শুধু বিনিয়োগ প্রস্তাবের অঙ্ক নয়। পঞ্চম বিশ্ব বঙ্গ শিল্প সম্মেলনের মঞ্চ থেকে সেই লগ্নির হাত ধরে হওয়া কর্মসংস্থানের উপরেও একই রকম জোর দিল রাজ্য। সঙ্গে বার্তা রইল, নিছক প্রচার পেতে শুধু আকাশছোঁয়া লগ্নি প্রস্তাব ঘোষণার বদলে বরং তা রূপায়ণে তারা বেশি আগ্রহী।

নতুন আসা বিনিয়োগে কাজের সুযোগ তৈরির কথা এর আগেও শিল্প সম্মেলনে বলেছে রাজ্য। কিন্তু এ বার ভোট-বছরে খোদ মুখ্যমন্ত্রী যে ভাবে বার বার তার উপরে জোর দিলেন, অনেকের মতে তা তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, যথেষ্ট সংখ্যায় কাজের সুযোগ তৈরি হওয়া-না-হওয়া এ বার লোকসভা ভোটে অন্যতম বিতর্কের বিন্দু। এক দিকে বছরে দু’কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসার পরেও কর্মসংস্থান তার ধারেকাছে পৌঁছয়নি বলে নিয়মিত নরেন্দ্র মোদীকে বিঁধছেন বিরোধীরা। অন্য দিকে মোদীর দাবি, কাজ হয়েছে যথেষ্ট। এই অবস্থায় এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ টানার মূল লক্ষ্যই কাজের সুযোগ তৈরি। নতুন লগ্নির দৌলতে রাজ্যে ৮-১০ লক্ষ কাজের সুযোগ তৈরি হবে বলেও তাঁর দাবি।

শুক্রবার ফের বাংলাকে লগ্নির পছন্দের গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে চেষ্টা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রসঙ্গে টেনেছেন বন্‌ধ বন্ধ, দক্ষ মেধাসম্পদের কথা। বোঝাতে চেয়েছেন, জমি পেতে সমস্যা হবে না এখানে। কিন্তু কাজের সুযোগ তৈরির জন্যই যে তিনি লগ্নি টানতে এত আগ্রহী, তা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট। যে কারণে বানতলায় চর্ম শিল্পে  আরও ২ লক্ষ কাজের সুযোগ তৈরির কথা বলেছেন। দাবি করেছেন, নোটবন্দির পরে দেশে ২ কোটি মানুষ কাজ হারালেও রাজ্যে বেকারত্ব কমেছে ৪০%।  এ প্রসঙ্গে রাজ্যে বিপুল বিনিয়োগ এসেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘অদূর ভবিষ্যতে বাংলাকে অনুসরণ করবে সারা দেশ।’’

আর লগ্নি প্রস্তাব রূপায়ণের বিষয়ে গুজরাতের নাম না করেও শিল্প ও অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রের কটাক্ষ, একটি রাজ্য, যেখানে এক জন বিরাট মাপের মানুষ থাকেন, সেখানে ওই হার মেরেকেটে ১.৪৭%।