধ্যে একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করার জন্য নাকি লক্ষ লক্ষ ডলার ঘুষ নিয়েছিলেন সিলিয়া। আমেরিকার দাবি, সেই বৈঠকের পর পাচারকারী প্রতিটি কোকেন-বোঝাই উড়ানের জন্য টরেসকে ঘুষ বাবদ মাসিক ১ লক্ষ ডলার দিতে সম্মত হন। এই বিপুল পরিমাণ টাকার কিছু অংশ পাঠানো হয়েছিল সিলিয়াকেও। ২০১৫ সালে নিউ ইয়র্কে মাদক সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত করা হয় টরেসকে। তিনি এখনও পলাতক।

২০১৮ সালে কানাডা এবং পরে আমেরিকা সিলিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি দাবি করে, শুধু মাদুরো নন, তাঁর স্ত্রীও ‘নার্কো-নেটওয়ার্ক’-এর অংশ। যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তিনিও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন বলে অভিযোগ উঠতে থাকে। সেই থেকে মার্কিন নজরে ছিলেন সিলিয়াও। তাই শুক্রবার রাতের অভিযানে মাদুরোর পাশাপাশি বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকেও। দম্পতির পাশাপাশি তাঁদের পুত্র এবং আরও তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। মাদক-সন্ত্রাস, কোকেন পাচার, মেশিনগান-সব বিবিধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার মতো নানা অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

venezuela US Nicolas Maduro US Venezuela War
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy