অ্যামাজ়নের ক্লাউড কম্পিউটিং বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ল সোমবার। ফলে ভারত-সহ বিশ্ব জুড়ে বহু মানুষ সংস্থার বিভিন্ন পরিষেবা তো পেলেনই না। অনেকে ইন্টারনেটই ব্যবহার করতে পারেননি। পরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গিয়েছে বলেই জানিয়েছে সংস্থা। তবে অ্যামাজ়ন ওয়েব সার্ভিস বা এডব্লুউএস-এর পরিষেবা ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান, সরকারি হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যম এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা। ফলে এ দিন সকাল থেকে সেই সব জায়গাও বিপর্যস্ত হয়। সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ। পরিষেবা আটকে যায় স্ন্যাপচ্যাট, রবলক্স, ফোর্টনাইট, রবিনহুড, ম্যাকডোনাল্ডস-এর মতো জায়গায়। সংস্থাগুলির দাবি, পরে ধীরে ধীরে তা স্বাভাবিক হয়।
এর প্রভাবে ভারতে সোমবার দুপুর পৌনে একটা থেকে প্রায় সাড়ে তিনটে পর্যন্ত অ্যামাজ়ন-সহ অনেক সংস্থারই বহু পরিষেবা পাওয়া যায়নি। অ্যালেক্সা, অ্যামাজ়ন প্রাইম, অ্যামাজ়ন মিউজ়িক, ক্যানভা, স্ন্যাপচ্যাটের মতো পরিষেবা কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। বহু তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম সংস্থার পরিষেবা ব্যাহত হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে সরাসরি প্রভাব ছিল সীমিত। ক্লাউড পরিকাঠামোয় সমস্যার কিছুটা প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত ছড়ায়। এ দিন সেটাই ঘটেছে। আমেরিকার ‘ইস্টার্ন টাইম জ়োন’ অনুযায়ী ভোর ৩টে ১১ মিনিটে সমস্যার শুরু। মূলত সে দেশের পূর্বাঞ্চলে। পরে তা সমগ্র অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষের উপর প্রভাব ফেলে। সংস্থাটির দাবি, ঘণ্টা তিনেকের মধ্যেই পরিষেবা স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সারা বিশ্বের নেট পরিষেবা তিন-চারটি বৃহৎ ক্লাউড কম্পিউটিং সংস্থার পরিষেবার উপর নির্ভরশীল। তার মধ্যে রয়েছে গুগ্ল, অ্যামাজ়ন, মেটার মতো সংস্থা। ফলে সামান্য সমস্যাও বিরাট প্রভাব ফেলে বিশ্ব জুড়ে। অ্যামাজ়নের বিপর্যয় তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)