পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধিকে সামনে রেখে শনিবার পাঁচ ঘণ্টার ধর্মঘট করলেন গিগ কর্মীরা। এ দিন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সারা দেশে কোনও পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেননি (ডেলিভারি) তাঁরা। যদিও এর প্রভাব কলকাতা-সহ রাজ্যে খুবই সীমিত ছিল বলে জানা গিয়েছে। তুলনায় তা বেশি পড়েছিল দক্ষিণ ভারতে। গিগ কর্মী ইউনিয়নের বক্তব্য, যে ভাবে জ্বালানির দাম বেড়েছে, সেই হারে তাঁদের মজুরি বাড়েনি। দ্য গিগ অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম সার্ভিস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি সীমা সিংহ জানান, ‘‘একাধিক দাবিতে এই প্রতীকী প্রতিবাদ। দাবি না মিটলে আরও বড় আন্দোলন হবে।’’
কর্মীদের দাবি, গাড়ির পিছনে খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনই মাথা তুলছে জিনিসপত্রের দাম। তার উপরে প্রবল গরমে দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় ঘুরে কাজ করাও কার্যত অসম্ভব। সেই কারণেই প্রতি কিমিতে ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ২০ টাকা করার দাবি তাঁদের। এ জন্য সরকারের হস্তক্ষেপের সওয়ালও করেছে সংগঠনটি। সীমা জানান, কেন্দ্র পদক্ষেপ না করলে অ্যাপভিত্তিক ডেলিভারির সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের কাজ ছাড়তে হবে। দেশে প্রায় ১.২ কোটি গিগ কর্মী রয়েছেন। যাঁরা দিনে ১০-১২ ঘণ্টা কাজ করেও গড়ে ৭০০-৮০০ টাকা আয় করেন। ফলে জ্বালানির চড়া দামের মধ্যে মজুরি না বাড়ালে কাজ করা তাঁদের পক্ষে অসম্ভব।
গিগ ওয়ার্কারদের ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর নির্মল গোরানা জানান, পণ্য পৌঁছনোর কাজ করেন বহু মহিলাও। তাঁদের সমস্যা আরও বেশি। তাই ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি, জ্বালানি খরচ, বিমা-সহ নানা সুবিধাও যাতে দেওয়া হয়, সেটাও দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এ জন্য কেন্দ্র ও অনলাইন সংস্থাগুলিকে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে সংগঠনটি।
গত ডিসেম্বরে গিগ কর্মীরা অত্যন্ত কম মজুরি, ১০ মিনিটে ডেলিভারি না করতে পারলে জরিমানার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিলেন। সেই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা, কাজের জায়গায় সম্মান-সহ একাধিক দাবিতে দু’দিনের ধর্মঘটও করেছিলেন তাঁরা। সেই আন্দোলনের চাপে পরবর্তীকালে ১০ মিনিটে ডেলিভারি, জরিমানা, সামাজিক সুরক্ষার মতো বেশ কিছু দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তার পরে ফের পাঁচ মাসের ব্যবধানে এই পাঁচ ঘণ্টার ধর্মঘট। সীমার যদিও বক্তব্য, বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাঁদের। কর্তৃপক্ষ ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এ ছাড়া অন্য কোনও পথ সামনে খোলা নেই।
কর্মীদের দাবি
প্রতি কিমি-তে ন্যূনতম ২০ টাকা মজুরি।
গাড়ি সারানোর টাকা।
প্রবল গরমে কাজের বিকল্প ব্যবস্থা।
বিমা, সবেতন ছুটি-সহ একাধিক সুবিধা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)