Advertisement
E-Paper

বাণিজ্যিক খননের জন্য ১৬টি কয়লা ব্লক পাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা

অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে সিদ্ধান্তটা আগেই নেওয়া হয়েছিল, বাকি ছিল শুধু সরকারি ভাবে ঘোষণা। বুধবার কয়লা মন্ত্রক নির্দেশিকা প্রকাশ করে জানিয়েছে ১৬টি ব্লক বাণিজ্যিক ভাবে খননের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির (কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের অধীন) মধ্যে বণ্টন করা হবে। ওই ব্লকগুলি থেকে কয়লা তুলে বিভিন্ন ছোট-মাঝারি শিল্প সংস্থাকে তারা বিক্রি করতে পারবে। আর কয়লা মন্ত্রকের এই ঘোষণায় দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে দেশের কয়লা শিল্পে কোল ইন্ডিয়ার যে-একচেটিয়া কারবার ছিল, তা আর থাকবে না।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ মার্চ ২০১৬ ০২:২০

অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে সিদ্ধান্তটা আগেই নেওয়া হয়েছিল, বাকি ছিল শুধু সরকারি ভাবে ঘোষণা। বুধবার কয়লা মন্ত্রক নির্দেশিকা প্রকাশ করে জানিয়েছে ১৬টি ব্লক বাণিজ্যিক ভাবে খননের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির (কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের অধীন) মধ্যে বণ্টন করা হবে। ওই ব্লকগুলি থেকে কয়লা তুলে বিভিন্ন ছোট-মাঝারি শিল্প সংস্থাকে তারা বিক্রি করতে পারবে। আর কয়লা মন্ত্রকের এই ঘোষণায় দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে দেশের কয়লা শিল্পে কোল ইন্ডিয়ার যে-একচেটিয়া কারবার ছিল, তা আর থাকবে না। যদিও বেসরকারি সংস্থাগুলির জন্য দেশের কয়লা শিল্পের দরজা খোলার যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সে ব্যাপারে কয়লা মন্ত্রক এখনই কোনও পদক্ষেপ করছে না। ফলে শিল্পমহল মনে করছে, কেন্দ্র কয়লা শিল্পে সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিলেও পুরোপুরি তা কার্যকর করতে পারছে না।

কেন্দ্রের কয়লা খনি (বিশেষ ব্যবস্থা) আইন-২০১৫ অনুযায়ী যে-১৬টি ব্লক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির মধ্যে বণ্টন করার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলি মধ্যপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, ছত্তীসগঢ়, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে। এ দিন দিল্লিতে কয়লা মন্ত্রক যে-নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, তাতে বলা হয়েছে ১৬টি ব্লকের মধ্যে ৮টি ব্লক দেওয়া হবে কয়লা খনি রয়েছে এমন রাজ্যগুলিকে। বাকি ব্লকগুলি সেই রাজ্যগুলি পাবে, যাদের কয়লা নেই।

সম্প্রতি কলকাতায় এসে কয়লা মন্ত্রকের সচিব অনিল স্বরূপ জানিয়েছিলেন, চলতি অর্থবর্ষের (২০১৫-’১৬) মধ্যেই বাণিজ্যিক ভাবে খননের জন্য বেশ কয়েকটি ব্লক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির জন্য বিলি করা হবে। কিন্তু বেসরকারি সংস্থাগুলিকে ব্লক দেওয়ার যে-সিদ্ধান্ত হয়েছিল, বিশেষ কিছু কারণে এখনই তা কার্যকর করা যাবে না। এ ব্যপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে কিছু দিন সময় লাগবে। বেসরকারিকরণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের এই পিছিয়ে যাওয়ার নীতিতে শিল্পমহল ক্ষুণ্ণ হলেও দেশের কয়লা সম্পদের উপর কোল ইন্ডিয়ার একচেটিয়া অধিকার থেকে কিছু ব্লক বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানিয়েছে। কয়লা মন্ত্রকের বক্তব্য, কিছু ব্লক অন্য সংস্থার হাতে গেলে কোল ইন্ডিয়ার কোনও ক্ষতি হবে না।

Advertisement

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি যে-সব ব্লক পাবে, সেখান থেকে কয়লা তুলে ছোট-মাঝারি সংস্থাগুলিকে তারা বিক্রি করতে পারবে। কয়লার দাম, বণ্টন সব ব্যাপারেই সংস্থাগুলি নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেবে। কয়লা মন্ত্রক বা কোল ইন্ডিয়া এ ব্যাপারে কোনও মাথা ঘামাবে না।

২০২০ সালের মধ্যে দেশের কয়লার উত্তোলনের পরিমাণ ১৫০ কোটি টনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। যার মধ্যে ১০০ কোটি টনের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে কোল ইন্ডিয়াকে। বাকি ৫০ কোটি টন অন্য সংস্থাগুলিকে দিয়ে উত্তোলনের চেষ্টা করা হবে। যে- কারণে কোল ইন্ডিয়ার বাইরে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে বাণিজ্যিক ভাবে খননের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা তাতে সিলমোহরও দেয়।2

কবুল ন্যাশনাল ইনশিওরেন্স-কর্তার

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy