শুরু হয়েছে নতুন অর্থবর্ষ। এক মাসের বেশি পেরোলেও ইরান যুদ্ধ থামেনি। বরং সংঘর্ষ দীর্ঘ হওয়ায় যন্ত্রণা বৃদ্ধির আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে। কেন্দ্র এবং সাধারণ মানুষ নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই আবহে অর্থনীতি কেমন আছে দেখব।
মার্চে জিএসটি আদায় ৮.৮% বেড়েছে। যা যুদ্ধের প্রতিকূল হাওয়াতেও ব্যবসা-বাণিজ্যে তেমন ভাটা না পড়ার ইঙ্গিত। তবে শিল্পে উৎপাদনের সূচক পিএমআই ৫৩.৯ হয়ে চার বছরে সর্বনিম্ন। এটি ৫০-এর বেশি থাকা মানে বৃদ্ধি। পাইকারি যাত্রিবাহী গাড়ির বিক্রি ১৬% বেড়ে পৌঁছেছে ৪,৪৭,৭০২-এ।
শেয়ার বাজারে বড় মাপের উত্থান-পতন বহাল। আগের সাতটি কাজের দিনের মধ্যে তিন দিন সেনসেক্স ১৫০০-র বেশি পড়েছে। তিন দিন ১১৮৭ বা তার বেশি উঠেছে। দাঁড়িয়েছে ৭৩,৩২০-তে। এত অস্থির বাজারে লগ্নিকারীরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। পড়ছে বন্ডের দামও। ফলে বাড়ছে ইল্ড। গত বৃহস্পতিবার ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ড ইল্ড ছুঁয়েছে ৭.১২%। ইল্ড বাড়লে সুদ বাবদ সরকারের খরচ বাড়ে। রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক পদক্ষেপ করায় সপ্তাহ শেষে ডলার ১.৫২ টাকা নেমে হয় ৯৩.১৮ টাকা। ২০১৩-র পরে এটাই টাকার দৈনিক সর্বাধিক উত্থান। যুদ্ধের আবহে তেল, গ্যাস-সহ অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। এমনিতেই ফেব্রুয়ারিতে মূল্যবৃদ্ধির হার হয়েছিল ৩.২%, যা জানুয়ারিতে ছিল ২.৭৫%। আশঙ্কা, মার্চে পৌঁছতে পারে ৩.৮ শতাংশের কাছে। তা লক্ষ্যের মধ্যে হলেও, এ ভাবে দাম বৃদ্ধি ভাবাবে আরবিআই-কে।
এপ্রিল-জুনে স্বল্প-সঞ্চয়ে সুদ অপরিবর্তিত রেখেছে কেন্দ্র। এর আগে সর্বত্র সুদ কমার সময় তা কমানো হয়নি। আর এখন তো প্রশ্নই ওঠে না। বিশেষত সামনে যখন পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন। এনএসসি-তে সুদ (৭.৭%) না কমায় সুদ (৮.০৫%) একই থাকবে সরকারি পরিবর্তনশীল সুদযুক্ত বন্ডেও। একই সুদ (৮.২%) প্রবীণদের প্রকল্প এবং মাসিক আয় প্রকল্পে (৭.৪%)। এপ্রিলে যাঁরা অবসর নেবেন, তাঁদের জন্যে সুখবর। বন্ড ইল্ড বাড়তে থাকায় অনেকে বন্ড, বন্ড ফান্ড অথবা ব্যালান্সড ফান্ডে লগ্নির কথা ভাবতে পারেন।
এপ্রিল থেকে চালু হয়েছে নতুন আয়কর আইন। প্রকাশিত হয়েছে তার কিছু নিয়ম এবং ফর্ম। উৎসে যাতে কর না কাটা হয়, তার জন্যে আগে ১৫জি এবং ১৫এইচ ফর্ম ভরতে হত। এখন লাগবে একটিই ফর্ম (ফর্ম ১২১) যা নবীন এবং প্রবীণ, উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। গত অর্থবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলে প্রথমেই সংগ্রহ করতে হবে ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট এবং বিভিন্ন সূত্রে আয় এবং লগ্নি সংক্রান্ত তথ্য। মোট আয়ের ভিত্তিতে দেখে নিতে হবে উপযুক্ত কর কেটে নেওয়া বা জমা হয়েছে কিনা। অচিরেই শুরু হবে সংস্থাগুলির জানুয়ারি-মার্চ এবং বছরের (২০২৫-২৬) আর্থিক ফল প্রকাশ। তখন বোঝা যাবে তাদের উপর যুদ্ধের প্রভাব। প্রতিকূল হাওয়া ছিল মার্চ জুড়েই, যা এখনও বহাল।
সময় ভাল যাচ্ছে না শেয়ার এবং শেয়ার নির্ভর ফান্ডে লগ্নিকারীদের। পুরনোদের যুদ্ধ থামার অপেক্ষা ছাড়া পথ নেই। অনেকে বাজার একটু উঠলেই বিক্রি করে অল্পবিস্তর লাভ ঘরে তুলছেন বা ক্ষতি কমাচ্ছেন। এখন বেশি ডিভিডেন্ড দেয় এমন সংস্থা বা ডিভিডেন্ড ইল্ড ফান্ডে লগ্নির কথা ভাবা যায়। চালিয়ে যাওয়া যায় এসআইপি। মোটা টাকা লগ্নি করার থাকলে তা একলপ্তে না ঢেলে, প্রতিটি বড় পতনে কিস্তিতে করা ভাল। পড়তি বাজার পুঁজি বাড়ানোর বড় সুযোগ।
(মতামত ব্যক্তিগত)
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)