E-Paper

প্রতিশ্রুতি বিজেপির, ঝুটো গয়নার শিল্পে আশার আলো দেখছে ‘অবহেলিত’ সিঙ্গুর

সেই সিঙ্গুরে, যেখানে জমি-আন্দোলন পর্বেই (২০০৭) কিছু মানুষের হাত ধরে সেখানে শুরু হয়েছিল ঝুটো গয়না তৈরির কাজ। কারিগর ও মালিকদের সংগঠন আর্টিফিশিয়াল জুয়েলারি ক্লাস্টার-এর কর্তাদের দাবি, বর্তমানে ছোট-বড়-মাঝারি মিলিয়ে অন্তত ৭৫০টি কারখানা রয়েছে এখানে।

গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় 

শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ০৭:৩০
সিঙ্গুরের অপূর্বপুরের একটি কারখানায় ঝুটো গয়না তৈরির কাজ করছেন শিল্পীরা।

সিঙ্গুরের অপূর্বপুরের একটি কারখানায় ঝুটো গয়না তৈরির কাজ করছেন শিল্পীরা। — নিজস্ব চিত্র।

দল রাজ্যে ক্ষমতায় আসতেই সিঙ্গুরে ঝুটো (ইমিটেশন) গয়নার শিল্পতালুক গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর এই বার্তা ঘিরে ফের চর্চায় হুগলির সিঙ্গুর।

সেই সিঙ্গুরে, যেখানে জমি-আন্দোলন পর্বেই (২০০৭) কিছু মানুষের হাত ধরে সেখানে শুরু হয়েছিল ঝুটো গয়না তৈরির কাজ। কারিগর ও মালিকদের সংগঠন আর্টিফিশিয়াল জুয়েলারি ক্লাস্টার-এর কর্তাদের দাবি, বর্তমানে ছোট-বড়-মাঝারি মিলিয়ে অন্তত ৭৫০টি কারখানা রয়েছে এখানে। গোপালনগর, দেওয়ানভেড়ি, বারুইপাড়া, খাসেরভেড়ি, দিয়াড়া, হরিপাল, চণ্ডীতলার গঙ্গাধরপুর, বেগমপুর, তারকেশ্বরের চাঁপাডাঙা এলাকায় সেগুলি ছড়িয়ে। হুগলি বাদে হাওড়া, দুই ২৪ পরগনা, বর্ধমান, এমনকি মালদহ, মুর্শিদাবাদের ছেলেরাও এখানে থেকে কাজ করছেন। যুক্ত বহু মহিলা। প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে। সংগঠনের সম্পাদক প্রভাত পাল জানান, ভারতের মধ্যে মুম্বই, বেঙ্গালুরু, দিল্লি, দক্ষিণ ভারত, গুজরাত, চেন্নাই, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যের পাশাপাশি, বিদেশেও পাড়ি দিচ্ছে এখানকার গয়না।

চাঁপাডাঙা সিনেমাতলার একটি কারখানার মালিক পিন্টু দাস বলেন, ‘‘এই সব এলাকা থেকে অনেকেই বাইরে যেতেন জীবিকার তাগিদে। এখন এখানেই কাজ পাচ্ছেন।’’ সিঙ্গুরের বেড়াবেড়ির কলেজ ছাত্র সায়ন বাগের কথায়, ‘‘পড়াশোনার পাশাপাশি, এই কাজ শিখে বাড়ির প্রয়োজন মেটাচ্ছি।’’ সংগঠনের প্রতিনিধি অরুণ চক্রবর্তীর কারখানা সিঙ্গুরে। তিনি জানান, তামা ও দস্তা মিশিয়ে এক ধরনের ‘বিস্কুট’ তৈরি করা হয়, যা ছাঁচে ফেলে গলিয়ে নানা নকশার গয়না তৈরি হয়। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমাদের শিল্পে ৬৫ শতাংশই মহিলা। কারখানা থেকে কাজ বুঝে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন তাঁরা। গয়না গড়ে দিয়ে যাচ্ছেন। সাপ্তাহিক, মাসিক, চুক্তিভিত্তিক শর্তেও কাজ হচ্ছে।’’

তবে অনেকেরই খেদ, কম-বেশি দেড় লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হলেও এই শিল্পে সরকারি কোনও পৃষ্ঠপোষকতা, বিদ্যুৎ বা কাঁচামালে ছাড়, ব্যাঙ্ক ঋণের ব্যবস্থা নেই। একটি কারখানার মালিক বলেন, ‘‘সিঙ্গুর ব্লকে বড়া তেলিয়ার মোড়ে আগের সরকার দেড় বিঘের মতো একটি জমি নির্দিষ্ট করেছিল ক্লাস্টারের জন্য। কাজ কিছুই এগোয়নি।’’ সিঙ্গুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক বেচারাম মান্না এ নিয়ে মন্তব্য করেননি। প্রশাসনের এক কর্তার আশ্বাস, ‘‘খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’’

রাজ্যের নতুন শাসক দলের প্রতিশ্রুতিতে অবশ্য আশার আলো দেখছেন এই শিল্পে জড়িতেরা। আর্টিফিশিয়াল জুয়েলারি ক্লাস্টার-এর সভাপতি রাজকুমার ঘোষ বলেন, ‘‘গত ২২ এপ্রিল শমীকবাবু সিঙ্গুরে এসে আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করেন। রাজ্য সরকার উদ্যোগী হবে, এতে আমরা উৎসাহী।’’ সিঙ্গুরের বর্তমান বিজেপি বিধায়ক অরূপকুমার দাস বলেন, ‘‘কোনও শিল্পের ক্ষেত্রে সার্বিক পরিকল্পনা জরুরি। এ বিষয়ে রাজ্য নেতৃত্ব এবং প্রশাসন যে নির্দেশ দেবে, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ করব।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Singur BJP Samik Bhattacharya Jewellery

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy