• সংবাদ সংস্থা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

আইফোন অর্ডার করে পেয়েছিলেন সাবান, কত টাকা ক্ষতিপূরণ মিলল জানেন?

Snapdeal Fraud Case
ফোনের বদলে পেলেন সাবান! ক্ষতিপূরণ দেবে তিনটি সংস্থা। ছবি: শৌভিক দেবনাথ

বর্তমান সময়ে কোনও জিনিস কেনার জন্য দোকানে যাওয়ার সময় নেই যাঁদের, তাঁদের ভরসা অনলাইন শপিং সাইট গুলিই। তবে অনলাইনে কেনাকাটা করতে গিয়ে বহু মানুষ ঠকেছেনও অনেকবার। এমনই এক ঘটনা ঘটেছিল পঞ্জাবের মোহালির বাসিন্দা এক ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে। তিনি ‘স্ন্যাপডিল’-এ একটি অ্যাপলের আইফোন ৭ প্লাস অর্ডার করেছিলেন। বাক্স খুলে তাঁর চোখ কপালে ওঠে, দেখেন ফোনের বদলে দেওয়া হয়েছে ৫টি বাসন মাজার সাবান!

অনলাইন বিক্রয় সংস্থাটির সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনও সুরাহা না মেলায় তিনি বাধ্য হয়ে ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরে যান। দু’বছর অপেক্ষার পর মিলল রায়। অনলাইন সংস্থা, কুরিয়ার সার্ভিস সংস্থা ও ‘থার্ড পার্টি’ মোবাইল বিক্রেতাকে মোট এক লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিলেন ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তর।

পারভিন কুমার শর্মা নামক ওই ইঞ্জিনিয়ার ২০১৭ সালের ৪ মার্চ স্ন্যাপডিলে একটি আইফোন ৭ প্লাস অর্ডার করেন। অনলাইন সংস্থাটির তরফ থেকে জানানো হয় ১২ মার্চের মধ্যে তিনি পেয়ে যাবেন ফোনটি। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো, অনলাইন সংস্থা স্ন্যাপডিল নিজে আইফোন বিক্রি করে না, ‘পিয়স ফ্যাশন’ নামে এক বিক্রেতা ওই অনলাইন সাইটের মাধ্যমে নিজের পণ্য বিক্রি করছিল। ৬ তারিখ ‘ব্লু ডার্ট’ কুরিয়ার সংস্থার মাধ্যমে পারভিনের বাড়িতে ওই ফোন ডেলিভার করা হয়। পারভিন অফিসের তরফ থেকে দেওয়া বাড়িতেই থাকেন, তাই সকালে ডেলিভারির সময় পারভিন বাড়িতে না থাকায় তাঁর বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী ওই প্যাকেটি রাখেন।

আরও পড়ুন‘এক হাজার জিবি ফ্রি ইন্টারনেট দিচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ’, ভুলেও এই ফাঁদে পা দেবেন না

পারভিন অফিস থেকে ফিরে ওই ‘সিলড প্যাকেট’ খুলে দেখেন বাক্সে কোনও ফোন নেই, তার বদলে রয়েছে ৫টি বাসন মাজার সাবান। তিনি স্ন্যাপডিলের হেল্পলাইনে ফোন করে সমস্ত ঘটনা জানানোর পর ১৩ মার্চ ব্লু ডার্টের তরফ থেকে দু’জন এসে বাক্সটি পরীক্ষা করে নিয়ে যান এবং জানান যে, ডেলিভারি বয়ের কোনও ভূমিকা নেই এই বিষয়ে, কারণ প্যাকেটটি ‘সিল’ করা অবস্থাতেই এসেছিল তাঁর বাড়ির ঠিকানায়।

ওই ইঞ্জিনিয়ার এরপর স্ন্যাপডিলে তিনি দু’টি মেইল করেন কিন্তু কোনও উত্তর মেলেনি, তাঁর স্ন্যাপডিল অ্যাকাউন্টটিও ডিলিট করে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। এই ঘটনার পরই তিনি ১৯ মার্চ মোহালির ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরে অভিযোগ জানান। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্ন্যাপডিলের তরফ থেকে জানানো হয়, ‘স্ন্যাস্পডিল স্বাধীন থার্ড পার্টি বিক্রেতা ও গ্রাহকের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে মাত্র। এটি স্ন্যাপডিলের নিজস্ব কোনও পণ্য নয়, তাই পণ্যের গ্যারান্টি স্ন্যাপডিলের নয়।’

স্ন্যাপডিল নিজেদের অবস্থান জানালেও ব্লু ডার্ট ও পিয়স ফ্যাশনের তরফ থেকে কোনও উত্তর দেওয়া হয়নি। ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে সোমবার জানানো হয়, ভুয়ো পণ্য বিক্রিতে স্ন্যাপডিলের কোনও হাত না থাকলেও যেহেতু পণ্য টি তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই অর্ডার করা হয়েছিল, তাই তাদের ভূমিকাও আছে এই ঘটনায়। বিলেও ফোনের কোনও আইএমইআই নম্বরের কোনও উল্লেখ ছিল না, যা ফোনটি না পাওয়ার যুক্তির সপক্ষেই প্রমাণ দেয়। পিয়স ফ্যাশন ও ব্লু ডার্টকে ফোনের দাম ৮১,৭৯৯ টাকা দিতে বলা হয়। এর সঙ্গে ৮ শতাংশ হারে সুদও দিতে হবে ২০১৭ সাল থেকে  টাকা প্রদানের দিন অবধি। এ ছাড়াও ১০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং ১০,০০০ টাকা মামলার খরচ হিসাবে দিতে বলা হয়েছে এই তিনটি সংস্থাকে।   

আরও পড়ুন: জিএসটির গলদে আঙুল সিএজি-র

 

        

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন