বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাহিদা কমায় ধাক্কা খেয়েছে অর্থনীতি। এই অবস্থায় শিল্পকে চাঙ্গা করতে সম্প্রতি একাধিক পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। এরই মধ্যে গত সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে কলকারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধির পরিসংখ্যান। জুনের (১.২%) তুলনায় জুলাইয়ে উৎপাদন বেড়েছে অনেকটাই (৪.৩%)। যদিও এই বৃদ্ধি আগের বছরের জুলাইয়ের (৬.৫%) তুলনায় কম। আসলে বিভিন্ন পণ্যের চাহিদার পতনে উৎপাদন ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছে একাধিক শিল্প। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করছেন, অক্টোবরে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পরবর্তী ঋণনীতিতে আরও এক দফা সুদ ছাঁটাই অবশ্যম্ভাবী। চাহিদা বৃদ্ধির তাগিদে ব্যাঙ্কের সুদ কমানো ও বাজারে নগদের জোগান বাড়াতেই তা করা হতে পারে। তা ছাড়া অগস্টে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৩.২১%। যা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের লক্ষ্যমাত্রার অনেকটাই নীচে। ফলে সুদ কমানোর অনুকূল পরিস্থিতি রয়েছে। শিল্পও তাকিয়ে রয়েছে সে দিকে। 

গত চার ঋণনীতিতে ১১০ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমিয়েছে শীর্ষ ব্যাঙ্ক। প্রথা ভেঙে আগের দফায় তা কমানো হয়েছিল ৩৫ বেসিস পয়েন্ট। অনেকের অনুমান, এই দফায় আরও ৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক রেপো রেট ছাঁটতে পারে ৪০ বেসিস পয়েন্ট। 

ঋণে সুদ কমানো হলে তা কমবে জমাতেও। এরই মধ্যে পরপর দু’বার জমায় সুদ ছাঁটাই করেছে স্টেট ব্যাঙ্ক। সুদ কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতেও। ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের ইল্ড বেশ নীচের দিকে (৬.৬৩%) থাকায় অক্টোবর থেকে সুদ কমার সম্ভাবনা থাকবে পিপিএফ, এনএসসি, সিনিয়র সিটিজেন্স সেভিংস স্কিম, ডাকঘর মাসিক আয়ের মতো প্রকল্পেও। পুজোর আগে সুদ কমানো হলে তা হবে সুদনির্ভর মানুষের কাছে খারাপ খবর। অর্থাৎ, স্থির আয় প্রকল্পে লগ্নি করার পরিকল্পনা থাকলে তা চলতি মাসেই করে নেওয়া ভাল। 

সুদ সম্ভাবনা 
• গত চারটি ঋণনীতিতে ১১০ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। 
• অনেকের অনুমান, অক্টোবরের ঋণনীতিতেও সুদ ছাঁটাই হতে পারে। 
• ঋণে সুদ কমানো, বাজারে নগদের জোগান বাড়ানোর জন্যই তা হতে পারে। 
• যুক্তি, অগস্টে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার (৩.২১%) লক্ষ্যমাত্রার (৪%) চেয়ে অনেকটাই নীচে। 
• তবে সে ক্ষেত্রে সুদ কমতে পারে আমানতেও।

বাজারের পরিস্থিতি 
• শুক্রবার সেনসেক্স ছিল ৩৭,৩৮৪.৯৯। নিফ্‌টি ১১,০৭৫.৯০। 
• শনিবার ১০ গ্রাম পাকা সোনা ছিল ৩৭,৯৯০ টাকা। 
• অগস্টে ইকুইটি ফান্ডে লগ্নি ১২% বেড়ে হয়েছে ৯,১৫২ কোটি টাকা। এসআইপি পথে লগ্নি ৮,২৩১ কোটি। 
• অগস্টে ৬.০৫% পতন ভারতের রফতানিতে। 

ক্রমাগত সুদ কমতে থাকায় অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও অনেকেই ঝুঁকছেন ইকুইটি ফান্ডের দিকে। নেমে আসা শেয়ারের দাম এবং কর বাবদ সুবিধাও ফান্ডে লগ্নির অন্যতম আকর্ষণ। অগস্টে ইকুইটি ফান্ডে লগ্নি বেড়েছে ১২.৮%। পৌঁছেছে ৯,১৫২ কোটি টাকায়। শুধু এসআইপি পথেই লগ্নি এসেছে ৮,২৩১ কোটি। জুলাইয়ে ফান্ডগুলিতে লগ্নি হয়েছিল ৮,১১৩ কোটি। পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, ক্রমাগত অস্থিরতা সত্ত্বেও বাজারে আস্থা রাখতে চাইছেন লগ্নিকারীরা। 

এরই মধ্যে অগস্টে ভারতের রফতানির পতন হয়েছে ৬.০৫%। রফতানির হাল ফেরাতে সরকারের তরফে করা হয়েছে একগুচ্ছ ঘোষণা। এই ক্ষেত্রে ত্রাণ বাবদ কেন্দ্রের রাজস্ব ক্ষতি হবে ৫০,০০০ কোটি টাকা। ঘোষিত বিভিন্ন সুবিধায় রফতানি নির্ভর শিল্প কিছুটা উপকৃত হতে পারে বলে ধারণা। আবাসনেও হাল ফেরানোর জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২০,০০০ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের এই দাওয়াইয়ের প্রভাব শেয়ার বাজারে কতটা পড়ে, তা দেখা যাবে আজ, সোমবার বাজার খুললে। 

(মতামত ব্যক্তিগত)