কলকাতার ‘নভোটেল’-এ ২৫ মার্চ জমে উঠেছিল উৎসবের আসর। ‘লালবাবা রাইস পার্বণে আহারে’ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব ছিল চোখ ধাঁধানো এক আয়োজন।
শেফ সুশান্ত সেনগুপ্ত এবং রাজীব কুমার পাল
প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করলেন ‘ভূতের রাজা দিল বর’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও ডিরেক্টর রাজীব কুমার পাল এবং ‘৬, বালিগঞ্জ প্লেস’-এর প্রতিষ্ঠাতা, শেফ সুশান্ত সেনগুপ্ত। শুধু সূচনাই নয়, এই দু’জনই ছিলেন এই জমজমাট প্রতিযোগিতার বিচারক। স্বাদের চূড়ান্ত পরীক্ষা নিতে তাঁরা ছিলেন একেবারে তৈরি।
খরাজ মুখোপাধ্যায়
আর চমক? মঞ্চে হাজির ছিলেন অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায়। গান গেয়ে মাতিয়ে তুলেছিলেন সকলকে। দর্শকাসনে তখন তুমুল উচ্ছ্বাস! উপস্থিত ছিলেন ‘লালবাবা রাইস’-এর জয়েন্ট ডিরেক্টর পলাশ নন্দী। এই আয়োজন যেন হয়ে উঠেছিল এক বড় উৎসব।
উপস্থিত ছিলেন ১৬ জন ফাইনালিস্ট। সবার চোখে একটাই লক্ষ্য, সেরা হওয়ার লড়াই! কে দেবে কাকে টেক্কা! বিচারকদের সামনে লাইভ রান্না, যে রেসিপি তাঁদের এতদূর নিয়ে এসেছে, সেটাই আবার নতুন করে তুলে ধরা, ফাইনালিস্টদের উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। শেষমেশ বিজয়ীদের নাম ঘোষণা হতেই হল ভরে উঠল করতালিতে।
প্রথম স্থান দখল করলেন হুগলির তানিয়া মাইতি, রেসিপি চাল চিংড়ির চ্যাপ্টা।
দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিলেন পুরুলিয়ার দেবলীনা পান্ডে অধিকারী, রেসিপি বাসি ভাতের কাটলেট এবং বাঁকুড়ার ডলি সিংহ মহাপাত্র পাইন, রেসিপি কাখরা পিঠা আর মহুয়া ফুলের পায়েস।
তৃতীয় স্থানে উঠে এলেন হাওড়ার মিষ্টুনি বন্দোপাধ্যায়, রেসিপি ক্ষীর কমলা, পূর্ব মেদিনীপুরের চৈতি দাস, রেসিপি জল ভরা রসমালাই পিঠে এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের জয়শ্রী অধিকারী, রেসিপি লাল আলুর পিঠা।
এত কিছুর মাঝেও দর্শকদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো, ভোর থেকেই ভিড় জমে গিয়েছিল অনুষ্ঠানে। শেষে এল সেই প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। মঞ্চে উঠে এলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সন্দীপ্তা সেন, আর সঙ্গে সঙ্গেই যেন অনুষ্ঠানের আমেজ আরও একটু বেড়ে গেল। তাঁর উপস্থিতিতে গোটা হল জুড়ে তৈরি হল এক আলাদা উচ্ছ্বাস।
পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন সন্দীপ্তা সেন, সঙ্গে রাজীব কুমার পাল, পলাশ নন্দী এবং সুশান্ত সেনগুপ্ত
একে একে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা হতেই সন্দীপ্তা তাঁদের হাতে তুলে দিলেন পুরস্কার। শুধু পুরস্কারই নয়, প্রতিটি বিজয়ীর সঙ্গে কথা বলে, তাঁদের পরিশ্রম ও সৃজনশীলতাকে কুর্নিশ জানিয়ে আরও বিশেষ করে তুললেন সেই মুহূর্তগুলো। বিজয়ীদের মুখে তখন আনন্দ, গর্ব আর আবেগ, সব মিলিয়ে এক অসাধারণ অনুভূতি।
‘লালবাবা রাইস'-এর এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়, যেখানে চাল দিয়ে তৈরি বাঙালির ঐতিহ্যবাহী রান্না এবং নতুন ভাবনা উদ্যাপিত হয়েছে একইসঙ্গে।
এই প্রতিবেদনটি ‘লালবাবা রাইস’—এর সঙ্গে এবিপি ডিজিটাল ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো দ্বারা যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত।