E-Paper

বুকিংয়ের সমস্যা থেকে ইনভয়েস তৈরি না হওয়া, গ্যাসের সমস্যায় জেরবার আমজনতা

গ্যাসের ডিলারদের দাবি, কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে বুকিং-এর ১৩-১৫ দিন বাদে সিলিন্ডার মিলছে। কোথাও ২০-২১ দিন লাগছে। তবে খড়দহের বাসিন্দা রুমা গঙ্গোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, বুকিং-এর ২০ দিন পরেও বাড়িতে সিলিন্ডার পাননি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ০৭:৪৫
শুক্রবার শহরের পথে।

শুক্রবার শহরের পথে। —নিজস্ব চিত্র।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি-তে তৈরি হওয়া সঙ্কট যে বহাল, তা মোটের উপর স্পষ্ট। এত দিন পরেও বুকিং-এ ঝামেলা, সময়ে সিলিন্ডার না পাওয়া, ইনভয়েস তৈরি না হওয়া, ই-কেওয়াইসির সমস্যা-সহ একাধিক বিষয়ে জেরবার সাধারণ মানুষ। পশ্চিমবঙ্গ-সহ সারা দেশেরই একই ছবি। এ নিয়ে শুক্রবার মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানিয়েছেন, এই রাজ্যের সিলিন্ডার যাতে বাইরে না যায় তা নিশ্চিত করতে হবে। যদিও তেল সংস্থা সূত্রের খবর, সারা দেশের মোট সিলিন্ডারের চাহিদায় রাজ্যের ভাগ ১০.৫%। যার পুরোটা পশ্চিমবঙ্গে পাওয়া যায় না। অন্যান্য রাজ্য থেকেও আনতে হয়।

গ্যাসের ডিলারদের দাবি, কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে বুকিং-এর ১৩-১৫ দিন বাদে সিলিন্ডার মিলছে। কোথাও ২০-২১ দিন লাগছে। তবে খড়দহের বাসিন্দা রুমা গঙ্গোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, বুকিং-এর ২০ দিন পরেও বাড়িতে সিলিন্ডার পাননি। শেষ পর্যন্ত যিনি ডেলিভারি দেন, তাঁকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে নিতে হয়েছে। বন্দনা সাহা আবার ১০ মার্চ নাগাদ মিসড কল বা ফোনে বুকিং করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ওয়টস্যাপে করেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা বয়স্ক মানুষ। ফোন করে বা মিসড কলে বুকিং করা অনেক সহজ। এত প্রযুক্তি বুঝি না। এটা নতুন অশান্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’

শুক্রবার এইচপি গ্যাস বুকিং করতে সমস্যায় পড়েছেন সল্টলেকের এক বাসিন্দাও। তিনি কাজ সেরেছেন অ্যাপের মাধ্যমে। এখন অপেক্ষা সিলিন্ডার আসার। কোন্নগরের এক বৃদ্ধা দম্পতি দিন দশেক আগে বুকিং করেও এখনও সিলিন্ডার পাননি। যদিও গ্যাস সংস্থাগুলির দাবি, দেশে এলপিজির জোগান যথেষ্ট। বিশেষত গৃহস্থালির ক্ষেত্রে সমস্যা নেই।

ইন্ডিয়ান অয়েলের এক শীর্ষকর্তার দাবি, গড়ে বুকিং-এর ৫-৬ দিনের মধ্যে সিলিন্ডার পৌঁছে যাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে দেরি হলেও, তা বিরাট কিছু নয়। যদিও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ২৫ দিনের সীমা বেঁধে দেওয়ায় গ্রাহকেরা ৩২-৩৫ দিনের আগে সিলিন্ডার হাতে পাচ্ছেন না।বড় পরিবারে সিলিন্ডার ৩০ দিনের কম চলে, তাঁদের সমস্যা হচ্ছে আরও বেশি। ইন্ডেন এলপিজি ডিলারদের সংগঠনের শীর্ষকর্তা বিজন বিশ্বাস জানাচ্ছেন, ‘‘বুকিং-এর পরে সিলিন্ডার যেতে কমপক্ষে ১২-১৩ দিন লাগছে। কোথাও ১৫ দিনও হয়ে যাচ্ছে।’’ তাঁর দাবি, কয়েকদিন ধরেই ডিলাররা প্রয়োজনের ৭০% সিলিন্ডার পাচ্ছেন। কিন্তু গৃহস্থের চাহিদা কমেনি, বরং বেড়েছে। অঙ্কের হিসাবেই তাই অপেক্ষার সময় বেড়ে যাচ্ছে।’’ তাঁর বক্তব্য, জোগান ঠিক না হলে সমস্যা চলবেই।

উল্লেখ্য, শুক্রবার তেল সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের খাদ্য দফতরের সচিব পারভেজ় সিদ্দিকি। সেখানে পশ্চিমবঙ্গে গ্যাস ও তেলের মজুত নিয়ে কথা হয়। বৈঠকে সকলেই জানিয়েছেন, অন্য রাজ্যের তুলনায় বাংলায় সমস্যা অনেকটাই কম। ক্রেতারাও ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছেন। তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

LPG Crisis West Asia

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy