বিশ্ব জুড়ে তেলের জোগান সঙ্কটের জেরে তার দাম মাথা তোলায় রাশিয়ার তেল কেনার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িক ভাবে তুলে নিয়েছিল আমেরিকা। ভারতের মতো তেল আমদানিকারীর তাতে সুবিধা হয়। সেই ছাড়ের মেয়াদ সম্প্রতি ফুরিয়েছে। তবে সোমবার মোদী সরকারের বার্তা, দেশের চাহিদা পূরণের তাগিদে আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা তোলার আগে থেকেই ভারত রুশ তেল কিনছে। ফলে নিষেধাজ্ঞায় ছাড় উঠল কি না, তাতে কিছু যায় আসে না।
যদিও আমেরিকার কাছে মোদী সরকার ছাড় বাড়ানোর দাবি জানালেও, উত্তর আসেনি বলে দাবি করে এক্স-এ কটাক্ষ ছুড়েছেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। তাঁর প্রশ্ন, দেশবাসীকে কি তা হলে আরও এক দফা তেলের দাম বৃদ্ধির জন্য প্রস্তুত হতে হবে? কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সরকারের দূরদর্শিতার অভাবেই চড়ছে জিনিসপত্রের দাম।
আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা ফের চালু হওয়ায় ভারত আর রাশিয়ার তেল কিনবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে এ দিন পেট্রলিয়াম সচিব সুজাতা শর্মা বলেন, ‘‘আমেরিকা নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেওয়ার আগে সেখান থেকে তেল কিনেছি। ছাড়ের সময়েও আমদানি করা হয়েছে। এখনও হচ্ছে। ...তেল কেনার সময়ে তার বাণিজ্যিক কারণটারই বেশি গুরুত্ব পাওয়ার কথা।’’ দেশে তেলের ঘাটতি নেই বলেও ফের দাবি করেন তিনি। জানান, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করে রেখেছে সরকার।
এ দিকে, দেশে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম লিটার পিছু গড়ে ৩ টাকা করে বৃদ্ধির পরে রাষ্ট্রায়ত্ত তেলসংস্থাগুলির লোকসান মাত্র ২৫% কমেছে, দাবি কেন্দ্রের পরিসংখ্যানে। শর্মা জানিয়েছেন, এখনও দৈনিক ক্ষতি ৭৫০ কোটি টাকা। এতদিন যা ছিল ১০০০ কোটি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)