ইজ়রায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হলেও খোঁজ নেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের! তিনি কোথায়, সেই প্রশ্ন উঠছে ইরানেই। স্বাভাবিক ভাবেই এই নিয়ে নানা জল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে। ৮৬ বছর বয়সি প্রবীণ এই নেতা শারীরিক ভাবে সুস্থ রয়েছেন কি না, উঠেছে সেই প্রশ্নও।
ইজ়রায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি খামেনেইকে। প্রকাশ্যে কোনও বিবৃতিও দেননি তিনি। সেই সময় খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে জানা গিয়েছিল, সম্ভাব্য প্রাণঘাতী হামলার আশঙ্কায় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। এমনকি তাঁর অবস্থান যাতে কেউ চিহ্নিত করতে না-পারে, তার জন্য বৈদ্যুতিন সামগ্রীও খামেনেই ব্যবহার করছেন না বলে শোনা গিয়েছিল।
ইরানের একটি সংবাদমাধ্যম সরাসরি খামেনেইয়ের দফতরের প্রধানকে জিজ্ঞাসা করে, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কোথায়? সংবাদমাধ্যমটির তরফে এ-ও জানানো হয়, খামেনেই কোথায় রয়েছেন এবং কেমন রয়েছেন, তা জানতে চেয়ে বহু চিঠি আসছে তাদের কাছে। জবাবে খামেনেইয়ের দফতরের প্রধান মেহদি ফজ়ায়লি জানান, তাঁর কাছেও বহু চিঠি আসছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “যাঁরা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরা খুব ভাল কাজ করছেন। ঈশ্বরের কৃপায় আমরা আমাদের নেতার সঙ্গে জয় উদ্যাপন করতে পারব।” খামেনেইয়ের জন্য সকলকে প্রার্থনা করতেও বলেছেন মেহদি।
প্রসঙ্গত, খামেনেইয়ের নির্দেশ ছাড়া ইরানে ধর্মীয় বা প্রশাসনিক, কোনও কাজই হয় না। সামরিক বিষয়েও তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। তাই মনে করা হয়ে থাকে, ইরানের সেনাবাহিনীকে কাতারে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর নির্দেশ খামেনেই-ই দিয়েছিলেন। ইজ়রায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের সময় একাধিক বার অজ্ঞাত স্থান থেকে বিবৃতি দিয়েছেন খামেনেই। কখনও তিনি আমেরিকাকে ইরানের অতীত সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, কখনও বা ইজ়রায়েলকে শাস্তি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
যুদ্ধের মধ্যেই ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরাসরি খামেনেইকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছিলেন। ইরাকের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের ফাঁসির প্রসঙ্গ তুলে বলেছিলেন, ‘‘প্রতিবেশী দেশের স্বৈরাচারী শাসকের কী চরম পরিণতি হয়েছিল, ইরান যেন তা মনে রাখে। সাদ্দামের মতো পরিণতি খামেনেইয়েরও হতে পারে।’’ ট্রাম্প অবশ্য খামেনেইকে হত্যা করার বিষয়ে সায় দেননি। তবে বলেছিলেন, “আমরা জানি যে তথাকথিত সর্বোচ্চ নেতা কোথায় লুকিয়ে রয়েছেন। তিনি একটি সহজ লক্ষ্য, কিন্তু সেখানে নিরাপদ। আমরা তাঁকে বার করে (হত্যা!) করব না, অন্তত আপাতত নয়।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের পরমাণু কেন্দ্র এবং সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল। তাতে নিহত হয়েছেন ইরানের শীর্ষ সেনাকর্তা। প্রাণ গিয়েছে ছ’জন পরমাণু বিজ্ঞানীরও।
- ইজ়রায়েলি হামলাকে সমর্থন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, নয়া পরমাণু চুক্তি না মানলে আরও ভয়ঙ্কর হামলার মুখে পড়তে হবে ইরানকে। তখন আর কিছুই আস্ত থাকবে না
-
গাজ়া গণহত্যা এবং ইরানে হামলার প্রতিবাদে ইজ়রায়েলে দূতাবাস বন্ধ করল স্পেন! আমেরিকাকে দুষল ইটালি
-
রান্নার গ্যাসের ঘাটতির আশঙ্কা! ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধের মধ্যে তেল সংস্থাগুলিকে এলপিজি উৎপাদন বৃদ্ধির নির্দেশ কেন্দ্রের
-
‘ভিড় এড়িয়ে চলুন’! করাচির উপদূতাবাসে বিক্ষোভের পরে পাকিস্তানে থাকা নাগরিকদের সতর্ক করল আমেরিকা
-
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সমর্থন করল পাকিস্তান! সই হল বাণিজ্য, প্রযুক্তি-সহ ১২টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি
-
ইরানের সঙ্গে বোঝাপড়া বৃদ্ধি করতে চায় পাকিস্তান, লক্ষ্যমাত্রা বছরে ৮০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য