E-Paper

পরিষেবা ‘স্তব্ধ’, সিপি-র সহযোগিতা চাইলেন পানিহাটির পুরপ্রধান

রাজ্যে পরিবর্তনের পরে বিভিন্ন জায়গার মতো পানিহাটিতেও তৃণমূলের একাধিক কার্যালয় ভাঙচুর ও দখলের অভিযোগ উঠেছে। যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশমতো বিভিন্ন জায়গায় দলীয় কার্যালয় ফিরিয়েও দেওয়া হচ্ছে তৃণমূলকে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ০৮:২৬
পানিহাটি পুরসভা।

পানিহাটি পুরসভা। —ফাইল চিত্র।

জোর করে ঢুকে হুমকি দিয়ে পুরসভা কার্যত অচল করে রাখা হয়েছে। অবিলম্বে পুর পরিষেবার কাজ স্বাভাবিক করার জন্য পুলিশ কমিশনারের কাছে সহযোগিতা চাইলেন পানিহাটির পুরপ্রধান। তবে, বহিরাগতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলেও তারা কারা, তা চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়নি। যদিও পরোক্ষ ভাবে অভিযোগ রাজ্যের শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধেই।

রাজ্যে পরিবর্তনের পরে বিভিন্ন জায়গার মতো পানিহাটিতেও তৃণমূলের একাধিক কার্যালয় ভাঙচুর ও দখলের অভিযোগ উঠেছে। যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশমতো বিভিন্ন জায়গায় দলীয় কার্যালয় ফিরিয়েও দেওয়া হচ্ছে তৃণমূলকে। পুরসভা, পঞ্চায়েতে স্বাভাবিক কাজকর্ম চালু রাখার জন্য নবনির্বাচিত বিধায়কেরা সেখানে যাচ্ছেন। কিন্তু কিছুটা হলেও ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা যাচ্ছে পানিহাটিতে। সেখানকার নবনির্বাচিত বিধায়ক, আর জি করের নির্যাতিতার মাকে এখনও সেই পথে হাঁটতে দেখা যায়নি বলেই অভিযোগ।

ভোটের ফল ঘোষণার পরের দিন, অর্থাৎ ৫ মে থেকেই পুরসভায় যাওয়া বন্ধ পুরপ্রধান, উপ-পুরপ্রধান থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান পারিষদ এবং কর্মীদের একাংশের। ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার এবং মহকুমা শাসককে লেখা চিঠিতে পুরপ্রধান সোমনাথ দে অভিযোগ করেছেন, পানীয় জল সরবরাহ, জঞ্জাল অপসারণ, রাস্তার আলোর রক্ষণাবেক্ষণ, নিকাশি সংস্কারের মতো জরুরি পরিষেবা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। একই সঙ্গে, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বঙ্কিমপল্লিতে পুরসভার কমিউনিটি হলের মধ্যেই পুরপ্রতিনিধির কার্যালয় ছিল। সেটিও দখল হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। উল্লেখ্য, ওই ওয়ার্ডটি খোদ পুরপ্রধানের।

সোমনাথ বলেন, ‘‘৩৫টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ জায়গায় পুরপ্রতিনিধিদের কার্যালয় বন্ধ। এতে নাগরিক পরিষেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে।’’ তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, এখনও বহু জায়গায় দলীয় কার্যালয় খোলা যাচ্ছে না। বিভিন্ন নেতা, কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

নবনির্বাচিত বিধায়ক বলেন, ‘‘পুলিশের শীর্ষ কর্তা থেকে স্থানীয় থানাকে বলেছি, কারও কোনওসমস্যা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে। কোনও দলীয় কার্যালয় বন্ধ করে রাখা হয়নি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘কমিউনিটি হল কোনও দলেরই দখলে থাকবে না। সেটি যে কারণে তৈরি, শুধু সেই উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হবে। পুর পরিষেবার কাজ স্বাভাবিক করার বিষয়টি দেখছি।’’

অন্য দিকে, কামারহাটিতে তৃণমূল জয়ী হলেও সেখানেও নাগরিক পরিষেবা অমিল বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার পুরসভায় গিয়ে পুরপ্রধান গোপাল সাহার সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন,‘‘সরকার সব রকমের সহযোগিতা করবে। অবিলম্বে পরিষেবা সচল করতে বলেছি। তবে পুরসভায় সব দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করবে সরকার।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Panihati municipality Panihati

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy