• দেবপ্রিয় সেনগুপ্ত
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

স্বেচ্ছাবসরের পরে কী

অন্য সংস্থাকে দিয়ে সেবা কেন্দ্রের কাজ

bsnl
প্রতীকী ছবি।

স্বেচ্ছাবসরের (ভিআরএস) আবেদন জমা দিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৭৮ হাজার কর্মী-আধিকারিক। বিএসএনএল কর্তৃপক্ষ সব আবেদনে সায় দিলে তাঁরা অবসর নেবেন ১ ফেব্রুয়ারি থেকে। সে ক্ষেত্রে এক ধাক্কায় মানবসম্পদ কমবে প্রায় অর্ধেক। তাই ভিআরএস পরবর্তী সময়ে কম লোক দিয়ে কাজ চালাতে ইতিমধ্যেই কিছু কাজ বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে করানোর (আউটসোর্স) কথা বলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলি সংস্থাটি। এ বার কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ, প্রয়োজনে কিছু কাস্টমার সার্ভিস সেন্টার (সিএসসি) বা গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের কাজও আউটসোর্স করা। সেই মর্মে সংস্থার সব সার্কলের চিফ জেনারেল ম্যানেজারদের (সিজিএম) নির্দেশিকা পাঠিয়েছে সদর দফতর।

এখনও চুক্তির ভিত্তিতে ঠিকাদার নিয়োগ করে বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করায় বিএসএনএল। আগামী দিনে কিছু এলাকায় ল্যান্ডলাইন ও ব্রডব্যান্ড পরিষেবার একাংশ আউটসোর্স করতে ডিসেম্বরে নির্দেশ দিয়েছে তারা। আর ১৫ জানুয়ারি সব সার্কলের সিজিএমদের সেবার কেন্দ্রের একাংশের পরিচালনা, গ্রাহক পরিষেবা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ আউটসোর্সিংয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন কর্পোরেট অফিসের অন্যতম পিজিএম নলিনী বর্মা।

বিএসএনএলের পরিকল্পনা

• ল্যান্ডলাইন ও ব্রডব্যান্ড পরিষেবা রক্ষণাবেক্ষণের কিছু কাজ আউটসোর্সিং করানো হবে।

• যে সমস্ত গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে (সিএসসি) কর্মী সংখ্যা কমবে, প্রস্তাব রয়েছে তাদের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণও বাইরের সংস্থাকে দিয়ে করানোর।

• এ জন্য আগ্রহী সংস্থাগুলির থেকে দরপত্র চাইবে বিএসএনএলের সংশ্লিষ্ট সার্কল।

• বর্তমানে চালু থাকা সিএসসি বরাত নেওয়া সংস্থার হাতে দেওয়া হবে। সেই বাবদ নেওয়া হবে না কোনও ভাড়াও।

• সিএসসির এখনকার কাজের (সিম বিক্রি বা বদল, প্রিপেড ও পোস্টপেডে অদলবদল, এমএনপি, বিল জমা, ফোনের সংযোগ বদল বা বন্ধ ইত্যাদি) দায়িত্বে বরাত নেওয়া সংস্থা।

• ভবিষ্যতে বিএসএনএল নতুন ব্যবসা চালু করলে, তারা দেখবে তা-ও।

• বিদ্যুতের বিল মেটাতে হবে ওই সংস্থাকেই।

• শর্ত হল, সিএসসি থেকে বিএসএনএল ছাড়া অন্য সংস্থার পণ্য ও পরিষেবা বেচা যাবে না।

• জাতীয় ছুটি ছাড়া সব দিন সিএসসি খোলা (ক্যাটাগরি-১ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা, ক্যাটাগরি ২,৩ সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত)।

নির্দেশে বলা হয়েছে, ভিআরএসের পরে কর্মীর অভাবে যে সব সিএসসি চালানো যাবে না, সেগুলির কাজ বাইরের সংস্থাকে দিয়ে করাতে আগ্রহপত্র চাইতে পারে সংশ্লিষ্ট সার্কল। তবে কোনও সিএসসিতে একই সঙ্গে সংস্থার নিজস্ব ও অন্য সংস্থার কর্মী কাজ করতে পারবেন না। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এখন কিছু সিএসসির কথা বললেও, আগামী দিনে সব সবগুলিই বেসরকারি হাতে চলে যাবে। প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থাগুলি যে ভাবে গ্রাহক পরিষেবা অন্য সংস্থার হাতে দিয়ে ব্যবসা চালায়, সেই পথেই হাঁটবে বিএসএনএল।

অল ইউনিয়ন্স অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন্স অব বিএসএনএলের রাজ্যের আহ্বায়ক অনিমেষ মিত্র শনিবার বলেন, ‘‘আমরা নীতিগত ভাবে আউটসোর্সিংয়ের বিরুদ্ধে। এর ফলে কাজের জায়গায় শুধু যে বৈষম্য বাড়বে তা-ই নয়। খরচও বাড়বে। একতরফা ভাবে চাপিয়ে দেওয়ার বদলে ভিআরএসের পরে কী ভাবে কাজ চলবে তা নিয়ে সব সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছি।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন