থ্রিজি, ফোরজি ডেটার দাম নির্ধারণ নিয়ে যখন ব্যস্ত ছিল দেশের অন্য টেলিকম সংস্থাগুলি, সেইসময় সকলকে চমকে দিয়ে বিনামূল্যে দেশবাসীর হাতে আনলিমিটেড ইন্টারনেট পরিষেবা তুলে দিয়েছিলেন মুকেশ অম্বানী। তার তিন বছর পার হওয়ার আগেই ফের নয়া ঘোষণা করলেন রিলায়্যান্স কর্ণধার। তিনি জানালেন, ফাইবার অপটিক্স কেবলের মাধ্যমে এ বার ঘরে ঘরে উচ্চ গতি সম্পন্ন ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে যাবে। তাতে মিলবে আনলিমিডেট ডেটা। তাও আবার সাধ্যের মধ্যেই।

মুকেশ অম্বানীর এই ঘোষণা ইতিমধ্যেই সাড়া জাগিয়েছে। কিন্তু সাধারণ  ইন্টারনেট পরিষেবা এবং গিগা ফাইবার পরিষেবার মধ্যে কতটা ফারাক, জেনে নিন এক নজরে।

গিগা ফাইবার আসলে কী?

গিগা শব্দের অর্থ হল গতি। নমনীয় ফাইবারের কেবলের মধ্য দিয়ে দ্রুত গতিতে তথ্য আদান প্রদান করাকেই গিগা ফাইবার পরিষেবা বলা হয়।

এই ফাইবারের কেবল সাধারণ বৈদ্যুতিক কেবলের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। এর ভিতরের চুলের মতো সূক্ষ্ম আরও অসংখ্য তার থাকে।

সাধারণ বৈদ্যুতিক কেবলের ইন্টারনেট পরিষেবার গতি ১০ এমবিপিএস-১০০ এমবিপিএস-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

কিন্তু গিগা ফাইবার কেবলে ইন্টারনেট পরিষেবার সর্বনিম্ন গতি ৫০ এমবিপিএস। আর সর্বোচ্চ গতি ১০ হাজার এমবিপিএস অর্থাৎ ১০জিবিপিএস।

গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ।

আরও পড়ুন: আসছে গিগা ফাইবার, ১০০ এমবিপিএস ইন্টারনেট স্পিড, আজীবন ফ্রি কল... ফের চমক মুকেশ অম্বানীর​

সাধারণ ইন্টারনেট পরিষেবার চেয়ে কতটা আলাদা জিয়ো গিগা ফাইবার?

এলাকার টাওয়ারের মাধ্যমে গ্রাহকদের ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দেয় সাধারণ টেলিকম সংস্থাগুলি। এ ক্ষেত্রে ওই একটিমাত্র টাওয়ারের মাধ্যমে ইন্টারনেট পরিষেবা পান হাজার হাজার মানুষ। এত সংখ্যক মানুষ একটি মাত্র টাওয়ার ব্যবহার করায় ইন্টারনেটের গতি অনেকটাই কম হয়।

কিন্তু গিগা ফাইবার পরিষেবার ক্ষেত্রে সেই সমস্যা নেই। কারণ টাওয়ারের বদলে ইন্টারনেট সার্ভার অফিস থেকে ফাইবারের তারের মাধ্যমে সরাসরি গ্রাহকের বাড়ি বা দফতরে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হয়। তাই বাইরের কারও তাতে ভাগ বসানোর সুযোগ থাকে না। সেই জন্যই এই পদ্ধতিকে ‘ফাইবার টু দ্য হোম’ও বলা হয়।

‘ফাইবার টু দ্য হোম’ পদ্ধতিতে প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার গতিতে তথ্য আদান প্রদান করা হয়। ফাইবার অপটিক্স কেবল ওয়াটার প্রুফ। খুঁটির বদলে মাটির নীচ দিয়ে ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হয়। তাই ঝড়-বৃষ্টির সময়ও সার্ভার ডাউন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

সাধারণ কেবলের মাধ্যমে যে ইন্টারনেট পরিষেবা পাওয়া যায়, তাতে ১ জিবি ফাইল ডাউনলোড করতে সময় লাগে প্রায় ১৭ মিনিট। গিগা ফাইবার  ইন্টারনেট পরিষেবায় ১ জিবি ফাইল ডাউনলোড করতে সময় লাগে মাত্র  ৮৫ সেকেন্ড।

আরও পড়ুন: ইদের নামাজ মিটতেই থমথমে কাশ্মীর, বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভের কথা মানল কেন্দ্র​

কী ভাবে পাবেন গিগা ফাইবার পরিষেবা?

প্রথম তিন মাস বিনামূল্যে পরিষেবা দেবে রিলায়্যান্স জিও। সে ক্ষেত্রে ১০০ এমবিপিএস গতিতে ১০০ জিবি ডেটা পাবেন গ্রাহক। ১০০ জিবি পেরিয়ে গেলে গতি কমে দাঁড়াবে ১ এমবিপিএস।

তবে বিনামূল্যে পরিষেবা পেলেও,  মডেম সমেত ওয়ান টাইম ইনস্টলেশন সিকিয়োরিটি ডিপোজিট বাবদ সাড়ে ৪ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। পরে পরিষেবা বন্ধ করতে চাইলে, সমস্ত সরঞ্জাম ঠিকঠাক অবস্থায় ফেরত দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে ডিপোজিটের পুরো টাকাটাই ফেরত পাওয়া যাবে।

তবে এখনও পর্যন্ত জিয়ো গিগা ফাইবার পরিষেবা চালু হয়নি। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সেটি চালু করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুকেশ অম্বানী। এই পরিষেবা পেতে jio.com বা জিও অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন জানাতে হবে। একই এলাকা থেকে অনেকে আবেদন জমা দিলে সেখানে দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।

কত খরচ পড়বে?

গিগা ফাইবার পরিষেবার আওতায় ল্যান্ডলাইন থেকে দেশের যে কোনও জায়গায় বিনামূল্যে ফোন করা যাবে। ১০০ এমবিপিএস থেকে ১ জিবিপিএস গতিতে মিলবে ইন্টারনেট পরিষেবা। সেই সঙ্গে পাওয়া যাবে এইচডি ডিশও। এই প্যাকেজের শুরু ৭০০ টাকা থেকে। সর্বোচ্চ মূল্য ১০ হাজার টাকা।