চলতি অর্থবর্ষেই ৫জি-সহ বিভিন্ন ব্যান্ডের স্পেকট্রামের নিলাম হওয়ার কথা। কিন্তু তার আগে তার প্রাস্তাবিত দাম নিয়ে আপত্তির কথা জানিয়েছে টেলিকম পরিষেবা সংস্থাগুলি। তবে সোমবার ইন্ডিয়ান মোবাইল কংগ্রেসের মঞ্চ থেকে টেলিকমমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের আশ্বাস, স্পেকট্রামের দরের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এর আগে ৪জি স্পেকট্রামের বিপুল দাম মেটাতে গিয়েই বিপুল ধারের বোঝা চেপেছে সংস্থাগুলির ঘাড়ে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ঠেকে শিখে এখন হয়তো কিছুটা সাবধানী হতে চাইছে সরকার।

প্রসাদ বলেন, ‘‘এই অর্থবর্ষেই নিলাম হবে। স্পেকট্রামের দর সংক্রান্ত বিষয়েও খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করছি।’’ মন্ত্রীর এ দিনের বক্তব্যে সংস্থাগুলির কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। 

৮,৬৪৪ মেগাহার্ৎজ স্পেকট্রামের নিলামের জন্য ট্রাই গত বছর মোট ৪.৯ লক্ষ কোটি টাকার ন্যূনতম দর ধরেছিল। কিন্তু বিপুল ধারের বোঝায় কার্যত বিধ্বস্ত টেলিকম শিল্পের দাবি, ওই দর অত্যন্ত চড়া। তাদের সাধ্যের বাইরে। প্রসঙ্গত, গত বারের নিলামে একই কারণে ৭০০ মেগাহার্ৎজ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম বিক্রি হয়নি। শিল্পের বক্তব্য, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, ব্রিটেন ও ইটালির মতো দেশে ৫জি ব্যান্ডের মেগাহার্ৎজ প্রতি গড় দাম প্রায় ৮৪ কোটি টাকা। কিন্তু ট্রাই তা ৪৯২ কোটি ধরেছে। ট্রাই চেয়ারম্যান আর এস শর্মা অবশ্য জানান, তাঁরা কেন্দ্রকে মতামত জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘ট্রেন স্টেশন ছেড়ে চলে গিয়েছে। এখন সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’’ 

তবে বিষয়টি নিয়ে সম্মেলনেই সরব হন আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর (ভোডাফোন আইডিয়া যাদের) চেয়ারম্যান কুমারমঙ্গলম বিড়লা, রিলায়্যান্স কর্তা মহেন্দ্র নাহাটা, এয়ারটেলের রাকেশ ভারতী মিত্তল। রাকেশের বক্তব্য, এই চড়া দর লগ্নির পথে কাঁটা। মহেন্দ্র বলেন, ৫জি স্পেকট্রামের দর খতিয়ে দেখার জরুরি। টেলি শিল্পে লগ্নির উপযুক্ত পরিবেশ গড়ার পক্ষে সওয়াল করেন বিড়লা। তবে মন্ত্রীর আশ্বাসে খুশি এই শিল্পের সংগঠন সিওএআইয়ের ডিজি রাজন ম্যাথুজ বলেন, ‘‘মন্ত্রী আমাদের আর্জি খতিয়ে দেখছেন, এটা ভাল। নিলামে অংশ নেওয়া যথাযথ কি না, তা ভেবে দেখবে সংস্থাগুলি।’’