E-Paper

চাপ বাড়ছে অর্থনীতির, চিন্তা বাড়িয়ে আরও চড়ল খুচরো বাজারের মূল্যবৃদ্ধি

সরকারি পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, গত মাসে দাম বেড়েছে রুপোর গয়না (১৪৪.৩৪%), শুকনো নারকেল (৪৪.৫৫%), সোনা-হিরে-প্ল্যাটিনামের গয়না (৪০.৭২%), টোম্যাটো (৩৫.২৮%) এবং ফুলকপির (২৫.৫৮%)।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ০৭:৩৪

— প্রতীকী চিত্র।

খরচে রাশ টানা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তার মধ্যেই চিন্তা বাড়াল দেশে মূল্যবৃদ্ধির হার। মঙ্গলবার খোদ সরকারি পরিসংখ্যান জানাল, এপ্রিলে খুচরো মূল্যবৃদ্ধি পৌঁছে গিয়েছে ৩.৪৮ শতাংশে। মার্চে যা ছিল ৩.৪%। আর ফেব্রুয়ারিতে ৩.২১%। সোনা-রুপোর গয়নার মতো পণ্যের দাম বৃদ্ধি খুচরো বাজারে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। পাশাপাশি, মার্চের ৩.৮৭ শতাংশের তুলনায় অনেকটা মাথা তুলে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি গত মাসে দাঁড়িয়েছে ৪.২%। সেটাও ইন্ধন জুগিয়েছে খুচরো মূল্যবৃদ্ধিতে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আমেরিকা-ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে আগামী দিনে তেল-গ্যাস দাম আরও চড়লে মূল্যবৃদ্ধি কোথায় পৌঁছবে, সেটাই চিন্তার। এখনও পর্যন্ত এই হার রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের লক্ষ্যমাত্রার (২%-৬%) মধ্যে থাকলেও পরিস্থিতি যা, তাতে আগামী দিনে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।

মাস খানেক আগে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের দাবি ছিল, ‘‘ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত ভারতের বাস্কেটের দাম ব্যারেলে ৬৯.০১ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৮০.১৬ ডলার। কিন্তু দেশে মূল্যবৃদ্ধি রয়েছে নিম্নসীমার কাছাকাছি। এই মুহূর্তে তাই তাতে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।’’ ফেব্রুয়ারির শেষ থেকেই শুরু হয়েছে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ। কিন্তু তার পরে মার্চ ও এপ্রিলে মাথা তুলেছে মূল্যবৃদ্ধির হার। তা যুঝতে ইতিমধ্যেই গত মাসের ঋণনীতিতে সুদের হার স্থির রেখেছে আরবিআই। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ সালের জন্য ৪.৬% মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস করেছে তারা। জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং এল নিনোর প্রভাবে কৃষি ফলন ধাক্কা খেলে তা বৃদ্ধির আশঙ্কাও থাকছে।

সরকারি পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, গত মাসে দাম বেড়েছে রুপোর গয়না (১৪৪.৩৪%), শুকনো নারকেল (৪৪.৫৫%), সোনা-হিরে-প্ল্যাটিনামের গয়না (৪০.৭২%), টোম্যাটো (৩৫.২৮%) এবং ফুলকপির (২৫.৫৮%)। কমেছে আলু, পেঁয়াজ, মটর, গাড়ি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের। শহর ও গ্রামে মূল্যবৃদ্ধি যথাক্রমে ৩.১৬% এবং ৩.৭৪%। তবে খাদ্য ও জ্বালানি বাদে মূল্যবৃদ্ধির হার (কোর ইনফ্লেশন) রয়েছে ৩.৪ শতাংশে। দামি ধাতু বাদ দিলে তা আরও কম, ২%।

অর্থনীতিবিদ অজিতাভ রায় চৌধুরীর মতে, এপ্রিলে দাম বাড়ার মূল কারণ আনাজের দর বৃদ্ধি, যার মধ্যে টোম্যাটো অন্যতম। সাধারণ গ্রীষ্মে এটা স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এর সঙ্গেই পণ্য পরিবহণের খরচ মাথা তোলা ও বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধির কারণে রেস্তরাঁয় খাবার মহার্ঘ হওয়ার প্রভাব পড়েছে মূল্যবৃদ্ধির হারে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

market price Retail Price Inflation rate Inflation

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy