‘চিকনি চামেলি’র মতো গান আর রেকর্ড করবেন না। কয়েক মাস আগে এক পডকাস্টে ঘোষণা করেছিলেন শ্রেয়া ঘোষাল। একসময় কথাকে তেমন গুরুত্ব না দিয়েই গান গাইতেন। তবে ক্রমশ সচেতন হয়েছেন তিনি। এমন গান, যার কথা মহিলাদের জন্য অসম্মানজনক, তা আর নতুন করে রেকর্ড করবেন না। জানিয়েছিলেন শ্রেয়া। এই পডকাস্টের কয়েক দিন পরে এক অনুষ্ঠানে ‘চিকনি চামেলি’ গানটি করেন শ্রেয়া। তার পরেই নানা রকমের কটাক্ষ ধেয়ে আসে তাঁর দিকে। শুরু হয় ট্রোলিং। মঞ্চে অনুষ্ঠান করতে গিয়ে ট্রোলিং-এর শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে অন্য শিল্পীদেরও। তাঁরা কী বলছেন?
‘চিকনি চামেলি’ গানের তালের সঙ্গে সেই অনুষ্ঠানে পা মিলিয়েছিলেন গায়িকা ও তাঁর সহশিল্পীরা। অনুষ্ঠানের সেই ভিডিয়ো ছড়িয়ে প়ড়তেই নিন্দকদের কেউ বলেন, “‘চিকনি চামলি’র মতো গান গাইবেন না বলার পরেও ফের অনুষ্ঠানে সেই গানই গাইছেন?” গানের সঙ্গে গায়িকাকে পা মেলাতে দেখে কেউ কেউ আবার কটাক্ষ করে বলেন, “সুনিধি চৌহানের মতো হওয়ার চেষ্টা করছেন!” এই সব কটাক্ষে অবশ্য কর্ণপাত করেননি শ্রেয়া।
গায়িকাদের ট্রোলড হওয়া নতুন বিষয় নয়। তবে শ্রেয়া ঘোষালও এমন ট্রোলিং-এর মুখে পড়তে পারেন, তা দেখে হতবাক লগ্নজিতা। তাঁর কথায়, “শ্রেয়া ঘোষাল ওই পডকাস্টে বলেছেন, তিনি আর ‘চিকনি চামেলি’র মতো গান রেকর্ড করবেন না। কিন্তু এই গানটি তো তিনি ইতিমধ্যেই গেয়ে ফেলেছেন এবং সেটি প্রবল জনপ্রিয়। তাই মঞ্চে এই গানটি তাঁকে গাইতেই হয়। তিনি শ্রেয়া ঘোষাল। তাঁর অনুষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় হয়। অনুরাগীদের থেকেই হয়তো ‘চিকনি চামেলি’ গানটি গাওয়ার অনুরোধ থাকে। ২৫ শতাংশ মানুষ হয়তো এই গানটি শুনতেই আসেন। তখন তিনি কি বলবেন, ‘আমি গাইব না’? এমন হয় নাকি?”
কোন শিল্পী কখন কী গান গাইবেন, সেই বিষয়ে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। মনে করেন পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আসলে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়। একটা সময়ে তিনি ‘চিকনি চামেলি’ গেয়েছিলেন, জনপ্রিয় হয়েছিল। এই বয়সে তাঁর অন্য এক উপলব্ধি হয়েছে। আর তিনি কী ধরনের গান গাইবেন না, এটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। সেখানে কারও হস্তক্ষেপ করার অধিকারই নেই। আর নিশ্চয়ই শ্রোতা-দর্শকের অনুরোধেই তিনি গানটি গেয়েছেন। তিনি শিল্পী। দর্শকের অনুরোধ তো রাখতেই হবে।”
অনুষ্ঠানে শ্রেয়ার নাচ ও পোশাক নিয়েও কটাক্ষ করেছেন কেউ কেউ। কটাক্ষকারীদের রুচি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন লগ্নজিতা। পৌষালী নিজের ট্রোলিং-এর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। পোশাকের জন্য তাঁকেও কটাক্ষ করা হয়েছে। তাই গায়িকার কথায়, “কিছু মানুষ আসলে ওত পেতে থাকে, কখন ট্রোল করব। ট্রোলিং বিষয়টা ক্যানসারের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। তবে এই সব ট্রোলিংয়ে শ্রেয়া ঘোষালের কিছু যায় আসে না। আমাকে শাড়ির আঁচল নিয়ে ট্রোল করা হয়েছিল। আসলে কিছু মানুষের স্বভাবই ট্রোল করা। এটা বদলানো যাবে না। ওদের উপেক্ষা করে শুধু নিজের গান গেয়ে যেতে হবে।”
আরও পড়ুন:
গত কয়েকটি অনুষ্ঠানে সুনিধি চৌহানের পোশাক নিয়েও একদল নিন্দক কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন। লগ্নজিতার এই বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য, “শ্রেয়া ঘোষাল, সুনিধি চৌহান, অরিজিৎ সিংহের মতো শিল্পীদের মাথায় অনেক কিছু চলে অনুষ্ঠানের সময়ে। আমাদেরই দেড় ঘণ্টার অনুষ্ঠানে এত কিছু মাথায় রাখতে হয়, তখন পোশাকআশাক এ সব মাথায় থাকে না। তাই শ্রেয়া, সুনিধি এঁদের পোশাক নিয়ে যাঁরা কথা বলছেন, তাঁদের রুচির ঠিক আছে তো?”
ট্রোলারদের গুরুত্ব দিতে নারাজ গায়িকা মধুবন্তী বাগচীও। সমাজে অন্য অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলির সমালোচনা করা প্রয়োজন বলে তাঁর মত। তাই মধুবন্তীর স্পষ্ট জবাব, “আমাদের সমাজে রোজ বহু খারাপ ঘটনা ঘটে চলেছে। সেগুলো নিয়ে ট্রোল করলে কিছু কাজ হতে পারে। শিল্পীরা কী করল, কী গাইল, কী পরল, এগুলি নিয়ে ট্রোল করে সাধারণ মানুষের কিছু পাওয়ার নেই সত্যিই। বরং রাজনীতিবিদেরা মিথ্যা বললে, চুরি করলে বা মানুষকে বোকা বানালে, সেগুলি নিয়ে প্রতিবাদ করলে কিছু লাভ হতে পারে।”
শ্রেয়াকে নিয়ে কটাক্ষের জবাব অবশ্য তাঁর অনুরাগীরাই সমাজমাধ্যমে দিয়েছেন। নিন্দকদের ট্রোলিংকে গুরুত্ব না দিয়ে প্রিয় শিল্পীর গানকে তাঁরা উদ্যাপন করে চলেছেন।